বৈধ-অবৈধ উভয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে -ইসি সচিব

প্রথম দিনে আপিল করেছেন ৪২ জন

অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৭২৩ জন প্রার্থীর, বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা ১৮৪২ জন। বাছাইয়ে বাদ পড়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল আবেদন জমা দিতে শুরু করেছেন।

প্রার্থীদের হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল, ঋণখেলাপি, কাগজপত্রে অসংগতি, দলীয় মনোনয়নের কাগজ জমা না দেয়া, নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া দলীয় মনোনয়নের স্বাক্ষর ও মনোনয়নপত্রের স্বাক্ষরে মিল না থাকা, হলফনামা সঠিকভাবে দাখিল না করা, মামলাসংক্রান্ত তথ্য গোপন, প্রস্তাবকারী অন্য আসনের ভোটার হওয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকা, আয়কর রিটার্নের কপি জমা না দেয়া, আয়কর বকেয়া থাকা, আয়কর রিটার্ন ও সম্পদ বিবরণীতে তথ্যের গরমিল, দ্বৈত নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত কাগজপত্রে অসংগতি, মনোনয়নের মূল কপি দাখিল না করে স্ক্যান কপি জমা দেয়া, সঠিক নিয়মে মনোনয়নপত্র পূরণ না করা, সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়া, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ না দেয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা না দেয়ার কারণে এসব মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার থেকে আপিল জমা শুরু হয়েছে এবং চলবে আগামী ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রথমদিনে আপিল জমা পড়েছে ৪২টি। এতে রংপুর বিভাগের ৩ জন, রাজশাহী বিভাগে ৫ জন, খুলনা বিভাগে ৩ জনের, বরিশাল বিভাগে ১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১ জন, ঢাকা ১৫ জন, ফরিদপুর বিভাগে ৭ জন, সিলেট বিভাগ থেকে কোনো আপিল জমা পড়েনি, কুমিল্লা বিভাগে ৪ জন এবং ১ জনের প্রার্থিতা কেন গ্রহণ করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন, সর্বেমোট ৪২ জন।

সর্বশেষ তথ্যমতে, রংপুর বিভাগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে ৫৯ জনের, রাজশাহী বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৭৪ জনের, খুলনা বিভাগের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৭৯ জনের, বরিশাল বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৩১ জনের, ময়মনসিংহ বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ১২২ জনের, ঢাকা বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ১৩৩ জনের, ফরিদপুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৪৬ জনের, সিলেট বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৩৬ জনের, কুমিল্লা বিভাগে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৯৭ জনের, চট্টগ্রাম বিভাগের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে ৫৬ জনের।

প্রার্থীদের আপিল দায়েরের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনে ১০ টি নির্বাচনী এলাকার ১০বুথ বসানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় তথ্যসহ আপিল করতে পারবেন প্রার্থীরা। প্রার্থীর আপিলে যা যা তথ্য সংযুক্ত থাকতে হবেÑ আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে (নির্ধারিত ফরম্যাটে) দায়ের করতে হবে; আপিল দায়েরকালে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণসংবলিত বিবৃতি এবং মনোনয়নপত্র বাতিল বা গ্রহণ আদেশের সত্যায়িত কপি দাখিল করতে হবে; আপিল আবেদনের একটি মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে; আপিল আবেদন ইসির আপিল আবেদন গ্রহণ-সংক্রান্ত কেন্দ্রে স্ব স্ব অঞ্চলের নির্ধারিত বুথে জমা দিতে হবে; আপিল আবেদন ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে দায়ের করতে হবে; আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপির জন্য নির্ধারিত ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে; ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়-সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে এবং আপিল দায়েরকারী অথবা আপিল দায়েরকারীর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি আপিলের রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন। এসব আপিল দায়ের করতে হবে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ১০টি অঞ্চলের জেলার জন্য ১০টি বুথে। খুলনা অঞ্চল: মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা। রাজশাহী অঞ্চল: জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, রাজশাহী, নাটোর, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা। রংপুর অঞ্চল: পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা। চট্টগ্রাম অঞ্চল: চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবান। কুমিল্লা অঞ্চল: ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী, নোয়াখালী এ লক্ষ্মীপুর। সিলেট অঞ্চল: সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। ঢাকা অঞ্চল: টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ। ময়মনসিংহ অঞ্চল: জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা। বরিশাল অঞ্চল: বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর। ফরিদপুর অঞ্চল: রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর।

গতকাল সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আপিলের বুথ পরিদর্শন শেষে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আপত্তি থাকলে বৈধ-অবৈধ দুই ধরনের মনোনয়নপত্রেই আপিল করা যাবে। আমরা অঞ্চলভিত্তিক আপত্তি দাখিল করার জন্য ব্যবস্থা করেছি। আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত আমরা কমিশনে শুনানির ব্যবস্থা করবো। আমাদের অডিটোরিয়ামে শুনানি ব্যবস্থা হবে। প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামা আপনারা যাচাই-বাছাই করবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, এটা পরের ব্যাপার। আজ হচ্ছে আপিল নেওয়ার কথা। হলফনামা যেটা দিয়েছেন সেটাতো প্রসেস অনুযায়ী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে করা হয়েছে। এখন সেই তথ্যের ওপর যদি কারো কোনো আপত্তি থেকে থাকে তাহলে আপিল করবেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, প্রার্থীদের আপিল শুরু হয়েছে। সকলের সহযোগিতা থাকলে সুন্দর নির্বাচন সম্ভব। এখন সারাদেশে নির্বাচনের পরিবেশ পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে।ই

মন্তব্য করুন