
অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান সাড়ে ১৫ বছরের দুঃশাসনের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “আমরা ইনসাফ কায়েম করতে চাই এবং দুঃশাসনমুক্ত মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই দুঃশাসন যেন ফিরে না আসে, সেজন্য আগামী ১২ তারিখ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।”
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) জুমার পূর্বে নোয়াখালী জিলা সরকারি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন। পরে তিনি নোয়াখালীর ছয়টি আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীদের হাতে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন।
চাঁদাবাজদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, “চাঁদাবাজি ছেড়ে দিন, এটা হারাম। হারাম টাকা দিয়ে পরিবার ও সন্তানদের অকল্যাণ ডেকে আনবেন না।” সম্পদের অভাব হলে সীমিত সম্পদ ভাগ করে খাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, জনগণের আমানত নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেয়া হবে না।
নির্বাচনী একটি ঐক্যের বিষয়ে তিনি বলেন, “যাকে যেখানেই ভোট দেয়া হোক, ধরে নিতে হবে তার মাঝে ১১টি প্রতীকই বিদ্যমান। আমরা সবাই এক মায়ের সন্তানের মতো মিলেমিশে কাজ করবো।” বিশেষ করে ৪টি আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ এবং ২টিতে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের কথা উল্লেখ করে কর্মীদের মান- অভিমান ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিজয়ী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি ।
লক্ষাধীক জনতার সমাবেশে জামায়াতের আমীর শফিকুর রহমান নোয়াখালীর মানুষের প্রাণের দাবীগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে বলেন, আমি একজন দুঃখিনী মায়ের দরবারে পৌঁছার চেষ্টা করেছিলাম। যাকে হায়েনারা কষ্ট দিয়েছিল একটা প্রতীকে ১৮ সালে ভোট দেয়ার কারণে। ওই মায়ের সম্মানে সেখানে আমরা নির্বাচিত হলে সুবর্ণচরেপৌরসভা করবো ইনশাআল্লাহ। ওই মাকে সম্মানিত করার জন্য।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত দেড় বছর যারা ধৈর্য ধরতে পারেননি, যারা অধৈর্য হয়ে অপকর্ম করেছেন তাদের জন্য অশনিসংকেত শুরু হয়ে গেছে।
এর আগে, সকাল ৯টায় জেলা জামায়াতের আমীর ও নোয়াখালী-৪ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. ইসহাক খন্দকারের সভাপতিত্বে জনসভা শুরু হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা।
নোয়াখালীর দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আপনাদের ছয়টা দাবি আমি বুঝতে পারলাম যে নোয়াখালীবাসীর প্রাণের দাবি। দোয়া করবেন, কথা দিচ্ছি আপনাদের সাথে বেঈনসাফি করা হবে না ইনশাআল্লাহ। ইনসাফের মানদণ্ডে দাঁড়িয়ে অবশ্যই আপনাদের দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে ইনশাআল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব। আমরা সব দাবি কবুল করে নিলাম ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই অঙ্গীকার পূরণের জন্য বিশেষভাবে যেন সাহায্য করেন।
এ সময় আমীরের সঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম বিল্লাহ,ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আলমগীর মুহাম্মাদ ইউসুফ,ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগাহ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক মু. মুতাসিম বিল্লাহ শাহেদী, তথ্য সম্পাদক মুহাম্মাদ সায়েদ সুমনসহ কেন্দ্রীয় নেতারাসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের নোয়াখালী-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ ছায়েফ উল্যা,নোয়াখালী -২ আসনের এনসিপির প্রার্থী সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া, নোয়াখালী -৩ আসনের জামায়েতের প্রার্থী মাও.বোরহান উদ্দিন, নোয়াখালী -৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার, নোয়াখালী – ৫ আসনের বেলায়েত হোসেন,নোয়াখালী -৬ আসনের এনসিপির প্রার্থী আবদুল হান্নান মাসউদ উপস্থিত ছিলেন।
ইসহাক খন্দকার বলেন, জামায়াত আমির ড. শফিকুর রহমান এখানে বক্তব্য দিয়ে লক্ষ্মীপুর, বিকেলে কুমিল্লার লাকসাম ও সন্ধ্যায় কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।তিনি জনসভার কারণে সাধারণ মানুষের কষ্ট হওয়ায় দু:খ প্রকাশ করেন।ই










