অনলাইন ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও বিমান হামলা বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে টেকনাফের জেলে পরিবারগুলোতে। আরাকান আর্মির হাতে বন্দি থাকা শতাধিক বাংলাদেশি জেলের স্বজনরা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রায় ৬ মাস আগে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির হাতে আটক হন শাহপরীর দ্বীপের দুটি নৌকার নয় মাঝি-মাল্লা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাঁদের পরিবারের কাছে ফেরার সুযোগ হয়নি।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। তাঁরা হলেন শাহপরীর দ্বীপ ডেইলপাড়ার আহমদ আলী, তাঁর ছেলে নুরুল আবছার ও আবদুর রহিম এবং ভাগনে মো. হাসান।
আহমদ আলীর স্ত্রী মুনী আক্তার বলেন, পরিবারের চার সদস্য এখনো আরাকান আর্মির হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের ফেরার অপেক্ষায় প্রতিটি দিন দীর্ঘ সময়ের মতো মনে হচ্ছে।
এর মধ্যে রাখাইনে নতুন করে যুদ্ধ ও বিমান হামলার খবর পাওয়ায় তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে ভয় আরও বেড়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে ৪৩৪ জন জেলে আটক হন। তাঁদের মধ্যে ২২২ জন বাংলাদেশি এবং ২১২ জন রোহিঙ্গা। এ সময় ৩৪৮ জনকে ফেরত আনা হয়েছে।
তাঁদের মধ্যে বাংলাদেশি ১৫৭ জন ও রোহিঙ্গা ১৯১ জন। বর্তমানে ৮৬ জন জেলে বন্দি রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৬৫ জন বাংলাদেশি ও ২১ জন রোহিঙ্গা।
সর্বশেষ গত ১৯ আগস্ট ২৪ জন জেলে ও মাঝি-মাল্লাকে দেশে ফেরায় বিজিবি। তাঁদের মধ্যে ১৮ জন বাংলাদেশি ও ছয়জন রোহিঙ্গা।
এর আগে ১৬ ফেব্রুয়ারি ৭৩ জন, ১ এপ্রিল ১৪ জন এবং ৯ মে আরও ১৪ জন জেলেকে ফেরত আনা হয়।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার রাখাইনের ম্রাউক-উ টাউনশিপের একটি হাসপাতালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় রোগী, স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বজনসহ অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার পর বন্দি জেলেদের স্বজনদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সম্প্রতি মিয়ানমার থেকে ফিরে আসা শাহপরীর দ্বীপের আবু তাহের বলেন, আরাকান আর্মির বন্দিশালায় থাকাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দেশে ফেরার সময় সেখানে আরও অনেক জেলেকে বন্দি অবস্থায় দেখেছেন। বর্তমানে যুদ্ধ ও বিমান হামলার খবর শুনে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত।
গত ৩০ এপ্রিল সেন্টমার্টিনের ছেঁড়াদ্বীপসংলগ্ন সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক হন সাবরাং ইউনিয়নের নয়াপাড়ার মাঝি আবদুর রহমান, আবদুল মতলব, সাব্বির আহমেদ ও গোরা মিয়া। তাঁদের একজন আবদুল মতলবের বাবা ৭৫ বছর বয়সী নুরুল ইসলাম ছেলের চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন।
শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়ার বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর জানান, শুধু তার এলাকার ১৫ জনের বেশি জেলে এখনো আরাকান আর্মির হাতে বন্দি রয়েছেন। চলমান সংঘাতের কারণে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, মিয়ানমারে সংঘাত অব্যাহত থাকায় সেখানে আটক জেলেদের পরিবারগুলো উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তাঁদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে।
টেকনাফ বিজিবি-২-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, নাফ নদ ও সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে আরাকান আর্মির হাতে আটক সাড়ে তিন শতাধিক জেলেকে তাঁরা দেশে ফিরিয়ে এনেছেন। অন্যদেরও ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।বা:প্র।