tag: বান্দরবান জেলা সদরে সকল দর্শনীয় স্থান। | বান্দরবান ভ্রমণ গাইড | Travel
Mon. Mar 8th, 2021

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

বান্দরবান জেলা সদরে সকল দর্শনীয় স্থান।

1 min read
বান্দরবান জেলা সদরে সকল দর্শনীয় স্থান

বান্দরবান জেলা সদরে সকল দর্শনীয় স্থান । প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অবারিত সবুজের সমারোহ আর মেঘ ছুঁয়ে দেখার ইচ্ছে যার আছে সে বাংলাদেশ এর পাহাড়ী কন্যা বান্দরবান ঘুরে আসতে পারেন।

 

বান্দরবান জেলায় ঘুরে দেখার মতো জায়গা গুলোর মধ্যে উল্লেখিত জায়গা গুলো অন্যতমঃ ১। নীলগিরি, ২। চিম্বক পাহাড়, ৩। শৈলা প্রপাত, ৪। মিলনছড়ি, ৫। স্বর্ণমন্দির, ৬। মেঘলা পর্যটক কমপ্লেক্স, ৭। নীলাচল, ৮। সাঙ্গু নদী, ৯। তাজিংডং, ১০। কেওক্রাডং, ১১। জাদিপাই ঝরণা, ১২। বগালেক, ১৩। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স, ১৪। প্রান্তিক লেক, ১৫। ঋজুক জলপ্রপাত, ১৬। নাফাখুম জলপ্রপাত, ১৭। রেমাক্রি । এছাড়া বান্দরবানের কয়েকটি ঝিরি রয়েছে।

এতগুলো জায়গা একসাথে দেখা সম্ভব নয়। তবে বান্দরবান শহরের আশে পাশে একদিনে যে জায়গা গুলো ঘুরে দেখতে পারবেন তা হলোঃ ১। নীলগিরি, ২। চিম্বক পাহাড় এবং ভাইরাল প্লেস, ৩। শৈলা প্রপাত, ৪। মিলনছড়ি, ৫। স্বর্ণমন্দির, ৬। মেঘলা পর্যটক কমপ্লেক্স, ৭। নীলাচল।

ঢাকা থেকে যাতায়াত ব্যবস্থা

ঢাকা থেকে আপনি নন এসি বাসে, এসি বাসে, ট্রেনে যেতে পারবেন। বাস সার্ভিসের মধ্যে শ্যামলী, ঈগল,

ইউনিক বাস সার্ভিস সরাসরি বান্দরবান যাতায়াত করে। নন এসি বাসের ভাড়া ৬২০ টাকা এবং

এসি বাসের ভাড়া ৯০০ টাকা থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে। এই সকল বাস গুলো আরামবাগ, গাবতলী,

আব্দুল্লাহপুর, সায়েদাবাদ থেকে রাত ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে বান্দরবানের উদ্দ্যেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে যায় এবং

এই বাস গুলি খুব ভোরে বান্দরবান বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছে যায়।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের দুরত্ব ৩২০ কিলোমিটার। যেতে সময় লাগবে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা।

 

চট্রগ্রাম থেকে বান্দরবান যাওয়া যায়। বাংলাদেশ এর যে কোন জায়গা থেকে বান্দরবান যেতে হলে চলে আসুন চট্রগ্রাম বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল। এখান থেকে বাসে করে যেতে হবে প্রকৃতি কন্যা বান্দরবান। ভাড়া জন প্রতি ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। প্রতি ৩০ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যায় এখান থেকে। সময় লাগবে প্রায় ৩ ঘন্টা।

 

নীলগিরি

নীলগিরি পাহাড় এর উচ্চতা সমুদ্র পৃষ্ঠা থেকে প্রায় ৩ হাজার ২০০ ফুট। এই পাহাড়টি বান্দরবান জেলার থানছি উপজেলায় অবস্থিত। বান্দরবান সদর থেকে নীলগিরির দুরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পূর্ব দিকে এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান। এই পর্বতের সাথেই রয়েছে বাংলাদেশ এর সবচেয়ে অবহেলিত উপজাতী সম্প্রদায় ম্রো পল্লী। যাদের বিচিত্র সংস্কৃতি দেখার মত। বর্ষা মৌসুমে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্র থেকে মেঘ ছোঁয়ার দূলর্ভ সুযোগ রয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নীলগিরি থেকে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখা যায়। বান্দরবানের সবচেয়ে সুন্দর ও আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র এটি। যা বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর তত্তাবধানে পরিচালিত হয়। এর পাশেই রয়েছে সেনা বাহিনীর ক্যাম্প। বান্দরবান জেলা সদর থেকে নীলগিরি পর্যটন কেন্দ্রের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় অধিকাংশ পর্যটক দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসে।

