স্বদেশেই পাত্তা পায় না বিজেপির শুভেন্দু, বাংলাদেশকে হুঙ্কার দেয়ায় হাস্যরস

সোশাল মিডিয়া ডেস্ক : ছাত্র-জনতাকে গণহত্যা করে ভারতে পালিয়ে যাওয়া ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার এই আসামিকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বাংলাদেশকে একের পর এক হুমকি দিয়ে চলেছেন। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের কড়া জবাবও দিয়েছেন বাংলাদেশিরা। তার ফাঁকা হুঙ্কারে হা হা রিয়েক্টের ঝড় বইছে ফেসবুকে।

ভারতের ইন্ধনে খুনি হাসিনাকে পুনর্বাসনের এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামে চিন্ময়। আর তাকেই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ভারতে বাংলাদেশিদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানান শুভেন্দু। বুধবার কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের দপ্তরে গিয়ে তিনি দাবি জানান, ভিসা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে। সীমান্ত বাণিজ্যেও অনুমোদন বাতিল করা হোক। শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘মেডিক্যাল ভিসাও বন্ধ করতে হবে। তারা চিকিৎসা নিতে করাচি, লাহোর যান, এখানে আসবেন না।

এরআগের দিন মঙ্গলবার বাংলাদেশকে হুমকি দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘২৫ নভেম্বর রাতের মধ্যে চিন্ময় কৃষ্ণ প্রভুকে মুক্তি না দিলে ২৬ নভেম্বর থেকে সীমান্ত সনাতনীরা অবরোধ করবে। ভারত থেকে পশ্চিমবঙ্গ দিয়ে কোনও পরিষেবা বাংলাদেশে ঢুকতে দেব না’। একই সঙ্গে কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনারের অফিসও টানা ঘেরাও অবস্থানের হুঁশিয়ারি দেয় নিজ ভূমি পশ্চিমবঙ্গেই পাত্তা না পাওয়া এই বিজেপি নেতা।

নেটিজেনরা বলছেন, শুভেন্দু মমতার পশ্চিমবঙ্গেই পাত্তা পায় না, অথচ সে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে হুংকার দেয়- এটা কেবলই হাস্যকর। অন্যদিকে, শুভেন্দুর
হিন্দুত্ববাদী ভারতে প্রতিদিন মুসলমান নাগরিকদের উপর নির্যাতন হচ্ছে। তিন দিন আগেও উত্তর প্রদেশে ৫ জন মুসলমানকে হত্যা করা হয়েছে। এ জন্য কি পাকিস্তান বা বাংলাদেশ সীমান্ত অবরোধের হুঙ্কার দিয়েছে?- এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন অনেকে।

দুশ্চরিত্র চিন্ময়কে নিয়ে দ্বিধা-বিভক্ত বাংলাদেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীরাও। তার নানা অপকর্ম নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে চলছে তুমুল বিতর্ক। ভারত ও উগ্র হিন্দুত্বাবাদী বিজেপি এমন একজন রাষ্ট্রদ্রোহী, বিতর্কিত ও অজনপ্রিয় ব্যক্তির পক্ষে ভুয়া তথ্যে ভরা বিবৃতি দিয়ে কেবলই নিজেদের ষড়যন্ত্রের মুখোশ উম্মোচন করেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

আগে থেকেই অভিযোগ রয়েছে, হিন্দু উগ্রবাদী সংগঠন ইসকনের সাবেক এই নেতা ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এমনকি ফ্যাসিস্ট ও খুনি হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সে নেতা বিভিন্ন ষড়যন্ত করে যাচ্ছে। যা বিভিন্ন সময় ফোনালাপের মাধ্যমেই প্রমাণ হয়েছে। চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার পর যদিও ইসকন এখন আর তার কোনো অপকর্মের দায় নিতে রাজি না। যা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা।

ফেসবুকে গোলাম সারোয়ার লিখেছেন, মমতার প‌্রত‌্যাখ‌্যাত থার্ডক্লাস পোডাক্ট শু‌ভেন্দ্রু বাংলা‌দেশ‌কে হুম‌কি দেয়, ও কি জা‌নেনা মোদীর সমর্থনপুষ্ট গনহত‌্যাকারী, মহা পরাক্রমশালী হা‌সিনা‌কেও এদে‌শের জনগণ পালা‌তে বাধ‌্য ক‌রে‌ছে? ইসকনও অপকর্ম ক‌রে এদে‌শে থাক‌তে পার‌বে ব‌লে ম‌নে হয়না।

মোহাম্মদ আজমত হোসাইন লিখেছেন, ভারতের কি অধিকার আমার দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর!! ভারতের মাটি প্রতিদিন মুসলমানদের রক্তে রঞ্জিত। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আল্লাহর কসম ভারত আমাদের বন্ধু কখনো ছিল না!

শুভেন্দুর ফাঁকা হুঙ্কারের জবাবে খান মোহাম্মদ হাবিব লিখেছেন, লাভ নাই, কারণ ২০২৪ এর বাংলাদেশ ভারতের গোলামী করে না, বাংলাদেশের মানুষ জবাব দিতে শিখেছে ভারতকে মনে রাখতে হবে এটা স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার আমল না।

মোঃ আবু তালহা তোহা লিখেছেন, চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতারি নিয়ে বিজেপি নেতা শুভেন্দুর বক্তব্য এটাই প্রমান করে যে তারা হিন্দুত্ববাদের নামে বাংলাদেশ কে ভারতের দাস বানাতে চায়। তারা বাংলাদেশকে ভারতের অঙ্গরাজ্য বানাতে চায়। তারা চায় এদেশে হিন্দুত্ববাদ রক্ষার নামে আবারও স্বৈরাচারকে পুনর্বাসন করতে।

মোঃ তারিক আবেদীন লিখেছেন, এত বছর যে হুজুরদেরকে পাকিস্তানপন্থী ট্যাগ দিছেন কই গত ১.৫ যুগে কোন হুজুর গ্রেফতার হইলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান তো বিবৃতি দেয়নি, থ্রে’ট দেয়নি। কিন্তু এক চিন্ময় জ’ঙ্গিকে আ’টকের পর ভারত থ্রে’ট দিচ্ছে। আসলে কে কোন পন্থী সেটা তো পরিস্কার।

মোঃ নাজমুল জাহাঙ্গীর লিখেছেন, সুভেনদু নামের এই লোকটির রাজনীতি, অর্থনীতি, পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে কোন ন্যুনতম জ্ঞান নেই! কি সব যোকারের মত কথা বলেন।ই

মন্তব্য করুন