
অনলাইন ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়, এরপর বন্ধুত্ব থেকে প্রেম। সেই প্রেমের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত গড়িয়েছে বিয়েতে। কুষ্টিয়ার তরুণী লাবনীকে বিয়ে করে বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন পাকিস্তানের পাঞ্জাবের বাসিন্দা ফারহান। বিয়ের পর প্রায় ছয় মাস পাকিস্তানে সংসার করার পর স্ত্রীকে নিয়ে কুষ্টিয়ায় ফিরেছেন তিনি।
ভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও পারিবারিক পরিবেশের এই দম্পতিকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল।
কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার বাসিন্দা লাবনীর সঙ্গে প্রায় দুই বছর আগে ফেসবুকে পরিচয় হয় ফারহানের। শুরুতে সাধারণ বন্ধুত্ব থাকলেও নিয়মিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়।
তবে তাদের পরিচয়ের শুরুতে ছিল একটি ভিন্ন ঘটনা। লাবনী তখন ফেসবুকে একটি ভুয়া পরিচয়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। ওই অ্যাকাউন্টের প্রোফাইলে অন্য এক তরুণীর ছবি দেওয়া ছিল। ফারহান যখন লাবনীর আসল পরিচয় জানতে চান এবং ছবি দেখতে চান, তখনও তাকে ওই তরুণীর ছবিই পাঠান লাবনী।
পরে ভিডিও কলে কথা বলার সময় প্রকাশ পায় তার প্রকৃত পরিচয়।
সত্য জানার পরও ফারহানের সঙ্গে লাবনীর যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। বরং নিয়মিত কথাবার্তার মধ্য দিয়ে তাদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়। একপর্যায়ে লাবনীকে বিয়ের প্রস্তাব দেন ফারহান। পরে বিষয়টি দুই পরিবারকে জানানো হলে তাদের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রায় সাত মাস আগে অনলাইনে বিয়ে করেন লাবনী ও ফারহান। এরপর ফারহান লাবনীকে পাকিস্তানে নিয়ে যান। সেখানে দেশটির আইন ও ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী আবারও তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর প্রায় ছয় মাস পাকিস্তানে একসঙ্গে বসবাস করেন তারা। পরে স্ত্রীকে নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে আসেন ফারহান। বর্তমানে কুষ্টিয়ায় বসবাস করছেন এই দম্পতি।
ভিন্ন দেশের নাগরিক হলেও ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে দুজনেরই রয়েছে নানা পরিকল্পনা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজনেরই ১০ বছর মেয়াদি পারিবারিক ভিসা রয়েছে।
বাংলাদেশে বসবাসের পাশাপাশি ব্যবসা করার পরিকল্পনাও করছেন তারা। পাকিস্তান থেকে থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাক এনে অনলাইনে বিক্রির উদ্যোগ নিতে চান এই দম্পতি।বা:প্র









