April 20, 2021

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

ঢাকা থেকে নেপাল ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন।

1 min read
ঢাকা থেকে নেপাল ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন

ঢাকা থেকে নেপাল ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন। যারা নেপাল যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই নিউজ আর্টিকেলটি উপকারে আসবে। অনেকে মনে করেন যে নেপাল ভ্রমণ করতে মনে হয় অনেক টাকা লাগে? ভুল ধারণা থেকে আমি অত্যন্ত সহজ করে বিস্তারিত তুলে ধরব। আপনারা মনোযোগ দিয়ে আমার এই নেপাল ভ্রমণ গাইড ভালো ভাবে পড়বেন তাহলে আপনাদের কাছে খুবই সহজ এবং সকল ধরণের ধারণা পরিস্কার হয়ে যাবে।

 

হিমালয়কন্যা নেপাল এবং নেপালি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণে আপনাকে অল্প খরচে এবং অল্প সময়ে খুবই মনোমুগ্ধ করবে।

আমি এখানে তুলে ধরব কিভাবে অল্প খরচে নেপাল থেকে ঘুরে আসতে পারেন।

জনপ্রতি কত খরচ হবে আমি স্টেপ বাই স্টেপ তুলে ধরব।

 

সর্বপ্রথম আপনাকে করতে হবে পাসপোর্ট ও ভিসা এবং এই গুলোর কমপক্ষে ৫টি ফটোকপি করে পাসপোর্টের সাথে রাখবেন সেই সাথে আপনার ছবি ৫/৬ টি রাখবেন। পাসপোর্ট বা ভিসা কিভাবে করবেন তার লিংক আমি নিচে দিয়ে দিব।

Dhaka To Nepal Tour

ঢাকার গাবতলী থেকে উত্তর বঙ্গের বুড়িমারী পোর্ট পর্যন্ত অনেক এসি এবং নন এসি পরিবহনের বাস যায়। নন এসি বাসের মধ্যে হানিফ, শ্যামলী, নাবিল, এস আর ভাড়া -৬৫০ টাকা। এসি বাসের মধ্যে এস আর ট্র্যাভেলস ভাড়া-৮০০টাকা।

 

ঢাকা থেকে এই সকল গাড়ি গুলি ছাড়ে রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর বর্ডারে পৌঁছায় সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে। সকালে নাস্তা বাংলাদেশ বর্ডারে করে নিন। তার পর বাংলাদেশ বর্ডার এবং ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডারে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে নিন। যদি নিজেদের ইমিগেশনের কাজ করতে সমস্যা হলে এখানে দালাল পেয়ে যাবেন যারা এপার ১০০টাকা এবং ঐপার ১০০ টাকার বিনিময়ে আপনাকে পাসপোর্ট এবং ইমিগ্রেশনের কাজ করে দিবে। তার পর চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে ভারতের রাণীগঞ্জ বর্ডারের উদ্দেশ্যে রওনা করতে হবে। রাণীগঞ্জ বর্ডারে যাওয়ার দুইটি পথ ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রথমটি হলো চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে টাটার রেন্ট এ কারে করে রাণীগঞ্জ বর্ডার পর্যন্ত পেতে পারেন। চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে রাণীগঞ্জ বর্ডার পর্যন্ত দুরত্ব হলো প্রায় ১০৭ কিলোমিটার এবং সেক্ষেত্রে ভাড়া পড়বে ২০০০ / ২৫০০ রুপি। সময় লাগবে ৩ঘন্টা।

ঢাকা থেকে নেপাল ভ্রমণ

তাছাড়া চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে কুচবিহার হাইওয়ে পর্যন্ত অটোরিক্সায় ২০ রপি ভাড়া নিবে তার পর বাসে চলে যাবেন শিলিগুঁড়ি ভাড়া পড়বে ৮০ রুপি। এখান থেকে আর একটি বাসে পানির ট্যাংকি যেতে হবে। তারপর পায়ে হেটে পৌঁছে যাবেন ভারতের রাণীগঞ্জ বর্ডার। চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে এভাবে যেতে মোট খরচ হবে ১২০ রুপি। সময় লাগবে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা।

 

