জাতিসংঘকে ‘রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার বন্ধের আহ্বান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক।

অনলাইন ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধারে সংস্থাটির সনদের নীতি ও লক্ষ্যসমূহ সমুন্নত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে জাতিসংঘকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ এবং গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িতদের দায়মুক্তির অবসান ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

২৫ সেপ্টেম্বর, রবিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন আরাগচি।

বৈঠকে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

একই সঙ্গে জাতিসংঘের সনদের নীতি ও লক্ষ্য রক্ষায় সাধারণ পরিষদের সভাপতির সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরাগচি আশা প্রকাশ করেন, ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম ‘পেশাদার, ভারসাম্যপূর্ণ ও দায়িত্বশীল’ দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতিসংঘের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার’-এর প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি বলেন, বিশ্ব সংস্থাটির প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন বন্ধ করতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বলপ্রয়োগ নিষিদ্ধের নীতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বন্ধ করার আহ্বান জানান আরাগচি। পাশাপাশি গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের দায়মুক্তির অবসানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। বিশেষ করে ইসরায়েলি সরকারের বিরুদ্ধে আগ্রাসন, গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পর পশ্চিম এশিয়ার শান্তি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে অবহিত করেন আরাগচি।

তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক আলোচনা চলাকালে ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসনের পেছনে ‘জোর-জবরদস্তি ও আধিপত্যবাদী আচরণ’ ছাড়া কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাঁর দাবি, নৌ-অবরোধ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন উপায়ে এই আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে।

হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট নিরাপত্তাহীনতার জন্যও একই ধরনের ‘আগ্রাসী ও হস্তক্ষেপমূলক কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

অন্যদিকে, খলিলুর রহমান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সন্তোষ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।বা:প্র।

মন্তব্য করুন