
অনলাইন ডেস্ক: বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক গতকাল ২৩ অক্টোবর, জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, নবী (সা.) এর সিরাতকে আল্লাহ উত্তম ও নির্ভুল আদর্শ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নবী (সা.) সিরাতকে গ্রহণ করলে জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং জান্নাত লাভ করা যাবে। খতিব বলেন, সর্বশেষ নবীর হেদায়াতের বাণী যারা গ্রহণ করবে তারাই মুসলমান। নবীর শরীয়ত যারা গ্রহণ করবে এবং অন্যের কাছে পৌঁছে দিবে তারাই সফলকাম। খতিব বলেন, ইসলাম সিরাতাল মুস্তাকিমের পথ দেখায়। নবী (সা.) দাওয়াতের মাধ্যমে দ্বীনের প্রতিটি বিধান জানিয়ে দিয়েছেন। খতিব বলেন, উম্মতে মোহাম্মদীরা যাতে শরীয়তে ও সুন্নতের ওপর অবিচল থাকে সে ব্যাপারে রাসূল (সা.) সবচেয়ে বেশি পেরেশানি ছিলেন। খতিব বলেন, নবী (সা.) সর্বপ্রথম দাওয়াত দিয়েছেন লাইলাহা ইল্লাল্লাহ। আল্লাহ ছাড়া কোনো মা’বুদ নেই। একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করো। আল্লাহকে ভয় করো। তাকওয়ার জিন্দেগি অবলম্বন করো। রবের সাথে সাক্ষতের প্রস্তুতি নিতে হবে। শিরকমুক্ত নেক আমল করতে হবে। পূজামণ্ডপে গিয়ে যারা একত্মতা প্রকাশ করবে তাদের ঈমান থাকে না। রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর রহমতিয়া জামে মসজিদের খতিব মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের মূর্তিপূজায় অংশগ্রহণ, দুর্গাদেবির প্রশংসাকারী এবং শিরকী কাজের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশকারী সকল মুসলিম রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে তওবা করে ঈমান নবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। খতিব বলেন, ইসলামের মৌলিক আকিদা হচ্ছে আল্লাহ তাআলা এক ও অদ্বিতীয়। ইবাদত ও উপাসনার উপযুক্ত একমাত্র আল্লাহ তাআলা। মূর্তিপূজা ইসলামে সুস্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ এবং শিরকী, যা সবচেয়ে গুরুতর গুনাহ। কোনো মুসলমান জেনে-বুঝে মূর্তিপূজাকে ধর্মীয় উপাসনা মনে করা, সমর্থন করা কিংবা এর সঙ্গে উপাসনাগত একাত্মতা প্রকাশ করা হচ্ছে তার ঈমান ও আকিদা পরিপন্থী কাজ। এ ধরনের কাজ করলে ঈমান থাকে না।
মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন আরো বলেন, দুর্গাপূজার মন্দিরে মূর্তিকে কেন্দ্র করে যে ধর্মীয় উপাসনা অনুষ্ঠিত হয়, তার সঙ্গে মুসলমানদের আকিদার মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় স্বাধীনতা, জানমালের নিরাপত্তা ও উপাসনালয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু নিরাপত্তা ও সৌজন্য প্রদর্শনের নামে কোন মুসলমান মূর্তিপূজার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ কিংবা তার উপাসনাগত বিশ্বাসের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করা কোনোভাবেই ইসলাম সমর্থন করে না। তিনি আরো বলেন, যারা দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে গিয়ে মূর্তির সামনে উপাসনামূলক সম্মান প্রদর্শন করেছেন কিংবা বক্তব্যের মাধ্যমে, দুর্গা দেবীর ক্ষমতার কথা বলেছেন বা মূর্তিপূজার ধর্মীয় বিশ্বাসকে সমর্থন করেছেন, তাদের উচিত নিজেদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড শরিয়তের আলোকে পর্যালোচনা করা। যদি কোনো কর্মকাণ্ড র মাধ্যমে ঈমানের পরিপন্থী বিশ্বাস বা শিরকের সমর্থন প্রকাশ পেয়ে থাকে, তাহলে আন্তরিকভাবে তওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং যোগ্য আলেমদের পরামর্শে ঈমান নবায়নের জন্য কালেমা পাঠ করা জরুরি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক সুবিধা কিংবা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অজুহাতে মুসলমানদের ঈমান-আকিদার প্রশ্নে আপস করা উচিত নয়। সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও সীমারেখা অক্ষুণ্ণ রেখে। অন্য ধর্মীয় উপাসনার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ না করেও অন্য ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা সম্ভব।
ঢাকাস্থ মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী গতকাল জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি আমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁর ইবাদতের মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতা অর্জনের পথ দেখিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বমানবতার মুক্তির দূত, প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতি, যিনি উম্মতকে নামাজের গুরুত্ব, মর্যাদা ও অপরিসীম উপকারিতা শিক্ষা দিয়েছেন। নামাজ শুধু একটি ইবাদতের নাম নয়; বরং এটি একজন মুমিনের জীবনের প্রাণ, আত্মার প্রশান্তি, চরিত্র গঠনের মাধ্যম এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। নামাজ মানুষের অন্তরকে পবিত্র করে, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকতে সাহায্য করে, জীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে এবং দুঃখ-কষ্টের মুহূর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে শেখায়। যে ব্যক্তি নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে নামাজ আদায় করে, তার হৃদয়ে আল্লাহর স্মরণ জাগ্রত হয়, জীবনে নৈতিকতার বিকাশ ঘটে এবং আখিরাতের সফলতার পথ সুগম হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা নামাজের মূল প্রভাব সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন: “নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে।” [সূরা আল-আনকাবূত: ৪৫] খতিব বলেন, নামাজ পড়লে অনেক উপকারিতা রয়েছে তার মধ্য থেকে এক নাম্বার: নামাজ অন্তরের প্রশান্তি ও সংকট দূর করে, যেমন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহ.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, “হে বিলাল, আজান দাও, আমরা নামাজের মাধ্যমে প্রশান্তি লাভ করব।” – [আবু দাউদ: ৪৯৮৬] হুযাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) কোনো কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হলে সরাসরি নামাজে দাঁড়িয়ে যেতেন। – [আবু দাউদ: ১৩১৯] নামাজ হলো জীবনের আলো ও পরকালের দলিল: আবু মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধেক অংশ। আর নামাজ হচ্ছে একটি উজ্জ্বল জ্যোতি (নূর)।” Ñ [সহীহ মুসলিম: ৪২২] আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজের হেফাজত করবে, তা কিয়ামতের দিন তার জন্য জ্যোতি, দলিল ও মুক্তির উপায় হবে।” – [মুসনাদে আহমাদ: ১০/৮৩] রাসূল (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম বান্দার নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। যদি নামাজ ঠিক হয় তবে তার সব আমল সঠিক বিবেচিত হবে, আর নামাজ বিনষ্ট হলে সব আমলই বাতিল বলে গণ্য হবে। – [সহীহুল জামি: ২৫৭৩] খতিব আরো বলেন, ইবনু মুহাইরীয (রহ.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন, “আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করেছেন। যে ব্যক্তি তা সঠিকভাবে আদায় করবে, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করেছেন।” Ñ [আবু দাউদ: ১৪২০] আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে ঈমানের সাথে দুনিয়া থেকে যাওয়ার তৌফিক দান করুন, আমীন।সূ:ই









