প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণ :শামা ওবায়েদ

অনলাইন ডেস্ক: আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির ভারত ম-পমে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

এছাড়া চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং প্রেসিডেন্টের মো. সাহাবুদ্দিনের মধ্যে ফোনালাপের কোনো তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। এরকম যদি কিছু হয়ে থাকে তাহলে তা তদন্ত করে দেখা হবে। গতকাল ২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। শামা ওবায়েদ বলেন, এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট খবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পায়নি। যদি সেটা সত্যি হয়ে থাকে অবশ্যই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তদন্ত করবে, সরকারও সেটা তদন্ত করবে। মার্কিন দূতের ঢাকা সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের বহুপাক্ষিক সম্পর্ক আছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সেগুলো আরও সুগম হবে এবং আমরা আমাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আমাদের ডিপ্লোমেসি, ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি সব কীভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, নিয়ে যাওয়া হবে, সেটাই আলোচনা হবে বলে আমার আমি মনে করি। ভারতে ছাত্র আন্দোলন চলছে। দেশটিতে অনেক বাংলাদেশি রয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ আছে কি না? শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমাদের এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় থাকুক সেটাই আমরা চাই। একটি গণতান্ত্রিক সরকার ও রাষ্ট্র হিসেবে আমরা আশা করব, ভারত বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে; তারা তাদের জনগণের অবস্থান দেখবে এবং সমস্যা সমাধানের দিকে দ্রুত আগাবে। বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি জানান, ভিসা সমস্যার সঙ্গে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়া সম্পর্কিত। সাংবাদিকদের শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশি পাসপোর্টের মানের কোনো অবনমন হয়নি। আমরা সাড়ে ৪ মাস হয়েছে সরকার গঠন করেছি। এর আগের থেকেই ভিসার সমস্যা গুলো বিশেষ করে আমাদের যারা বাংলাদেশি ভাইয়েরা যেসব যেসব দেশ গুলোতে তারা কর্মরত আছে, সেসব দেশে যেমন- আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া; এসব দেশগুলোতে ভিসা বন্ধ আছে। ভিসা বন্ধ থাকার বিভিন্ন কারণ আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এগুলো নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জরুরি ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে গত দুই তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা একাধিকবার মিটিং করেছি। ভিসা সংক্রান্ত ব্যাপারগুলো কীভাবে সমাধান করা যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।

মার্কিন বিশেষ দূতের সফরে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে॥
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর আগামী সপ্তাহের শেষ দিকে ঢাকা সফরে আসছেন। তার এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুগম হবে বলে আশা করছেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময় ভালো। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে যে সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, সেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে এবং হবে। যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো প্রতিনিধি সফরে এলে আমরা মনে করি, এটি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও গভীর করবে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। এসব সম্পর্ক আরও সুগম হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও মানুষে মানুষে যোগাযোগ আরও এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ। এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গোর আগামী ৩০ জুলাই ঢাকায় আসছেন। তিন দিনের সফরের প্রথম দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।

বাংলাদেশ-সৗউদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ॥
বাংলাদেশ ও সৗউদি আরবের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সৗউদি আরব-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এসএ বিসিসিআই)। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য প্রচার, আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী এবং বিনিয়োগ ফোরাম আয়োজনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি। এসএ বিসিসিআই-এর সভাপতি আশরাফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ-সৗউদি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে এসএ বিসিসিআইর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে।এ সময় সৗউদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করে প্রতিনিধি দল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এসএ বিসিসিআইর উদ্যোগের প্রশংসা করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে মন্ত্রণালয়ের অব্যাহত সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং দক্ষ জনশক্তি সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ পরিবেশন

এ ক্ষেত্রে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। শামা ওবায়েদ ইসলাম সৗউদি বাজারে বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তা, সৃজনশীল শিল্প, হস্তশিল্প এবং বহুমুখী পাটজাত পণ্যের প্রসারের ওপরও গুরুত্ব দেন। সাক্ষাৎ শেষে এসএ বিসিসিআইর প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ও সৗউদি আরবের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।ই

মন্তব্য করুন