এখানে মাথায় রাখতে হবে আপনাকে বিকাল ৩ থেকে ৪টার মধ্যে পৌঁছাতে হবে। কারন ইমিগ্রেশন অফিস বিকাল ৫টার মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। অতএব আপনাকে ভারত বর্ডার এবং নেপালের কাকড় ভিটা ইমিগ্রেশন অফিসের কথা ভালো ভাবে মাথায় রাখতে হবে।

 

নেপালের কাকড়ভিটা ইমিগ্রেশন অফিসে পাসপোর্ট এর কাজ শেষ হলে পায়ে হেটে চলে যাবেন কাকড়ভিটা বাস স্টান্ড। এখান থেকে দুপুর ৩ থেকে ৫টার মধ্যে কাঠমুন্ডু ও পোখারা (নেপাল ভ্রমণ) উদ্দেশ্যে এসি বাস এবং নন এসি বাস ছেড়ে যায়। এসি বাসের ভাড়া ১৮০০ রুপি এবং নন এসি বাসের ভাড়া ১৪০০ রুপি। নেপালের কাকড়ভিটা থেকে পোখারার দুরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। সময় লাগবে প্রায় ১৪ থেকে ১৫ ঘন্টা।

 

আপনারা চাইলে আকাশ পথে বিমানে করে কাঠমুন্ডু যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে খরচ একটু বেুশি পড়বে। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু চলাচল করে প্রতিদিন। ঢাকা থেকে কাঠমুন্ডু যেতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘন্টা ৩০ মিনিট। বোর্ডিং কার্ড  সময় চেষ্টা করবেন বাঁদিকের সিট নিতে। তাহলে আপনি ল্যান্ডিংয়ের সময় হিমালয় একনজরে দেখে নিতে পারবেন। ত্রিভুবন এয়ারপোর্টে ঢোকার মুখে নিরাপত্তা তল্লাশি চৌকিতে দীর্ঘ লাইন হওয়া খুব স্বাভাবিক ঘটনা।

যারা বাংলাদেশ বিমানে করে নেপালের কাঠমুন্ডু যাবেন তারা ত্রিভুবন এয়ারপোর্ট থেকে বিনামুল্যে অন এ্যারাইভাল ভিসা করে নিবেন। ভিসা করার সময় পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। যদি কোন কারনে ছবি নিতে ভুলে যান তাহলে এখান থেকে ছবি তুলে নিতে পারবেন। ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট সম্পর্কে আমি আগেই বলেছি কি কি কাগজ পত্র সাথে রাখতে হবে। প্রয়োজনে সেগুলো আর একবার দেখে আসতে পারেন উপরে। এয়ারপোর্ট থেকে ডলার এক্সচেঞ্জ করে নিন। সরকারি এজেন্সি থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করুন। সরকারি এজেন্সির গাড়িচালক এবং গাড়িগুলো আস্থাভাজন।

নেপাল ভ্রমণ

আপনার সুন্দর ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য পূর্ব পরিকল্পনা করে নিন তাহলে যাত্রা খুবই সহজ হবে। আর যদি আপনারা তিন

থেকে চার জনের একটি গুরুপ করে যেথে পারেন তাহলে খরচটা একটু কম হবে।

কাঠমুন্ডু পর্যটন এলাকার নাম থামেল। এটি কাঠমুন্ডুর পুরোনো এলাকার দিকে অবস্থিত। প্রতিটি গলিতে হোটেল, রেস্তোরাঁ

এবং কেনাকাটার প্রচুর দোকান আছে। বেশির ভাগ ভ্রমণকারী থামেলেই থাকেন। ইন্টারনেট থেকে দেশে বসেই দেখে নিতে

পারেন আপনার বাজেট অনুসারে হোটেলগুলোর অবস্থা। সব থেকে ভালো হয় সরাসরি থামেলে পৌঁছে পায়ে হেঁটে কিছু হোটেল

দেখে নিয়ে বুকিং করা। চেক- ইনের সময় দেখে নিন হোটেলে গরম পানি, ওয়াই-ফাই, পরিস্কার লিনেন ইত্যাদি প্রয়োজনীয়

জিনিস আছে কিনা? এ হোটেল গুলো প্রতিদিন ভাড়া পড়বে বাংলাদেশি ঢাকায় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে।

 

