
গাজীপুরে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা
অনলাইন ডেস্ক: রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপির উপস্থিতিতে গাজীপুর জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমনে দৃশ্যমান, সর্বাত্মক ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন ও গাজীপুর জেলার উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা দলীয় পরিচয় নেই।
অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক না কেন, তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এমনকি নিজ দলের কোনো ব্যক্তি অপরাধে জড়িত থাকলেও তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি রবিবার সকালে গাজীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ভাওয়াল সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব নির্দেশ দেন।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল করিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সভায় গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ফজলুল হক মিলন, গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির সভাপতি ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান ও গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আইয়ুবী বিশেষ অতিথি ছিলেন।
এছাড়াও বক্তব্য রাখেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার, গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন প্রমুখ।
জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ও জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আলোচিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ আরও বলেন, বর্তমান সরকারের মূল নীতি হলো ‘আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ;।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মাদকের ব্যাপারে সর্বোচ্চ কঠোর মনোভাব পোষণ করেন। দেশ থেকে যেকোনো মূল্যে মাদক নির্মূলে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
প্রতিমন্ত্রী নির্দেশ দেন, টঙ্গীর মাজার বস্তিসহ জেলার প্রতিটি অপরাধপ্রবণ এলাকায় দৃশ্যমান ও কার্যকর অভিযান পরিচালনা করতে হবে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশকে সবসময় সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহায়তা দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মহাসড়কে সবার নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
দুর্ঘটনা ঘটলে যেন মামলা দায়ের হয় এবং নিহতদের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যেন বিনা হয়রানিতে দ্রুত সরকারি আর্থিক অনুদান ও আইনি সহায়তা পায়, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী সভায় প্রতিটি বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও অর্জনের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। এজন্য তিনি জেলার সকল বিভাগের নির্দিষ্ট দায়িত্ব ও লক্ষ্য নির্ধারণ করে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী সভায় কার কি দায়িত্ব ছিল, কে কতটুকু পালন করেছেন, কেন পালন করতে পারেননি, তার স্থলে কাকে দিলে দায়িত্ব পালন সম্পন্ন করা যাবে-এসব বিষয় আমরা যাতে বুঝতে পারি, সেভাবে কাজ করুন।
আলোচনা অংশ নিয়ে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুল হক মিলন বলেন, মাদক-চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি এসময় তিনি অপরাধের সাথে জড়িত যেকোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর হওয়ার জন্য নির্দেশনা দেয়ার জন্য প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সভায় গাজীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মজিবুর রহমান অতীতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পালিয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানুষ অনেক আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। সাধারণ মানুষ যেনো বর্তমান পরিস্থিতির সাথে অতীতের তুলনা করে ভালোবোধ করে, সেজন্য প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের প্রতি আমাদের জবাবদিহিতা আছে। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা তার সবটুকুই ব্যাবহার করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার টঙ্গীর মাদকের আখড়া হিসেবে পরিচিত মাজার বস্তিতে পরিচালিত দীর্ঘদিনের অভিযানের বর্ণনা দেন। রাজউকের জমিতে গড়ে ওঠা এ অবৈধ বস্তিটি মাদকের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হওয়ায় পুলিশকে নানা বাধা-বিঘ্ন অতিক্রম করে অভিযান চালাতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি সেখানে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানান এবং সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সভার সভাপতি ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ দ্রুত বাস্তবায়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অতীতে প্রশাসনকে কাজ করার জন্য উপর থেকে চাপিয়ে দেয়া হতো। বর্তমানে প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা উদ্যোগী হয়ে কাজ করছে। তাই আগামী সভার আগেই আজকের সভায় গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত ইনশাআল্লাহ বাস্তবায়ন করা হবে।বা:প্র।









