
বিনোদন ডেস্ক: বলিউডের টেলিভিশন দুনিয়াকে স্তব্ধ করে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন ‘বালিকা বধূ’ খ্যাত অভিনেত্রী প্রত্যুষা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১৬ সালের সেই ঘটনার দীর্ঘ ১০ বছর পরে বড় সিদ্ধান্ত শোনালো বম্বে হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আদালত প্রত্যুষার সেই সময়ের লিভ-ইন পার্টনার তথা অভিনেতা-প্রযোজক রাহুল রাজ সিং-কে প্রাক-বিচারপর্বেই সব অভিযোগ থেকে খালাস করে দেওয়া হয়েছে।
জনপ্রিয় টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘বালিকা বধূ’-তে ‘আনন্দী’ চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন প্রত্যুষা।
২০১৬ সালের ১ এপ্রিল মুম্বাইয়ের ফ্ল্যাট থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি শিবকুমার দিগের একক বেঞ্চে শুনানি চলাকালীন ১ এপ্রিল সেই মর্মান্তিক শেষ ফোনালাপের অডিও ট্রান্সক্রিপ্টকেই মূল প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ট্রান্সক্রিপ্ট থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, প্রত্যুষা চরম মানসিক কষ্টে চরম পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলছিলেন, তখন রাহুল তাকে বারবার তা না করার জন্য অনুরোধ করছিলেন। এমনকী তিনি গাড়ি ঘুরিয়ে প্রত্যুষার ফ্ল্যাটের দিকেই দ্রুত ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
ওই শেষ ফোনালাপে প্রত্যুষা নিজের চরম মানসিক অবসাদের জন্য মা, বাবাসহ একাধিক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেছিলেন।
রাহুলের আইনজীবী আবাদ পোন্ডা এবং শ্রেয়াংশ মিথারে আদালতে যুক্তি দেন যে, এই ফোনালাপই প্রমাণ করে রাহুল প্ররোচনা দেওয়া দূরে থাক, উল্টো তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন। তাই প্রমাণের অভাবে বিচারে টানা আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহার মাত্র।
ঘটনার পর প্রত্যুষার মা-বাবা রাহুলের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলে এফআইআর দায়ের করেন। ২০১৬ সালের জুলাই মাসে বম্বে হাইকোর্ট রাহুল রাজ সিংকে অন্তর্বর্তীকালীন আগাম জামিন দেয়।
এ ঘটনায় ২০১৮ সালে পুলিশ চার্জশিট জমা দিলে রাহুল সেশনস কোর্টে নিজেকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান। তবে তা খারিজ হওয়ায় তিনি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে বম্বে হাইকোর্ট রাহুলের আবেদন মঞ্জুর করে তাকে সম্পূর্ণ খালাস দেয়।বা:নি