আপনার হোটেলের কাছাকাছি পাবেন খাবার হোটেল। কাঠমান্ডু থেকে একটি মোবাইল সিমকার্ড কিনে নিন ইন্টারনেট সহ।

নেপালে ফোনকলের খরচ অনেক বেশি। ইন্টারনেট থাকলে বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে ফ্রি যোগাযোগের সুযোগ পাবেন।

 

প্রথম দিনের বাকি সময় থামেল ঘুরে দেখতে পারেন।এখানে আছে দরবার স্কয়ার, গার্ডেন অব ড্রিমস সময়টা ভালোই লাগবে।

ওপেন এয়ার রেস্তোরাঁর গানের আওয়াজ আর বাতাসে প্রেয়ার ফ্ল্যাগের আলোড়ন আপনাকে আমোদিত করবে।

 

দ্বিতীয় দিনটি রাখা উচিত কাঠমান্ডু ও তার আশপাশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার জন্য। আর যদি তিন–চার

দিনের ছোট ট্যুর হয়, তবে দিনটা শুরু করা উচিত নগরকোটে সূর্যোদয় দেখে। সাধারণত, যে হোটেলে থাকবেন, সেখান থেকে

পরের দিনের দর্শনীয় স্থানগুলো দেখার সার্ভিস নিতে পারেন। প্রতিটি হোটেলের নিজস্ব গাড়ি বা পরিচিত এজেন্সি থাকে, যেগুলো

এই কাজে নিয়োজিত। আপনি সারা দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে নিতে পারেন। খরচ আনুমানিক ৫ থেকে ৭ হাজার বাংলাদেশি

টাকায় লাগবে। নগরকোটে সূর্যোদয় দেখতে চাইলে মাঝরাতে রওনা হতে হবে। এখানে আপনাকে ড্রাইভার বা গাইডের ওপর

নির্ভর করতে হবে। গাইড আপনাকে জানিয়ে দেবে সবকিছু।

নেপাল ভ্রমণ

নেপালে প্রথমবার হলে ড্রাইভার বা গাইডের সঙ্গে পরামর্শ করে নিতে পারেন আপনার ভ্রমণ পরিকল্পনা নিয়ে। আর নেপালে

যাওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকলে গুগল ম্যাপ দেখে আপনার পরিকল্পনা ঠিক করে ড্রাইভার বা গাইডকে জানান। কাঠমান্ডু ও

তার আশপাশের মূল দর্শনীয় স্থানগুলো হলো কাঠমান্ডু দরবার স্কয়ার, শয়ম্ভুনাথ মন্দির, বৌদ্ধনাথ মন্দির, পশুপতিনাথ

মন্দির এবং প্রাচীন ভক্তপুর শহর। এর বাইরেও রয়েছে বহু মন্দির ও চক এবং স্কয়ার।

 

এখান থেকে বাসে  পোখারা যেতে পারবেন। যে হোটেলে থাকবেন তারা আপনাকে সব ব্যবস্থা করে দেবে। অথবা আপনিও একটু

খবর নিয়ে পোখারা যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে ফেলতে পারেন গুগলের সাহায্য নিয়ে।

 

সন্ধ্যায় ক্যাফে আর পাবগুলো জাক জোমক হয়ে ওঠে পোখারার লেক রোডে। ঘুরে দেখতে পারেন বিভিন্ন দোকান, কেনাকাটার জন্য।

পোখারায় কিছু নামকরা নেপালি খাবারের দোকান আছে। রাতের খাবার সারতে পারেন এগুলোতে।

 

পোখারা থেকে কাঠমান্ডু ফিরবেন বাসে করে। বিকেল ও সন্ধ্যাটা ঘুরেফিরে, কিছু শপিং করে চলে যাবে। পরদিন ফিরতি ফ্লাইট।

একটু সময় নিয়ে চলে যান এয়ারপোর্টে। যথারীতি চেষ্টা করবেন বাঁ দিকে আসন নেওয়ার। তাহলে ফিরতি পথেও দেখা হয়ে যাবে হিমালয়।

 

আর যারা বাই রোডে নেপাল যাবেন তারা একই ভাবে পোখারা বা কাঠমুন্ডু থেকে বাসে ফিরে আসতে পারবেন।