আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

বাংলাদেশ টু ভুটান বাই রোডে ভ্রমণ।

1 min read
বাংলাদেশ টু ভুটান

বাংলাদেশ টু ভুটান বাই রোডে ভ্রমণ। অল্প খরচে ভুটান ভ্রমণ এর পরিক্লপনা করছেন তাদের জন্য এই আমাদের এই ভ্রমণ গাইড খুবই উপকারে আসবে। ভুটানে দেখার মতো অনেক স্থাপত্যশিল্প ও রাফটিং করার মতো রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন। প্রতি বছর ভুটান ভ্রমণ করতে আসেন হাজার হাজার পর্যটক ঘুরে দেখেন থিম্পু, পুনাখা, ও পারো শহরের পর্যটন স্থান গুলো। সার্কভুক্ত দেশ বাংলাদেশ হওয়াতে বাংলাদেশীদের জন্য ভুটান ভ্রমণ অনেক অনেক সুবিধাজনক।

ভুটান ভ্রমণ উপযুক্ত সময়

ভুটান ভ্রমণ বা থিম্পু ভ্রমণের উপযুক্ত টাইম সেপ্টেম্বর- নভেম্বর পর্যন্ত এই সময় বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত টাইম।

কিভাবে বাই রোডে ভুটান যাবেন?

বাংলাদেশ থেকে ভুটানের দূরত্ব অনেক কম। তাই ট্রানজিট ভিসা নিয়ে বাই রোডে যেতে পারেন ভুটান। আপনাকে প্রথমে পাসপোর্ট ও ভিসা এবং এই গুলির কমপক্ষে ৬/৭টি কপি করে পাসপোর্টের

সাথে রাখবেন সেই সাথে আপনার ছবি ৬/৭ টি রাখবেন। পাসপোর্ট বা ভিসা কিভাবে করবেন তার লিংক আমি নিচে দিয়ে দিব।

ঢাকা শ্যামলী, গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত অনেক এসি এবং নন এসি পরিবহনের বাস যায়।

নন এসি বাস যেমন- হানিফ, শ্যামলী, নাবিল এবং এস আর -ভাড়া-৬৫০ টাকা। এসি বাস এস আর ট্র্যাভেলস ভাড়া-৮০০টাকা।

ঢাকা থেকে যাত্রা

ঢাকা থেকে গাড়ি রাত ৮-৯টার মধ্যে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সকাল ৭-৮টার মধ্যেই বুড়িমারী সীমান্তে আপনাকে পৌঁছে দেবে। বাংলাদেশ বর্ডারে পৌঁছে যাওয়ার পর সকালের নাশতা করে নিতে হবে। তারপর দুই দেশের ইমিগ্রেশন (বাংলাদেশ ও ভারতের) পাড়ি দিন। আপনি যখন চ্যাংড়াবান্ধায় পৌঁছে যাবেন, অল্প একটু পথ পায়ে হেঁটে বাসে উঠতে পারবেন।

এবারের গন্তব্য জয়গাঁ বর্ডার। চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে ট্রেক্সিতে  যেতে সময় লাগবে দুইঘন্টা ত্রিশ মিনিট।

একটি টেক্সিতে ৪ জন যেতে পারবেন ভাড়া ১৫০০ রুপি মতো পড়বে। ভারতের জয়গাঁ বর্ডারে পৌছে ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করতে হবে।

এখানে সময় বেশি লাগেনা। তার পর পায়ে হেটেঁ ৫০০ গজ সামনে এগিয়ে গেলে পেয়ে যাবেন ভুটানের বর্ডার।

ভুটানে যে সকল বাংলাদেশিরা যাবেন তার অনএরাইভাল ভিসা পাবেন।

তবে এখানে আপনাকে ইমিগ্রেশন অফিস থেকে একটি ফর্ম দিবে সেই ফর্মটি পুরন করবেন।

পাসপোর্টের ফটো কপি এবং থিম্পুতে যে হোটেলে থাকবেন তার ঠিকানা দিলে আপনি পেয়ে যাবেন ভুটানের ভিসা।

এখানে ভিসা ফি লাগেনা। এখানে উল্লেখ্য যে এই দুইটি বর্ডারে কোন প্রকার দালাল বা কোন প্রতারক নেই।

ঝামেলা ছাড়াই ইমিগ্রেশনের কাজ দ্রুত করতে পারবেন।

ইমিগ্রেশনের কাজ শেষ করে খাবার খেয়ে যাত্রা শুরু করতে হবে থিম্পুর শহরের দিকে।

এখান থেকে টেক্সি নিয়ে থিম্পু শহরে রওনা করুন যেতে সময় লাগবে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা।

ভাড়া পড়বে ৩০০০ থেকে ৩৫০০ রুপি, পাহাড়ী আকাঁবাকাঁ রাস্তা পেরিয়ে এক সময় পৌছে যাবেন থিম্পু শহরে।

আপনি চাইলে বাসেও যেতে পারবেন ভুটান বর্ডার থেকে থিম্পু। সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪ পর্যন্ত

ভুটান বর্ডার থেকে বাস ছেড়ে যাই থিম্পুর উদ্দেশ্যে। সময় লাগে ৬ ঘন্টা। জন প্রতি ভাড়া লাগবে ২৫০ রুপি।

এছাড়া আপনি বিমানে বাংলাদেশ থেকে ভুটানে যেতে পারবেন। ৪ রাত ৫দিনের প্যাকেজে খরচ পড়তে পারে ২২ থেকে ২৩ হাজার টাকা।

খরচের একটি বর্ণনা

সাধারন ট্র্যাভেলার ৪ জনের গুপে গেলে জন প্রতি খরচ হতে পারে ১৫ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকা।

