দ্বিতীয় লংমার্চে বিরোধী দলের নানা হুঁশিয়ারি

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের গাড়িবহর শনিবার বগুড়ায় পৌঁছালে স্বাগত জানান নেতাকর্মীরা।

অনলাইন ডেস্ক: গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ আট দফা দাবিতে দ্বিতীয় দফার লংমার্চ থেকে সরকারকে নানা হুমকি দিয়েছে বিরোধী দল। ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত এ লংমার্চ হয়। এর মধ্যে যাত্রাপথে নানা স্থানে পাঁচটি পথসভা হয়। এসব সভা থেকে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বিরোধী দলের নেতারা।

রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, যদি সংবিধানে গণভোট না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালে কোনো নির্বাচন নেই। কোনো সরকারও নেই। মানলে সব মানতে হবে, বাদ দিলে সব বাদ দেওয়ার ঘোষণা দিতে হবে।

তিনি বলেন পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছিলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে যে নামেই হোক। কিন্তু সাত মাস চলে গেল, নড়াচড়া দেখি না। কোনোদিক থেকে কী পানিপড়া খেলেন, আপনাদের কণ্ঠে জোর দেখি না।

জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি এখন উল্টোরথে চলছে। যে পথে হাসিনা চলে, ফ্যাসিবাদ চলে, স্পষ্টত দেখছি, সে পথেই হাঁটছে এ সরকার। যদি একই পথে হাঁটেন, তাহলে পরিণতি একই হবে। শহীদ আবু সাঈদকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সরকার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করলে আমরা করব না, ঈমানদারির সঙ্গে থাকব।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার করতে হবে। যারা দেশে নেই, তাদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হচ্ছে। দেশে যারা আছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা রায় দেখতে চাই।

এছাড়াও বক্তব্য দেন—আল্লামা মামুনুল হক, মিয়া গোলাম পরওয়ার, হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, আখতার হোসেন এমপি, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি, মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ ১১ দলীয় শীর্ষ নেতারা। রাত সাড়ে ৯টায় এ সমাবেশ শেষ হয়।

এর আগে বিভিন্ন স্থানে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর বলেন, প্রথম দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সফল লংমার্চ শেষে আজ দ্বিতীয় দফার লংমার্চ। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে।

তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মাথা গরম করবেন না। জনতার দাবি মেনে নিন। তা না হলে আট দফা দাবি যেকোনো সময় ৯-১০ দফা হতে পারে, আবার যেকোনো সময় এক দফাও হতে পারে। এক দফা যখন হবে তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। জনতার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চক্রান্তে কাজ হবে না।

একই ধরনের হুমকি দিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঠিক করতে হবে তিনি কীভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন। হাসিনার মতো হেলিকপ্টারে যাবেন, নাকি সম্মানের সঙ্গে ক্ষমতা ছাড়বেন।

বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে গণজোয়ার বন্ধ করা যাবে না। আমাদের আট দফা দাবি এক দফায় এসে ঠেকবে। সেটার জন্য প্রস্তুত হন।

এর আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশের পর ৮টায় লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাসে প্রথম পথসভা হয়। পর্যায়ক্রমে টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস রোড, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালির বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা শেষে রাত সাড়ে ৭টার পর রংপুরে পৌঁছায় গাড়িবহর। দুপুরে বগুড়ায় পৌঁছানোর আগে জোহরের নামাজ ও খাবারের জন্য কিছুক্ষণ বিরতি দেওয়া হয়। এছাড়া বগুড়ার শেরপুরের চান্দাইকোনায় উপস্থিত মানুষের আগ্রহে রাস্তায় নিজ গাড়িতে দাঁড়িয়েই অনির্ধারিত বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।

সমাপনী সমাবেশে জনতার ঢল
জামায়াতের নায়েবে আমির সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ হয়। এতে জনতার ঢল নামে। সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। এর আগে সমাবেশ ঘিরে বিকাল থেকেই জিলা স্কুল মাঠে জড়ো হন জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ। সন্ধ্যায় সমাবেশের উপস্থিতি আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। লংমার্চের বহর নিয়ে শীর্ষ নেতারা রাত নয়টায় সমাবেশস্থলে পৌঁছালে সবাই স্লোগান দিয়ে তাদের স্বাগত জানান।

