খবর ডেস্ক: চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১ জেলায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সর্বশেষ ২৬ অক্টোবর মাসিক পর্যালোচনা সভায় সকল জেলার অপরাধ পরিস্থিতি, পুলিশের চলমান কার্যক্রম এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্তের অগ্রগতি পর্যালোচনা করে দিকনির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় অপরাধীদের গ্রেপ্তার, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর এবং অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্ত যেন সুষ্ঠু ও কার্যকর ভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেন ডিআইজি।
একই সঙ্গে কর্মক্ষেত্রে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের মানবিক পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জের অধীন ১১ জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। জেলার এসপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়ায় এরই মধ্যে সুফল পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, জঙ্গল সলিমপুরের আইনশৃঙ্খলা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণসহ অপরাধ নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি। শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও তার ১৭ জন সহযোগী গ্রেপ্তার, চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে খুনের ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখছেন তিনি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে কাজ করতে হবে। মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহকারী ও মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান ও বাস্তবায়নে কাজ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে আরও সংবেদনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। থানায় আগত নারী, শিশু, ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। জনগণের আস্থা অর্জনই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে চট্টগ্রামের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ১১টি জেলায় একযোগে বিশেষ কম্বিং অপারেশন পরিচালনায় প্রচুর পরিমাণে মাদকদ্রব্য, বিদেশি ও দেশীয় অস্ত্র এবং চোরাই পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। পরোয়ানাভুক্ত ও পলাতক আসামিদের ধরতে বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদকের মূল হোতা, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, কিশোর গ্যাং এবং সাইবার অপরাধ রোধে বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরের মতো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আস্তানায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি মিডিয়ায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রামের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, আমি ল’ এন্ড অর্ডার নিয়ে কাজ করি, আমি দেখেছি যে ছোটবেলায় একটা মিথ্যা মামলা আমাদের পরিবারের একজনের ওপর হওয়ার পরে তাদের যে অসহায়ত্ব, তাদের যে দুর্দশা—এটা আমি খুব কাছে থেকে দেখেছি। এটা আমি ফিল করেছি। তখন আমার কাছে মনে হয়েছে, এই সুযোগটা যদি পাওয়া যায় - এই আইন তো মানুষকে হয়রানি করার জন্য নয়।
আইনটা হচ্ছে সমাজের অর্ডারটাকে ঠিক রাখার জন্য, মানুষকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য, সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য। এইটা আমাকে মাঝেমধ্যে ভাবায়। এবং এইটা আসলে মাঝেমধ্যে আমিও ফিল করি, এবং চেষ্টা করি যে মানুষকে জাস্টিসটা কীভাবে দেওয়া যায়, ন্যায়বিচারটা কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়, মুখে হাসিটা কীভাবে ফুটানো যায়। তিনি আরও বলেন, আমি আমার সৃষ্টিকর্তার কাছেই ক্ষমা চাইতে চাই। কারণ আমার কোন কাজটা ভুল হয়ে যাচ্ছে, বা সীমালঙ্ঘনের পর্যায়ে চলে যাচ্ছে—সেটা অনেক সময় হয়তো আমরা মানুষ হিসেবে খেয়াল করি না। এজন্যই সৃষ্টিকর্তার কাছে আমার এই ক্ষমা চাওয়ার আকুতিটা আছে সবসময়।ই