উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হলো জকসুর ভোট গ্রহণ: মধ্যরাতে হতে পারে ফলাফল ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন। উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। মধ্যরাতে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে জানালেন নির্বাচন কমিশন।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল নয়টা থেকে বিকাল চারটা প্রর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন একাডেমিক ভবনে স্থাপিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে চলেছে ভোট গ্রহণ।তীব্র শীত উপেক্ষা করে ভোর থেকেই সাধারণ শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সারি ও শ্লোগানে মুখরিত ছিলো পুরো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক থেকে শুরু করে শান্ত চত্বর, ভাস্কর্য প্রাঙ্গণ এবং ক্যাফেটেরিয়া এলাকায় যেমন ছিল উৎসবের আমেজ তেমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় নবীন-প্রবীণ সব শিক্ষার্থীর মধ্যেই ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। পরিচয়পত্র দেখিয়ে সারিবদ্ধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন ভোটাররা। অনেক শিক্ষার্থীকে প্রথমবার ভোট দেওয়ার অভিজ্ঞতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা গেছে।

​প্যানেল ও প্রার্থীদের তৎপরতা: এবারের নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল প্রধান ছাত্র সংগঠনগুলোর প্যানেল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট। সহ-সভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদসহ মোট ২১টি পদের বিপরীতে লড়াই করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। প্রার্থীদের অনুসারীরা রঙিন পোস্টার, ব্যানার এবং ব্যাজ পরে ক্যাম্পাসের মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন।

জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ হাজার ৪৭৯ জন এবং পুরুষ ভোটার ৮ হাজার ১৭০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে মোট ১৫৭ জন এবং হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন ৩৩ জনসহ কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ মিলিয়ে মোট প্রার্থী ১৮৭ জন। নির্বাচনে মোট ৩৯টি ভোটকেন্দ্র ও ১৭৮টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন বলেন, “আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে দীর্ঘ লড়াই করেছি। আজ ব্যালটের মাধ্যমে তারা আমাদের সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করবে বলে আমার বিশ্বাস।”

​নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা ​নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে মোতায়েন রয়েছে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্য।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ও বিএনসিসি-রোভার স্কাউটের সদস্যরা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে তারা গ্রহণ করেছিলেনন জিরো টলারেন্স নীতি এবং ছোট ছোট দুই একটি ঘটনা বাদ দিলে সুষ্ঠ নির্বাচন হয়েছে।

​সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা: নির্বাচন নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী। শিক্ষার্থীদের মতে, আমরা এমন একটি ছাত্র সংসদ চাই যারা দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, পরিবহন সমস্যা এবং ক্যান্টিনের খাবারের মান উন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার হবে। গত কয়েক বছরে আমাদের অনেক দাবি অপূর্ণ থেকে গেছে, আশা করি নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সেগুলো পূরণ করবেন।

​প্রশাসনের বক্তব্য ও ফলাফল ঘোষণা: ​বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, বিকাল ৪ টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলেছে। এরপর শুরু হয়েছে ভোট গণনা। সবকিছু ঠিক থাকলে মধ্যরাতের মধ্যেই নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হবে।

​দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ছাত্র সংসদ সচল হওয়াকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে যে নতুন নেতৃত্বের উত্থান ঘটবে, তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি আধুনিক ও সেশনজটমুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।ই

মন্তব্য করুন