ছবিটি এআই দিয়ে করা।
নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বারদোনা এলাকায় জায়গা ও মার্কেট দখলের বিরোধকে কেন্দ্র করে ১ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে করা কথিত ধর্ষণচেষ্টা মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় ১'জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ ও অপরজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। আজ ১১ অক্টোবর, রবিবার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক এ আদেশ দেন।
অপরদিকে, একেই মামলায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ চট্টগ্রাম এর বিচারক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৩'জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো ৩জন হলেন—বারদোনা ৮নং ওয়ার্ডের খিতামুল্লাহ পাড়ার সর্দার ও শাহ মজিদিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আলী, একই এলাকার অটো রিক্সাচালক ফরিদুল আলমের ছেলে সিএনজি চালক মো. হারুন এবং ৭নং ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. এনাম প্রকাশ ‘কাঠ এনাম’। তারা সবাই বারদোনা এলাকার বাসিন্দা।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, তাহার নিজস্ব জায়গা ও মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং পূর্ববিরোধের জেরে তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়। মামলাটির নম্বর ৩০৬/২০২২; এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।
গিয়াস উদ্দিনের দাবি, ওই মামলার কারণে তাকে কারাভোগ করতে হয় এবং তিনি সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরিস্থিতির কারণে একপর্যায়ে তিনি নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন।
পরে ওই মামলায় যুক্তিতর্ক শেষে গত ৫ জুন আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করে।
পরে প্রতিকার চেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর আদালতে মামলা করেন গিয়াস উদ্দিন। মামলাটির নম্বর ৯৮/২০২৬। তাহার পক্ষের আইনজীবী ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ৩জন আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অবশ্যই আটকরা ১১ দিন কারাবাস করার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জামিন পেয়েছে।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ মামলায় তছলিমা আক্তার ও আরেফা বেগম বিগত দিন পলাতক থাকছিলেন।
গিয়াস উদ্দিনের দাবি, তছলিমা আক্তার বারদোনার মো. আইয়ুবের মেয়ে এবং সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছগিরা পাড়ার ইলিয়াছের স্ত্রী। আরেফা বেগম আইয়ুবের স্ত্রী ও তছলিমা আক্তারের মা।
পূর্বে, সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন প্রশাসনের কাছে পলাতক তছলিমা আক্তার ও আরেফা বেগমকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে আসলেও ধঁরাছোয়ার বাইরে ছিলেন। আজ মাননীয় আদালতে জামিন আবেদন করলে জামিন নামঞ্জুর করে ১নং আসামি তছলিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ এবং ২ নং আসামি আরেফা বেগমকে জামিন দেন। গিয়াস উদ্দিন একই সঙ্গে তিনি আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অনেকে উল্লেখিত ব্যক্তিরা কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে দাবি করে।