
কর্মসংস্থান বাড়বে, অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা আনবে ওয়াল স্ট্রিটে নতুন বার্তা :‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত’
অনলাইন ডেস্ক: জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফিরে এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই সফরে বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক এবং সম্পর্ক স্থাপন বাংলাদেশের জন্য নতুন বার্তা নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য যে উন্মুক্ত সে বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে। এর মাধ্যমে দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। বিদেশি বিনিয়োগের পাইপলাইন দ্রুত ছাড় এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগে উৎসাহী করবে।
নিউ ইয়র্ক সফরে ৩০টিরও বেশি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও অফিশিয়াল কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তারেক রহমান বহুপাক্ষিক সম্পর্কের সংস্কার, অর্থনৈতিক কূটনীতি এবং মানবাধিকারভিত্তিক বিশ্ব গড়ার প্রতিশ্রুতি বিশ্বমঞ্চে নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিনিয়োগের সুরক্ষা এবং পুঁজির নিরাপদ স্থানান্তর নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর। সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক ফোরাম জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হয়েছে এবং প্রতিটি কর্মসূচিতে বাংলাদেশের স্বার্থ বিশেষ করে কীভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ এবং ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর আবু আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, চলমান অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে বাংলাদেশের সংযোগ আরো দৃঢ় করতে প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা অত্যন্ত ইতিবাচক। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিধর দেশটির ব্যবসায়ীদের কাছে দেশের বিনিয়োগের সম্ভবনা তুলে ধরা এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক দাতা সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী দেশগুলোকে বাংলাদেশ সম্পর্কে পজিটিভ বার্তা দেবে। নতুন করে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে, যা দেশের আগামী অর্থনীতি ও অবকাঠামো খাতে একটি বড় ধরনের গতির সঞ্চার করবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন থেকে বিপর্যস্ত অর্থনীতি। এই সংকট থেকে দেশ অনেকটা উন্নতির পথে। এরপরও দীর্ঘদিন পর নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ায় দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় এবং রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশের সৃষ্টি করেছে। এ কারেণ ইতোমধ্যে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি, রিজার্ভের শক্তিশালী অবস্থান, রফতানি আয়ে নতুন গতি, ডলারের সংকট কমে আসা এবং হুন্ডি-অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কড়াকড়ি আরোপে সামগ্রিক বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর মার্কিন বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যা আগামী দিনের অর্থনীতিতে ব্যাপক গতি আনবে, বিদেশি বিনিয়োগে কর্মসংস্থান বাড়াবে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন সহযোগী চীন, জাপান, কোরিয়া, সউদী আরব, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ উদগ্রীব প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়ন ও বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ তথা ত্রিদেশীয় অর্থনৈতিক করিডোরের কাজ দ্রুত বাস্তবায়নের পথে। আর যুক্তরাষ্ট্র সফরে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়ন, বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠক এবং সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে বিনিয়োগ জনশক্তি রফতানিতে নতুন মাত্রা আনবে। রেমিট্যান্স প্রবাহ আরো বাড়বে। আর তাই পরিবর্তিত বিশ^ রাজনীতি এবং অর্থনীতির যে গতিধারা তাতে বিদেশি বিনিয়োগের পরবর্তী গন্তব্য বাংলাদেশ।
অর্থনীতিবিদ, ব্যবসা-বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী যদি বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট দূর করা সম্ভব হয় তাহলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার তিনি যে স্বপ্ন দেখছেন, তা বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা প্রফেসর রাশেদ আল তিতুমীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিতে চলছেন। তাঁর নির্দেশনায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করতে সরকার কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানসহ আগামীর অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা আনবে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সংক্ষিপ্ত কিন্তু অতীব অর্থপূর্ণ চার দিনের সফর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আগামীর বাংলাদেশে বিনিয়োগের সংযোগ স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই সফরের ফলে জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং আর্থিক খাতে মার্কিন ও বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাড়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে বড় অংকের বিনিয়োগ আসলে দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার ঘটবে। এছাড়া দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করবে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন। বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক ‘জেপি মরগান চেস’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত ওয়াল স্ট্রিটের বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে বৈশ্বিক অর্থলগ্নি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মুখোমুখি হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে ব্ল্যাকরক, পিআইএমসিও, মেটলাইফ ও এস ক্যাপিটালের মতো বৈশ্বিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। সেখানে তিনি বাংলাদেশের উদীয়মান অর্থনীতি ও স্বচ্ছ বিনিয়োগ পরিবেশের রূপরেখা তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ বিনিয়োগের (ব্যবসার) জন্য প্রস্তুত’ বার্তা পৌঁছে দেন। বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরী পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে। জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরো সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে। নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও বিধিবিধান সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন।
