
অনলাইন ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা চলছিল। মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে, যেখানে আসামি রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ মোট আট পুলিশ কর্মকর্তা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেল রায় ঘোষণা করবেন। অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মূল রায় ঘোষণার জন্য ২০ জানুয়ারি নির্ধারিত ছিল, তবে প্রস্তুতির কারণে তা আজকরে স্থগিত হয়।
এই মামলাটি পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম মামলা হলেও রায়ের ক্ষেত্রে এটি দ্বিতীয়। ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। নিহত হয়েছেন শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, ইয়াকুব, রাকিব হাওলাদার, ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া। প্রসিকিউশন ২১ এপ্রিল ৯০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করেন, যা যাচাই-বাছাই শেষে ২৫ মে আনুষ্ঠানিক অভিযোগে পরিণত হয়। একই দিনে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।
আট আসামির মধ্যে চারজনকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তারা হলেন শাহবাগ থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম। বাকি চারজন পলাতক—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।
গ্রেপ্তার আসামিদের উপস্থিতিতে ১৪ জুলাই অভিযোগ গঠন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১১ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী ছিলেন শহীদ আনাসের বাবা শাহারিয়ার খান পলাশ। মোট ২৩ কার্যদিবসে ২৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ১৫ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক শুরু হয়। প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তি-বিরোধ পর্যালোচনা শেষে ২৪ ডিসেম্বর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যা পরে আজকের জন্য পুনঃনির্ধারিত হয়েছে।
প্রসিকিউশন মামলায় ১৯টি ভিডিও, ১১টি পত্রিকার প্রতিবেদন, দুটি অডিও রেকর্ডিং, বই, ১১টি প্রতিবেদন এবং ছয়টি মৃত্যুসনদ সংযুক্ত করেছেন। যুক্তিতর্কে আট আসামি সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেছে। তবে আসামিপক্ষ রায়ে বেকসুর খালাস চেয়েছে, দাবি করে যে প্রসিকিউশনের অভিযোগ সঠিক নয়। আজকের রায়ে নির্ধারণ হবে এই আট পুলিশ কর্মকর্তার ভাগ্য।ই










