নারীর আপত্তিকর ছবি মুছে ফেলতে মেটাকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১ নারীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় হস্তক্ষেপ করেছেন দিল্লি হাইকোর্ট। ওই নারীর সব আপত্তিকর ছবি ও লিংক ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলতে মেটাকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি ভুক্তভোগী নারীকে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত জুলাইয়ে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির আন্দোলনের সময় ওই নারীর ছবি বিকৃত করা হয়।

তাঁর ছবির ওপর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ছবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জুড়ে দেওয়া হয়। পরে বিকৃত ছবিটি বড় বড় ব্যানার ও পোস্টারে ব্যবহার করা হয়। ওই ছবি সংবলিত একটি ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনের সময় অশালীন স্লোগান দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া এসব ডিপফেক ছবির কারণে ওই নারী প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছিলেন এবং তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছিল বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লি সাইবার পুলিশ স্টেশনে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী। পুলিশ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এফআইআর নিলেও সিজেপির মূল পরিকল্পনাকারী নেতাদের নাম সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আপত্তিকর ছবি ও লিংক সরাতেও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এরপর দ্রুত বিচারিক হস্তক্ষেপ ও আইনি সুরক্ষা চেয়ে শুক্রবার দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন ওই নারী। তাঁর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও রত্না সিংকে নোটিশ দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে মেটাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই নারীসংক্রান্ত সব আপত্তিকর ছবি ও লিংক সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশকেও নোটিশ দিয়েছেন আদালত। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি গিরিশ কাঠপালিয়া বলেন, ‘এটি একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি, যেখানে বিষয়টি কেবল একজন নারীর নয়, এটি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও জড়িত। তাঁরা যদি সংবেদনশীল না হন, তবে আমি নিশ্চিত করব যেন তাঁরা সংবেদনশীল হন।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর গত ২৫ জুলাই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়।সূত্র:দ্য হিন্দু,বা:প্র।

মন্তব্য করুন