ব্যাকপ্যাকার ট্র্যাভেলার ৪ জনের গুপে গেলে জন প্রতি খরচ হতে পারে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা।

বিমানে গেলে ৪ জনের গুপে জনপ্রতি খরচ হতে পারে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

চ্যাংড়াবান্ধা বর্ডার থেকে থিম্পু শহর যেতে যেতে রাত ৯টা থেকে ১০ টা বেজে যাবে। হোটেলে উঠে রাতের খাবার খেয়ে  প্রথম দিন এখানেই শেষ হয়ে যাবে।

দ্বিতীয় দিন

দ্বিতীয় দিনে থিম্পু শহরটা ঘুরে দেখুন। খুব সকালে নাস্তা খেয়ে বের হয়ে পড়ুন। হাঁটা দূরত্বের মধ্যে থিম্পু শহরে দেখতে পারবেন সিটি ভিউ পয়েন্ট, মেমোরিয়াল চর্টেন, ক্লক টাওয়ার, থিম্পু নদী, থিম্পু জং, লাইব্রেরি, থিম্পু ডিজং ও পার্লামেন্ট। আর শহর থেকে একটু দুরত্বের জায়গা গুলো দেখতে হলে ট্যাক্সিতে ঘুরে দেখতে হবে। যেমন- ন্যাশনাল তাকিন সংরক্ষিত চিড়িয়াখানা, বুদ্ধ দর্দেনমা স্ট্যাচু, থিম্পু ন্যাশনাল মেমোরিয়াল চর্টেন। এর মধ্যে বাইরে কোথাও দুপুরের খাবার খেয়ে নিন। তাসিং ডিজং এর পাশেই ইমিগ্রেশন অফিস। এখানে আবেদনপত্র পূরণ করে পুনাখা শহরে টোকার পারমিট নিতে হবে এবং আগামী দিন সকালে পুনাখা যাওয়ার জন্য অগ্রিম বাসের টিকেট কেটে রাখতে হবে। কারন থিম্পু থেকে সারা দিন মাত্র দুইটা বাস পুনাখাতে ছেড়ে যায়। আবার ট্যাক্সি শেয়ার করেও পুনাখা যেতে পারেন। সেই ক্ষেত্রে সময় ১ ঘণ্টা কম লাগবে ।

butan-tour-plan-thimpu

৩য় দিন

সকাল সকাল থিম্পু থেকে পুনাখা চলে যাবেন। এখানে আসলে গাড়ি ভাড়া করে পুরো শহরটা দেখে নিলে ভালো হবে। প্রথমেই যেতে পারেন দোচুলা পাস কারণ ওখানে যাওয়া বেশ সময় সাপেক্ষ আর ফেরার পথে আরও কিছু স্থান দেখতে পাবেন। দোচুলা পাস ঘুরতে ৩.৫ থেকে ৪ ঘণ্টা মতো লাগবে। তারপর ফেরার পথে পুনাখা জং, ন্যাশনাল লাইব্রেরি, আর্ট স্কুল, ফোক হেরিটেজ মিউজিয়াম এই জায়গাগুলো দেখা যেতে পারে।

৪র্থ দিন

খুব সকালে বের হয়ে লাখাং মন্দির, পেলিরি মন্দির, তালো মনস্ট্রি দেখে ফু ছু নদীতে রাফটিং এর জন্য যেতে পারেন। আর রাফটিং এর সাথেই সাসপেনশন ব্রিজ দেখা হবে। সময় থাকলে ন্যাশনাল পার্ক আর টর্সা ন্যাচারাল রিজার্ভার দেখে আসতে পারেন। তবে, সন্ধ্যার মধ্যে পুনাখা থেকে থিম্পু হোটেলে ফিরে আসলে ভালো কারণ পরের দিন আবার পারোর উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হবে। তাই রাতে ভালো ঘুমের দরকার আছে।

punakha

৫ম দিন

পুনাখা থেকে সকালে ট্যাক্সি ভাড়া করে পারো যেতে পারবেন। সকালে চলে যেতে পারেন চেলে লা পাসে যা ভুটানের সবচেয়ে উঁচু রাস্তা। এখান থেকে জলমহরি পর্বত দেখা যায়। তারপর এক এক করে ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে টাইগারস নেস্ট, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, রিনপুং জং, পারো মনস্ট্রি, কিচু মনস্ট্রি, পারো চু সহ আরও কিছু জায়গা ঘুরে দেখবেন। পারোতে একদিন থেকে তাং সাং দেখলে ভালো হবে কারণ শহর থেকে তাং সাং ৮০ কিলো দূরে। আর রাতে পারোতেই থাকা ভালো আর সন্ধ্যার আর সন্ধ্যার মধ্যেই সকালে ফুন্টশোলিং যাবার টিকিট কেটে রাখতে হবে।

৬ষ্ঠ দিন

এই দিন সকাল সকাল রওনা দিতে হবে কারণ জয়গাঁও ও বুড়িমারীতে ব্যাপার আছে। তাই সময় থাকলে তাং সাং দেখে নিতে পারেন যদি আগের দিন ট্যাক্সি ঠিক করে রাখবেন। তারপর ফুন্টশোলিং এসে ইমিগ্রেশন শেষ করে এক্সিট সিল নিয়ে নিন। বাসে যাবার ক্ষেত্রে আগরে মতোই ভুটান গেট থেকে জয়গাঁও-ময়নামতি বা হাসিমারা-চ্যাংড়া বান্ধা – বুড়িমারী বর্ডার হয়ে ঢাকায় ফিরতে হবে।