এই সফরে বোয়িংয়ের মতো প্রধান মার্কিন অ্যারোস্পেস প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিমান ক্রয়ের বাণিজ্যিক আলোচনা বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দু’টি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের অ্যারোস্পেস ও পরিবহন খাতে বড় অঙ্কের বৈশ্বিক বাণিজ্যের সামর্থ্য রয়েছে; দ্বিতীয়ত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সাথে কৌশলগত ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী এবং দাতা সংস্থাগুলো সাধারণত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং বৃহৎ পরাশক্তিগুলোর সাথে বাণিজ্যিক দূরদর্শিতাকে বিনিয়োগের ইতিবাচক ক্ষেত্র হিসেবে দেখে থাকেন।
একই সাথে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট অজয় বঙ্গের সঙ্গে বৈঠক দেশে কৌশলগত আর্থিক সংস্কার, বাজেটারি সহায়তা ও বৈদেশিক বাণিজ্যিক আস্থা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। এছাড়া প্রযুক্তি ও জনস্বাস্থ্য খাতে উদ্ভাবনী অর্থায়নের জন্য বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি অর্জিত হয়। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী নেতৃত্ব- কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স শেখ সাবাহ আল-খালিদ, সউদী আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলোতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রবাসী কর্মীদের শ্রমবাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর পাশাপাশি মুসলিম বিশে^র অন্যতম অভিভাবক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তুরস্ক, ইরান এবং প্রতিবেশী এশীয় ও ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
অপরদিকে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মাতৃভাষা বাংলায় দেয়া দূরদর্শী ভাষণে দেশ পুনর্গঠন ও টেকসই অগ্রগতির জন্য ‘৩-আর কৌশল’ (পুনরুদ্ধার, পুনর্বাসন ও পুনর্নির্মাণ) ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈশ্বিক ডিজিটাল বিভাজন নিরসন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কারের একটি বিশ্বস্ত দলিল হিসেবে এই ভাষণ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের নজর কাড়ে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর পক্ষে কথা বলতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিল ছাড় এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানান তিনি।
শুধু বিনিয়োগ আকর্ষণে উৎসাহদায়ক সফরই ছিল না, আছে কূটনৈতিক সফলতার নিদর্শন। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক এবং শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বারহাম সালিহের সাথে আয়োজিত বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বিশ্ব সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের ওপর পুনরায় তীব্র কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এই সফরের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারপ্রধান তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত সফরে অর্থনৈতিক-কূটনৈতিক সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে তাঁর সাত মাস বয়সী সরকারের ‘টিম পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়’। এই টিমের সমন্বয়ক ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ূন কবিরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শান্তি, অহিংসা, মানবাধিকার ও পরিবেশগত ভারসাম্যের মূল চেতনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের যে সময়োপযোগী বার্তা এবং অর্থনৈতিক-মানবিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন, তা বিশ্বমঞ্চে ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সম্ভাবনা উন্মোচনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো গভীর করার কথা বলেন। পাশাপাশি জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি। বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরো ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবেÑ এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায় বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র্র সফরের মধ্যেই স্পেনের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে সম্ভাবনা ও বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। স্পেনের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের বস্ত্র, ওষুধ, অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি ব্যবসা, তথ্যপ্রযুক্তি, লজিস্টিকস ও ভোগ্যপণ্য খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলেছেন। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সঙ্গে এক সেমিনারে মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট অ্যাঞ্জেলো আসেন্সিয়ো বাংলাদেশকে এশিয়ার অন্যতম উদীয়মান বাজার হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউরো। বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ থেকে ২০৩০ সাল মেয়াদে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণসহ যাতায়াত, কৃষি, অবকাঠামো ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে প্রায় ১৭২ বিলিয়ন বা ১৭ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলারের পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। তবে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রফতানি বহুমুখীকরণকে বড় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মো. ফজলুল হক বলেন, বর্তমান সরকার বৈদেশিক বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, লজিস্টিকস ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগকারীদের বিনা মূল্যে জমি দেয়ার মতো বড় সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও বিনিয়োগ করে লাভের সুযোগ ও সম্ভাবনা অনেক বেশি।ই








