আগস্টে হামলা, আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার ৫১ সংবাদকর্মী। ছবি: বিএজে লোগো
অনলাইন ডেস্ক: দেশে ১ মাসে অন্তত ২৮ জন সংবাদকর্মী হত্যা, শারীরিক হামলা, আইনি হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির শিকার হয়েছেন। ১জন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ সময় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। একই সময়ে আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন অন্তত ৯ জন সংবাদকর্মী।
৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংস্থা বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে)-এর অক্টোবর মাসের মনিটরিং প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির গবেষণা ও মনিটরিং সেলের সম্পাদক মাহমুদুল হাছান স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সারা দেশে গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য কর্মপরিবেশ ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও আশঙ্কাজনক।
মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং নিজস্ব সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে জানানো হয়, অক্টোবর মাসে ১ জন সংবাদকর্মী হত্যার শিকার হয়েছেন, ১৮ জন শারীরিক হামলা ও আঘাতের মুখোমুখি হয়েছেন এবং ৯ জন আইনি হয়রানি ও হুমকির শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার তেলনজিয়া গ্রামে চায়ের দোকানে অবস্থানকালে মোটরসাইকেলে আসা দুইজন অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে অনুসন্ধানী লেখালেখির জেরেই তাকে পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে তার সহকর্মীরা দাবি করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
অক্টোবরজুড়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের হাতে অন্তত ১৮ জন সংবাদকর্মী শারীরিক হামলার শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের অস্ত্রের মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে ৪ সাংবাদিক হামলার শিকার হন এবং ১জন সাংবাদিকের মাথা ফেটে যায়। এ সময় উদ্ধারে এগিয়ে আসা সাংবাদিকদেরও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে ১ সাংবাদিককে ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী মোটরসাইকেলে এসে চোখ-মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে গিয়ে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মারধর করে এবং ১ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। সেখানে ১ নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক বিবস্ত্র করে নগ্ন ভিডিও ধারণ করা হয় এবং মাজার বস্তির মাদকের সংবাদ প্রকাশ করলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহে একটি কলেজের ইট বিক্রির অনিয়মের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে অধ্যক্ষের মদদে বহিরাগতরা ২ সাংবাদিককে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং উল্টো মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠায়। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডিবি পুলিশের মাদকসংশ্লিষ্টতার সংবাদ প্রকাশের জেরেই তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
আইনি হয়রানি ও হুমকির বিষয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক সিলেট সাইবার সিকিউরিটি আদালতে ২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছেন। তাছাড়া, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে মৃত নারীদের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করায় জীবননাশের হুমকি পেয়েছেন এক সাংবাদিক। হুমকির বিষয়ে থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) মর্গের সাবেক সহকারীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে, যিনি ফোন করে ভয় দেখান ও কোর্টে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।
সাংবাদিকদের ওপর চলমান এই আক্রমণ ও আইনি হয়রানিকে মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘অশনি সংকেত’ বলে মনে করে বিএজে। বিচার ও সুরক্ষার দাবি করে সংস্থাটি জানায়, রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব বা পেশিশক্তি ব্যবহার করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। বিএজে অবিলম্বে প্রতিটি ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে।আ:দেশ