আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

দেবতাখুম বান্দরবান জেলায় অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

1 min read
দেবতাখুম, বান্দরবান

দেবতাখুম বান্দরবান জেলায় অন্যতম দর্শনীয় স্থান। রোয়াংছড়ি উপজেলায় অবস্থিব। নৈসর্গীক বান্দরবানকে বলা হয় খুমের স্বর্গরাজ্য আর এই রাজ্যের শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট নিঃসন্দেহে দেবতাখুম এর কাছেই যাবে। স্থানীয়দের মতে প্রায় ৫০-৭০ ফুট গভীর এই খুমের  দৈর্ঘ্য ৬০০ ফুট যা ভেলখুম থেকে অনেক বড় এবং অনেক বেশী বন্য। দেবতাখুম যেতে হলে প্রথমে রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপতলী আর্মি ক্যাম্প যেয়ে অনুমতি নিয়ে ট্রেক করে শীলবাঁধা পাড়া (লিরাগাঁও) যেতে হবে। অবশ্যই শীলবাঁধা পাড়া থেকে বাঁশের মজবুত ভ্যালা বানিয়ে নিতে হবে। শীলবাঁধা গিয়ে প্রথমে পং সু আং খুম পার হতে হবে। পং সু আং খুম পার হওয়ার পর দেবতাখুমের শুরু। স্থানীয়দের কাছে এটা হলো সোনাখুম। অনেকে আবার মারমা ভাষায় থংচিখুম নামেও ডাকে।

দেবতাখুম এর ট্রেইল যেমন সুন্দর তেমনি ভয়ংকর। বর্ষায় গেলে ট্রেইলের ঝিরি/পাহাড়ের রূপে যেমন

আপনার চোখ আটকাবে তেমনি পিচ্ছিল পাথরে পথে পা ফসকে বড় ধরনের বিপদে পড়ার আশঙ্কাও থাকে পদে পদে।

কোনো কোলাহল নেই, নেটওয়ার্কের বাহিরে। চারিপাশে নিস্তব্ধ সুনসান নিরবতা, যেন এক ভূতুড়ে পরিবেশ।

ফোটা ফোটা পানির শব্দে আরো ভূতুড়ে মনে হবে। প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে উুপভোগ করতে পারেন এখানটায়।

যেন মিশে যাবেন প্রকৃতির সাথে। যাওয়ার পথই আপনাকে বলে দিবে, স্বর্গের পথ কতটা সুন্দর হতে পারে।

rowangchhari

অসম্ভব রকমের এডভেঞ্চার, একেবারে মনকে ভর্য়াত করে দেয়ার জন্য পারফেক্ট দেবতাখুম। ট্রেকিং, এডভেঞ্চার, রিস্ক, ভেলার কায়াকিং সবকিছুর একটি কম্বো প্যাকেজ এই দেবতাখুম। একেবারে নেটওয়ার্কের বাইরে, ভিন্ন এক পরিবেশ। আশেপাশের সব সুনসান। শব্দ হিসেবে থাকবে উপর থেকে পানির ফোটা পরার শব্দ, নিজেদের ভেলার আওয়াজ এবং আপনার কথারই প্রতিধ্বনি। আশেপাশের পরিবেশটা এত ভূতুড়ে আর নিরবতার যে এটা আপনাকে সত্যি সত্যিই রিয়্যেল এডভেঞ্চারের ফিল এনে দিবে। বড় বড় দুই পাহাড়ের মাঝখানের এই খুম (গর্ত/যেখানে পানি জমে) ভিতরের দিকে একদমই অন্ধকার। সূর্যের আলো খুবই সংকীর্ণ।

 

দেবতাখুম যাওয়ার উপায়

যেকোনো জায়গা থেকে প্রথমে বান্দরবান। বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি বাজার যাওয়ার উপায় বাস/সিএনজি। বাসের ক্ষেত্রে, বান্দরবানের রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে রোয়াংছড়ি’র বাস ছাড়ে। বান্দরবান শহর থেকে রোয়াংছড়ি বাসস্ট্যান্ডে যেতে সিএনজি/অটো পাওয়া যায়। জনপ্রতি ভাড়া ১০/১৫ টাকা ।

বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি বাস জনপ্রতি ভাড়া ৬০ টাকা নিবে। সময় ১ ঘন্টা মতন।

আর সিএনজি ক্ষেত্রে বান্দরবান থেকে সরাসরি একদম রোয়াংছড়ি বাজারে সিএনজি পাবেন। সিএনজি রিজার্ভ ৫০০ টাকা।

দেবতাখুম যেতে হলে আপনাকে গাইড নিতে হবে আর রোয়াংছড়ি বাজার থেকেই গাইড নিতে পারেন। কারণ এখানে পুলিশ এন্ট্রি আছে এবং পরে আবার কচ্ছতলীতে আর্মি চেকপোস্টে এন্ট্রি আছে।

রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছতলী যেতে হবে সিএনজিতে। সময় ৩০/৩৫ মিনিট লাগবে।

কচ্ছতলীতে এন্ট্রি করার পর হাঁটা পথ এবং পাহাড় ট্রেকিং করে শীলবাঁধা পাড়া। কচ্ছতলী বাজার পার হলে এরপর কোনো দোকান পাবেন না, তাই পানি অথবা খাবার কিনতে চাইলে  কচ্ছতলী বাজার থেকেই কিনে নিতে হবে। কচ্ছতলী থেকে শীলবাঁধা পাড়ায় যেতে সময় লাগবে ৩০/৪০ মিনিট।

শীলবাঁধা পাড়া থেকে ১০ মিনিটের পথ হাঁটলেই দেবতাখুম। তারপর ভেলা নিয়ে খুমের রাজ্যে। ফেরার পথও একই  রুট।

খরচের বিবরণ

ঢাকা থেকে বান্দরবান নন এসি বাসের ভাড়া জনপ্রতি ৬২০ টাকা এবং এসি বাসের ভাড়া ৯০০-১০০০ টাকা।

বান্দরবান থেকে রোয়াংছড়ি বাস ভাড়া ৬০ টাকা।

বান্দরবান থেকে কচ্ছতলী সারাদিনের জন্য চান্দের গাড়ির ভাড়া ২০০০-২৫০০ টাকা।

রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছতলী সিএনজি ভাড়া আনুমনিক ১৫০-২০০ টাকা।

নৌকা পারাপার, লাইফ জ্যাকেট এবং ভেলা জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা।

গাইডের খরচ ১০০০ টাকা।

 

বিশেষ সতর্কতা

কচ্ছতলীতে গিয়ে গাইডসহ আর্মি ক্যাম্পে রিপোর্ট করতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র/পাসপোর্ট এর দুই কপি ফটোকপি রাখা আবশ্যক।

দেবতাখুম ঘোরার জন্য ভেলার ব্যাপারে আগেই বলে রাখা উত্তম।

নেটওয়ার্ক এ সমস্যা হবে। কচ্ছতলীতে শুধু রবি/এয়ারটেলর নেটওয়ার্ক পাবেন। কিন্তু সেখানে খুম পর্যন্ত যাওয়া আসার পথে আপনি পুরোটাই  নেটওয়ার্কের বাইরে থাকবেন।

ট্রেকিং সু সাথে না থাকলে কিনে নিবেন। ১২০-১৪০ টাকা পড়বে। বান্দরবানেই পাবেন।

দেবতাখুম যাওয়ার পথে শীলবাঁন্ধা ঝর্না নামে একটা ঝর্না পাবেন। যাওয়ার পথে ঝর্নাটা দেখে যেতে ভুলবেন না।

বর্ষাকালেই খুমের আসল সৌন্দর্য দেখা যায়। তবে শীলবাঁন্ধা ঝর্নার পরের ট্রেকিং খুবই চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে কারণ ঝিরিপথ খুবই পিচ্ছিল থাকে। তাই এই ব্যাপারে আগে থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ভালো।

নতুন ট্রেকারদের বর্ষাকাল এড়িয়ে যাওয়ার ভালো কারণ বর্ষার এর ট্রেইলের রুপ ভয়ংকর হতে পারে আপনার জন্য।

অবশ্যই মনে রাখবেন রোয়াংছড়ি বাজার থেকে বান্দরবানের শেষ বাস বিকাল ৫টা। তবে সিএনজি সবসময় পাবেন।