কুমিল্লায় কিশোরী তানজিম হত্যা কক্সবাজারে বন্ধু রাজু গ্রেপ্তার

অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তানজিম হত্যার ঘটনায় কক্সবাজার থেকে তার বন্ধু রিয়াজ উদ্দীন ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করেছে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় রাতেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) অহিদুর রহমান থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এসময় তিনি জানান, কিশোরী তানজিমকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় কুমিল্লায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই মামলার তদন্ত কর্মকর্তার পরামর্শ মতে রিয়াজ উদ্দীন ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) অহিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কুমিল্লার কিশোরী তানজিমের মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। কী কারণে তিনি কক্সবাজারে এসেছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং ঘটনার পেছনে কী পরিস্থিতি কাজ করেছে–এসব বিষয় সামনে আসে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে সন্দেহভাজন হিসেবে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এসময় মিডিয়ায় যে বক্তব্য দিয়ে আসছিলো তাই জানিয়েছে।

গ্রেপ্তার রাজুকে বুঝে নিতে রাতেই কক্সবাজার রওয়ানা হয় কুমিল্লার একদল পুলিশ। রাজুকে তাদের হাতেই সোপর্দ করা হবে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) অহিদুর রহমান। গত ৮ অক্টোবর রাতে কুমিল্লায় অটোটেক্সি চালক সুমনের হাতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিন (১৫)! মৃত্যুর আগে কক্সবাজার থেকে ফিরেছিলেন। এর আগে ৬ অক্টোবর ভোরে তার বন্ধু রিয়াজ উদ্দীন ওরফে রাজু নামে এক যুবকের আহ্বানে তিনি কক্সবাজার এসেছিলেন। কক্সবাজারে এসে কলাতলী অবস্থিত কুটুমবাড়ি রোডের শেষ মাথায় মেঘলা রিসোর্টে উঠেছিলেন ‘রাজুর স্ত্রী’ পরিচয়ে।

হোটেলের রেজিস্ট্রারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স উল্লেখ করা হয়েছিল ১৮ বছর। ওই দিন সন্ধ্যায় বন্ধু রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে হোটেলটির ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন তিনি। পরদিন ৭ অক্টোবর হোটেল ছেড়ে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন তাজমিন। কক্সবাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে সিএনজি টেক্সিচালক মো. সুমন মিয়ার হাতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন তিনি। নৃশংস্য হত্যার শিকার তাজমিন কেন কক্সবাজার এসেছিলেন এবং তার ফিরতি ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এর প্রেক্ষিতে রিয়াজ উদ্দীন ওরফে রাজুকে বহু জল্পনা–কল্পনার পর গ্রেপ্তার করা হলো।

রিয়াজ উদ্দীন ওরফে রাজুর ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে চাকরি করেন রাজু। তার বাড়ি বান্দরবানের আলীকদমে। তাজমিন সম্পর্কে রাজু জানিয়েছেন, ৫ মাস আগে ইনস্টাগ্রামে তাদের মধ্যে যোগাযোগ হয়। নিয়মিত বার্তা আদান–প্রদান এবং এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রাজু দাবি করেছে, তাজমিনকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

তাজমিনের কক্সবাজার আগমণ সম্পর্কে রাজু জানান, পারিবারিক মনোমালিন্যের পর তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়। সেখান থেকে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলে– সে কক্সবাজার বেড়াতে আসবে। কক্সবাজার আসার জন্য বিকাশে তাজমিনকে ৫০০ টাকাও পাঠান রাজু। তবে তাজমিন হত্যাকাণ্ডে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে রিয়াজ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।আ

মন্তব্য করুন