সিরাজগঞ্জে হামলার তীব্র নিন্দা
লংমার্চে আসার সময় সিরাজগঞ্জে জামায়াত নেতাদের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে বলেন, সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় ঢাকা-রংপুর লংমার্চে অংশগ্রহণকারী জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা এবং জামায়াত নেতা আব্দুস সবুর ও নুরুন্নবীকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়, ন্যক্কারজনক ও অগণতান্ত্রিক।

তিনি আরো বলেন, ঢাকা-রংপুর লংমার্চের গাড়িবহর সয়দাবাদ এলাকা অতিক্রম করার পর আব্দুস সবুর জোহরের নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হলে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। অপর জামায়াত নেতা নুরুন্নবীও হামলায় আহত হন। সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতসহ ১১ দলীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের গাড়িবহরকে শুভেচ্ছা জানান। জামায়াত আমির এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জনতাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান।

অধিকাংশ স্থানে পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতিও লক্ষ করা যায়। এছাড়া সড়কে লংমার্চ বহরের গাড়ি নির্বিঘ্নে যাতায়াতের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও ছিল চোখে পড়ার মতো।

উদ্বোধনী সমাবেশে ব্যাপক উপস্থিতি
সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে সকাল ৭টায় শুরু হয় লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ। এর আগে থেকেই সেখানে মিছিলসহকারে বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রথম দফায় ঢাকা-চট্টগ্রাম সফল লংমার্চ শেষে আজ দ্বিতীয় দফার লংমার্চ। এতে অনেকের মাথা গরম হয়ে গেছে। তিনি সরকারকে উদ্দেশ করে বলেন, মাথা গরম করবেন না। জনতার দাবি মেনে নিন। তা নাহলে আট দফা দাবি যেকোনো সময় ৯-১০ দফা হতে পারে, আবার যেকোনো সময় এক দফাও হতে পারে। এক দফা যখন হবে তখন পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। জনতার দাবি মানতে ব্যর্থ হলে কোনো চক্রান্তে কাজ হবে না। আট দফা কোনো দলীয় দাবি নয়, ১৮ কোটি মানুষের দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছি। সে দাবি পূরণ করেই ঘরে ফিরব। আমরা জনগণকে কথা দিচ্ছি, লড়াই শুরু হয়েছে, দাবি আদায় করেই ঘরে ফিরব ইনশাল্লাহ।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকারের দায়িত্ব ছিল মানবাধিকার রক্ষা করা। কিন্তু তারা মানবাধিকার হরণ করছে। বিএনপি ক্ষমতায় এসে মানবাধিকার হরণ করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছে। বিভিন্ন স্থানে লংমার্চের ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলার অভিযোগ করে তিনি বলেন, ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে গণজোয়ার বন্ধ করা যাবে না। আমাদের আট দফা দাবি এক দফায় এসে ঠেকবে। সেটার জন্য প্রস্তুত হন।

এলডিপির প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়ে যাবে—এজন্য বিএনপিকর্মীদের ঘরে ঘরে হাহাকার শুরু হয়ে গেছে। এ সরকার বিএনপির সরকার নয়, হাসিনার সরকার। আমরা লংমার্চ করছি দেশকে সঠিক পথে আনার জন্য। কোনো মুনাফেকের কথায় বিপথগামী হবেন না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, সরকারকে পরিষ্কারভাবে বলছি—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। রায় বাস্তবায়ন না করলে ইতিহাসে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত হবে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা লংমার্চ করছি এই সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে যে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতক করেছে তা কোটি কোটি মানুষকে জানাতে। এতে সরকারকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনারা পদে পদে ব্যর্থ হয়েছেন সেজন্যই এই লংমার্চ।

ছাত্রশিবির সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, বিএনপি সরকার মাত্র সাত মাসের ব্যবধানে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, এই লংমার্চকে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে উপস্থাপন করতে চাই। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

আরো বক্তব্য দেন নেজামে ইসলাম পার্টি চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, এবি পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ভিডিপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক চাঁন, জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম, জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম ও ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

সমাবেশ শেষে সকাল আটটায় রংপুরের উদ্দেশে লংমার্চের গাড়িবহর যাত্রা শুরু করলে তেজগাঁও, মহাখালী, বনানী, খিলক্ষেত, উত্তরা ও টঙ্গীতে শত শত নারী-পুরুষ ফুল ও স্লোগান দিয়ে অভিবাদন জানান।