বান্দরবান বাস স্ট্যান্ডের পাশে চাঁন্দের গাড়ি স্টেশন থেকে জিপ, ল্যান্ড রোভার, ল্যান্ড ক্রুজার সহ অন্যান্য গাড়িও ভাড়ায় পাওয়া যায়। নীলগিরি যাওয়ার পথে মিলনছড়ি সেনা চেকপোস্টে পর্যটকদের নাম, ঠিকানা ও ভোটার আইডি নম্বর দেখিয়ে লিপিবদ্ধ করতে হয়। বান্দরবান জেলার সদর থেকে সাধারণত বিকাল ৫টার পর নীলগিরির উদ্দ্যেশে আর  কোন গাড়ি যেতে দেয়া হয় না। তাছাড়া নিরিবিলিতে স্বপরিবারে কয়েকটা দিন কাটাতে এটি একটি আদর্শ জায়গা। এরজন্য  বান্দরবান সদর সেনা রিজিয়নে বুকিং দেয়া যায়। যোগাযোগ করতে হবে- পেট্রো এভিয়েশন: ৬৯/২, লেভেল-৪, রোড-৭/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা এই ঠিকানায়।

 

স্বর্ণমন্দির

বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের মন্দির বা প্যাগোডা। যেটার অনেক নাম মহাসুখ প্রার্থনা পূরক বৌদ্ধধাতু চেতী। তবে স্বর্ণমন্দির নামেই এটা পরিচিত বেশি। বান্দরবানের উপশহর বালাঘাটার পুল পাড়ায় এর অবস্থান। এই মন্দির বান্দরবান জেলার সদর থেকে ৪ কিলোমিটার দুরত্ব। সুউচ্চ পাহাড়ের চুড়ায় সুদৃশ্য এই স্বর্ণমন্দিরটির আসলে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি পবিত্র তীর্থস্থান। নামেই বোঝা যায় এটির রঙ সোনালি। দেশ বিদেশে থেকে অনেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী এখানে প্রার্থনা করতে আসেন। গৌতমবুদ্ধের সমসাময়িক কালে নির্মিত বিশে^র সেরা কয়েকটি বুদ্ধ মুর্তির মধ্যে একটি এখানে রয়েছে। এটি বৌদ্ধ মন্দির বা প্যাগোডাটি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সেরা প্যাগোডা গুলোর মধ্যে অন্যতম। পাহাড়ের উপর একটি পুকুর আছে যা দেবতা পুকুর নামে পরিচিত। এই প্যাগোডা থেকে বান্দরবানের বালাঘাটা উপশহর আর আশপাশের সুন্দও নৈস্বর্ঘিক দৃশ্য দেখা যায়।

এছাড়া বান্দরবান রেডিও স্টেশন, বান্দরবান থেকে চন্দ্রঘোনা যাওয়ার আঁকাবাঁকা পথটাও দেখতে বেশ ভালো লাগে। এই প্যাগোডা একটি আধুনিক ধর্মীয় স্থাপত্যের নিদর্শন। প্রতিবছর নির্দিষ্ট সময়ে এখানে মেলা বসে। এই প্যাগোডাটি পুজারীদের জন্য সারাদিন খোলা থাকে আর ভিন্ন ধর্মাবলম্বী দর্শনাথীদের জন্য বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খুলে দেওয়া হয়।

 

মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স

বান্দরবান শহরে ঢুকতে বান্দরবান কেরাণীহাট রাস্তার পাশেই পার্বত্য জেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এটি অবস্থিত। পাহাড়ের খাদে বাঁধ নির্মাণ করে কৃত্রিম হ্রদের সৃষ্টি করা হয়েছে। বান্দরবান শহর থেকে এই কেন্দ্রেটির দূরত্ব ৪ কিলোমিটার। বেড়াতে আসা পর্যটকদের চিত্ত বিনোদনের জন্য এখানে রয়েছে শিশুপার্ক, নৌকা ভ্রমণের সুবিধা, ঝুলন্ত সেতু মাধ্যমে চলাচলের ব্যবস্থা এবং সাময়িক অবস্থানের জন্য একটি রেস্টহাউজ। এছাড়া আকর্ষণীয় একটি চিড়িয়াখানা এই কেন্দ্রের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে বহুগুন। বান্দরবান জেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্তাবধানে পরিচালিত হয়।

