বরিশাল অঞ্চলজুড়ে হাম ও ডেঙ্গু দাপটে জনমনে শংকা

সরকারি হাসপাতালে ২৫ হাজার হাম ও ডেঙ্গু রোগী, মৃত্যু ৬৫

অনলাইন ডেস্ক: বরিশালে হাম-রুবেলা ও ডেঙ্গু নিয়ে সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার ছুতে চলেছে। ইতোমধ্যে শুধু সরকারী হাসপাতালেই মারা গেছেন প্রায় ৬৫ জন। বুধবারেও বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত বাবুগঞ্জের উত্তম ঘরামি নামে ৫৩ বছরের ১ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সমগ্র বরিশাল অঞ্চল জুড়ে এখনো হামের সাথে নতুন করে ডেঙ্গুর দাপট জনমনে শংকার সৃষ্টি করছে। সরকারী হাসপাতালের বাইরে আক্রান্তের সংখ্যা অগনিত। মৃত্যুও হিসেবও নেই কারো কাছে। সদ্য সমাপ্ত আগষ্ট মাসেই বরিশাল বিভাগের শুধু সরকারী হাসপাতালেই হামের উপসর্গ নিয়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিশু ভর্তি হয়েছে। তবে জুলাই মাসে এসব হাসপাতালে হাম উপসর্গে ৫ জনের মৃত্যু হলেও আগষ্টে কারো মৃত্যু হয়নি। অপরদিকে স্বাস্থ্য বিভাগ গত মাসে এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত প্রায় ২ হাজার ৭শ ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে দুজনের মৃত্যুর পরে সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় দিনেই মৃত্যুর মিছিলে আরো একজনের নাম যুক্ত হল। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের শুধু সরকারী হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত ১০ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সাথে হাসপাতালগুলোতে গত কয়েক মাসে ডেঙ্গু রোগী ভর্তির সংখ্যাও ৭ হাজারের কাছে পৌছেছে। যারমধ্যে গত মাসেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

পাশাপাশি হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তিকৃত শিশুর সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজারের কাছে পৌছার মধ্যেই ৫৪টি শিশুর মৃত্যুর খবর দিয়ে রেখেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এখনো প্রতিদিন গড়ে ১৩০ থেকে দেড়শ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারী হাসপাতালগুলোতে আসছে। ডেঙ্গুর চিত্রও প্রায় সমান। তবে এসব হিসেব শুধু সরকারী হাসপাতালের হলেও প্রকৃত হাম ও ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা আরো কয়েকগুন বেশি বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকগন জানিয়েছেন। তাদের মতে, মানুষ শরীর ও মনের অত্যন্ত নাজুক অবস্থা ছাড়া সরকারী হাসপাতালে যেতে চায়না। এখনো প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক হাম আক্রান্ত শিশু সহ ডেঙ্গু রোগীর ভীড়ে হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা ব্যবস্থাই অচলবস্থার মুখে।

সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত সরকারী চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান, বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটির শিশু বিভাগের মেঝেতেও এখন পা ফেলার কোন স্থান নেই। হাসপাতালটির ৭৫ শয্যার শিশু বিভাগে বুধবারও সোয়া ৪শরও বেশি শিশু চিকিৎসাধীন ছিল। যারমধ্যে ১১২টি হাম উপসর্গের শিশু ছাড়াও প্রায় ৩০টি ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুও চিকিৎসাধীন ছিল।

অপরদিকে হামের চিকিৎসায় হাসপাতালে ‘নিবিড় পর্যবেক্ষণ ইউনিট-আইসিইউ’র কোন বিকল্প না থাকলেও গোটা বরিশাল অঞ্চলে একমাত্র শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়া কোথাও তার অস্তিত্ব নেই।

সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালেরই একই চিত্র। ফলে এ বিভাগীয় সদরের বাইরে হামের চিকিৎসাও চলছে অনেকটাই যোড়াতালি দিয়ে। বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ইতোমধ্যে বিভাগের ৬০ শতাংশ রোগী ভর্তি হয়েছে। বুধবার দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্বম এ সরকারী হাসপাতলটিতে প্রায় ৭৫জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা চলছিল। যারমধ্যে গত ২৪ ঘন্টায় মৃত্যু হয়েছে একজনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসেব অনুযায়ী ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বরিশাল বিভাগের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ১৭,২৭৩টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। যারমধ্যে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ৭৭৬। আর ইতোমধ্যে সরকারী হাসপাতালগুলোতে হাম উপসর্গ নিয়ে যে ৫৪ টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারমধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ১৯টি শিশু।

…..
অপরদিকে গত কয়েক মাসে এ অঞ্চলের সরকারী হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত প্রায় ৭ হাজার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৬,৩৯৯ ডেঙ্গু রোগী। তবে বুধবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৩৮২ ডেঙ্গু রোগী। অপরদিকে ইতোমধ্যে শুধুমাত্র সরকারী হাপাতালে যে ১০ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তার দু জনেরই মৃত্যু হয়েছে সদ্য সমাপ্ত আগষ্ট মাসে। সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় দিনে মারা গেছেন আরো একজন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মাঝে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সব শিশুকে টিকা প্রদান নিশ্চিত করতে না করতে পারলে খুব সহসা হাম থেকে নিস্কৃতির কোন সুযোগ নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বাদ পড়া শিশুদের খুজে টিকা প্রদানের একটি কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক।

পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা সহ এর বংশ নিধনে ব্যক্তি সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিবিড়ভাবে কাজ করার তাগিদ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল মহল। তবে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এবার মশা নিধনে কিছুটা সক্রিয় কার্যক্রম দৃশ্যমান রয়েছে। নগরী জুড়ে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। সিটি মেয়র নিজে পুরো বিষয়টি নিবিড় নজরদারী করছেন।ই

মন্তব্য করুন