মহাজাগতিক বিস্ময়: আগামী ১২ আগস্ট বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখবে বিশ্ব

অনলাইন ডেস্ক : আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা যাবে বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর এটিই হবে প্রথম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি স্থান থেকে এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখা যাবে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ণগ্রাসের সময় সর্বোচ্চ প্রায় ২ মিনিট ১৮ সেকেন্ড পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্য এর চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলবে।

গ্রিনিচ মান সময় অনুযায়ী বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল ৩টা ৩৪ মিনিটের দিকে সূর্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর দিয়ে অগ্রসর হয়ে নির্দিষ্ট কয়েকটি অঞ্চলে সূর্যকে পুরোপুরি ঢেকে দেবে।
…..
পূর্ণগ্রাসের মূল পথ আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পশ্চিম আইসল্যান্ড, উত্তর-পূর্ব পর্তুগাল এবং উত্তর স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। স্পেনের কয়েকটি শহর থেকে গ্রহণের পূর্ণগ্রাস পর্যায় তুলনামূলক ভালোভাবে দেখা যাবে।

স্পেনে স্থানীয় সময় সন্ধ্যার দিকে পূর্ণগ্রাস শুরু হবে। অবস্থানভেদে এর স্থায়িত্ব এক থেকে প্রায় দুই মিনিট হতে পারে। রাজধানী মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা পূর্ণগ্রাসের মূল পথের বাইরে থাকলেও সেখান থেকে সূর্যের অধিকাংশ অংশ চাঁদের আড়ালে চলে যেতে দেখা যাবে।

পূর্ণগ্রাসের পথের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ অবস্থান করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর বাইরে বিশ্বের বিস্তৃত অঞ্চল থেকে আরও বিপুলসংখ্যক মানুষ সূর্যের আংশিক গ্রহণ দেখতে পারবেন।

সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী একই সরলরেখার কাছাকাছি অবস্থান করলে এবং চাঁদ পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে সূর্যের আলো আংশিক বা পুরোপুরি আটকে দিলে সূর্যগ্রহণ ঘটে। চাঁদের ছায়া যখন সূর্যের পুরো চাকতিকে ঢেকে দেয়, তখন তাকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ বলা হয়।

পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ তুলনামূলক বিরল একটি মহাজাগতিক ঘটনা। তবে পৃথিবীর সব স্থান থেকে এটি দেখা যায় না। পূর্ণগ্রাসের সরু পথের মধ্যে থাকা অঞ্চল থেকেই সূর্যের পুরো চাকতি ঢেকে যাওয়ার দৃশ্য দেখা সম্ভব হয়, আর এর বাইরে থাকা বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যায় আংশিক গ্রহণ।

বিশেষজ্ঞরা সূর্যগ্রহণ দেখার সময় সরাসরি খালি চোখে সূর্যের দিকে না তাকানোর পরামর্শ দেন। নিরাপদভাবে এই দৃশ্য দেখতে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন সৌর পর্যবেক্ষণ চশমা বা উপযুক্ত সোলার ফিল্টার ব্যবহার করা প্রয়োজন। তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা,ই।

মন্তব্য করুন