নীলাচল শুভ্রনীলা

বান্দরবান জেলার সদরের প্রবেশ মুখ টাইগার পাহাড় কাছাকাছি পাশাপাশি অবস্থিত এ পর্যটন কেন্দ্র দুটি। নীলাচল জেলা প্রশাসন ও শুভ্রনীলা বান্দরবান পার্বত জেলা পরিষদের সার্বিক তত্তাবধানে এই পর্যটন কেন্দ্র দুটি পরিচালিত হয়। নীলাচলের উচ্চতা প্রায় ১৭০০ ফুট। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এ পাহাড়ের উপর নির্মিত এ দুটি পর্যটন কেন্দ্র থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার দৃশ্য দেখতে খুবই মনোরম।

চিম্বুক পাহাড়

বাংলাদেশ এর তৃতীয় বৃহত্তম পর্বত। চিম্বুক পাহাড় ভ্রমণ পিয়াসুদের কাছে পরিচিত নাম। বান্দরবান জেলা সদর থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে চিম্বুক পাহাড়ের অবস্থান। সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৩২০০ ফুট। চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার দুই পাশের পাহাড়ী দৃশ্য খুবই মনোরম। যাওয়ার পথে সাঙ্গু নদী চোখে পড়ে। পাহাড়ের মাঝে বাংলাদেশ এর সর্বোচ্চ সড়ক দিয়ে এঁকেবেঁকে যাওয়ার সময় মনে হবে গাড়িতে করে বুঝি চাঁদের বুকে পাড়ি জমাচ্ছেন। ৩২০০ ফুট উঁচুতে দাঁড়িয়ে এ অপরূপ বিচিত্র প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে পাবেন চিম্বুকে। পাহাড়ের উপর দাঁড়িয়ে দেখতে পাবেন নিচে  ভেসে যাচ্ছে মেঘের ভেলা। পার্শ্ববর্তী জেলা কক্সবাজার আর চট্টগ্রাম এর বিভিন্ন উপজেলা গুলোকে দেখা যায় এখান থেকে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের পাশ দিয়ে ভেসে যাওয়া মেঘ দেখে মনে হয় মেঘের স্বর্গরাজ্য চিম্বুক পাহাড়।

থানছি সড়ক দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় এখানে হোটেল বা রেস্তরাঁ গড়ে ওঠেনি।

জেলা প্রশাসকের তত্তাবধানে একটি রেস্টহাউজ আছে। জেলা প্রশাসকের অনুমোতি ক্রমে

রাত্রি যাপনের সুয়োগ রয়েছে। চিম্বুকের পাশে সেনাবাহিনীর ক্যান্টিন রয়েছে।

এখানে সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া খাবারের জন্য বান্দরবান থেকে চিম্বুক

যাওয়ার পথে হালকা খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে রওনা দেওয়াটাই সবচেয়ে ভালো।

রাস্তা বেশ দূর্গম হওয়ায় বাসে যাতায়াত করা ঝুঁকিপূর্ণ। চিম্বুক-থানছি পথে বিকাল ৫টার পরে

কোনো গাড়ি চলাচল করে না। তাই পর্যটকদের ৫টার মধ্যে ফিরে আসা উচিত।

 

শৈলপ্রপাত

বান্দরবান রুমা রাস্তায় ৮ কিলোমিটার দূরে শৈলপ্রপাত অবস্থিত। এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি।

সারাক্ষণ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণতে নামা বেশ কঠিন। বছরের বেশিভাগ সময় পর্যটকদের ভিড় বেশি দেখা যায়।

এখানে দূর্গম পাহাড়ের কোল ঘেঁষে আদিবাসী বম সমপ্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায়।

বান্দরবান শহর থেকে চাঁদের গাড়ি কিংবা জীপ ভাড়া করে শৈলপ্রপাতে যাওয়া যায়।

মিলনছড়ি

মিলনছড়ি বান্দরবান শহর থেকে ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পূর্ব শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার পথে পড়ে।

এখানে একটি পুলিশ পাড়ি আছে। পাহাড়ের বেশ উপরে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং

সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁরে গতিতে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নামের মোহনীয় নদীটি দেখা যাবে।

এই জায়গা গুলো দেখতে যাওয়া-আসা মিলিয়ে হাতে তিন থেকে চার দিনের সময় নিয়ে যেতে হবে।

সবচেয়ে ভালো হয় রাতে ভ্রমণ করে ভোরে বান্দরবান পোছানো। আর সেখান থেকে বিকালে রওনা দিয়ে ফিরে আসা।

এতে করে দুই দিনেই বান্দরবানের এই জায়গা গুলো ঘুরে আসা সম্ভব।

একটি জীপ ভাড়া করে এই এলাকা গুলো ঘুরে আসতে খরচ পড়বে ৫ হাজার টাকার মতো।

একটি জীপ গাড়িতে ১২ থেকে ১৫ জন বসতে পারে।