ভোগড়ায় প্রথম পথসভা
লংমার্চের প্রথম পথসভা হয় গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সেখানে গাড়ি বহর এসে পৌঁছায়। তবে আগে থেকেই সেখানে ১১ দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত হন। জামায়াত আমিরের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পথসভা শেষে আবার যাত্রা শুরু করে গাড়িবহর।

এই পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর বলেন, আমাদের লংমার্চ দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য,আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা আমরা গণভোটের গণরায় নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছি। আন্দোলন সফল করতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

কর্নেল (অব.) অলি বলেন, আমরা সন্ত্রাস চাঁদাবাজিমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তে চাই। কিন্তু বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই তা পারছে না।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, গণদাবি নিয়ে ১১ দল রাজপথে নেমেছে। আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ঘরে ফিরবে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের টালবাহানা বরদাস্ত করা হবে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায় না মেনে সরকার প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এতে আরো বক্তব্য দেন মাওলানা আবুল কাশেম, মজিবুর রহমান মঞ্জু, অধ্যাপক মুজিবুর রহতান এমপি, নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে পথসভা সঞ্চালনা করেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী ড. হাফিজুর রহমান।

টাঙ্গাইলে পথসভায় জনতার উচ্ছ্বাস
টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস মোড়ে দ্বিতীয় পথসভায় বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে পৌঁছান জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন স্বৈরাচারের জন্য আমরা জীবন দেইনি। সব প্রকার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে। এ লড়াইয়ে জনগণের বিজয় হবে।

নাহিদ বলেন, বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচার বসেছে। সামনে আমাদের কঠিন লড়াই। গত সাত মাসে পদে পদে দলীয়করণ করা হয়েছে।

কর্নেল (অব) অলি বলেন, সংস্কার না করলে এক দফা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।

জেলা আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

সিরাজগঞ্জে ব্যাপক জনসমাগম
প্রখর রোদ উপেক্ষা করে দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুলে হয় তৃতীয় পথসভা। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর বলেন, আমাদের আট দফা না মেনে নিলে এক দফায় পরিণত হবে। আগামীতে আমরা ঢাকায় লংমার্চ করব।

জেলা জামায়াতের আমির শাহীনুর আলমের সভাপতিত্বে সকাল আটটায় এই পথসভা শুরু হয়।

বগুড়ায় বিমান মোড়ে বড় সমাবেশ
বিকাল ৪টায় বগুড়ায় ভাটিয়ালি বিমান মোড়ে অনুষ্ঠিত জনসভা বড় সমাবেশে রূপ নেয়। বিকাল চারটায় এই সমাবেশে শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। তবে আগে থেকেই সেখানে ব্যাপক লোকজনের উপস্থিতি হন।

এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করত তাহলে আমাদের লংমার্চ করা লাগত না।

তিনি বলেন, সরকার দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের জায়গায় জায়গায় বসাচ্ছে। আমাদের সন্তানরা কর্মের অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছিল। আর সরকার মানুষদের শোষণ করছে জায়গায় জায়গায় লোক বসিয়ে। এ অবস্থায় আমরা বসে থাকব না।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। কথা দিচ্ছি আমরা লড়ে যাব, প্রয়োজনে জীবন দেব। জনগণের বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ।

নাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বগুড়া বৈষম্যের শিকার। এই এলাকার সন্তানরা রক্ত দেওয়ার পরও পরিবর্তন হয়নি। আগামীর গণঅভ্যুত্থানে বগুড়াবাসীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

পলাশবাড়ীতে শেষ পথসভা
ঢাকা- রংপুর লংমার্চের শেষ পথসভা হয় বিকালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী চৌমাথায়। এতে আশপাশের এলাকার বহু লোক জড়ো হন। সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা বক্তব্য দেন।

ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা
লংমার্চ ঘিরে পথজুড়ে ছিল ভ্রাম্যমাণ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। খোলা ট্রাকে করে বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠী লংমার্চের গানসহ নানা ধরনের এই সাংস্কৃতিক পর্ব পরিবেশন করেন। এছাড়া পথসভা ও সমাবেশ মঞ্চেও ইসলামি সংগীত পরিবেশন করেন। সব মিলিয়ে বিরোধী দলের এই কর্মসূচি ছিল বেশ উৎসবমুখর।আ:দ

মন্তব্য করুন