
নিজস্ব প্রতিনিধি : ঈদের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার দুপুর থেকেই কক্সবাজার সৈকতের সবক’টি পয়েন্ট লোকে লোকারণ্য। যেদিকে চোঁখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই বিস্তৃত বালিয়াড়িসহ সৈকতের কোথাও। কারও মনে আনন্দ প্রথমবার সমুদ্র দেখার, আর কারও মনে আনন্দ নোনাজলের স্পর্শ পাওয়ার।
তপ্ত রোদেও সৈকতে ভ্রমণ পিপাসু মানুষের মনে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশে কমতি ছিল না। সৈকতে ঘুরতে আসা অধিকাংশ পর্যটকের গন্তব্য গোসলে নেমে সাগরের নোনাজলের স্পর্শ নেওয়া। আর পর্যটকের ঈদ আনন্দের উচ্ছ্বাসের কাছে যেন হার মেনেছে সাগরের উত্তাল ঢেউও। কেউ বসে আছে কিটকটে (বিচ ছাতা)।
আবার অনেকেই সৈকতের বালিয়াড়িতে ছুটাছুটিতে মেতেছেন নিজের মতোই। বীচ বাইক, ঘোড়ায় চড়ে কেউ কেউ নিজের ছবি ধারণে ব্যস্ত।
আর কোলাহলময় যান্ত্রিক জীবনের অবসাদ কাটাতে ছুটে আসা ভ্রমণ পিপাসুরা বলছেন, প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি কক্সবাজার ঘুরতে এসে তারা তৃপ্ত-পরিতৃপ্ত।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য বলছে, ঈদের টানা ছুটির দ্বিতীয় দিনেও লাখো পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে সৈকত নগরী কক্সবাজার।
রমজানের পুরো এক মাস পর্যটক শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে এখন উপচে পড়া ভিড়। আর ঈদের আনন্দ উপভোগে পর্যটকদের পাশাপাশি সৈকতে ভিড় করছেন স্থানীয় দর্শনার্থীরাও। এদিকে কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটায় খুশি হোটেল-মোটেল সহ পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
তারা বলছেন, ঈদের দ্বিতীয় দিনে সাড়ে ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেলের অন্তত ৮০ শতাংশ কক্ষ বুকিং রয়েছে। তৃতীয় দিন থেকে শতভাগ হোটেল কক্ষ বুকিং থাকবে।
আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটক আগমনের ঢল অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার আবাসিক হোটেল মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ঈদের প্রথম দিন তেমন পর্যটকের দেখা মিলেনি। দ্বিতীয় দিন ১ এপ্রিল লাখের অধিক পর্যটক কক্সবাজার এসে পৌঁছেছেন। সন্ধ্যায় আর অনেকেই এসে পৌঁছাবেন। ৫ এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকরা আবাসিক হোটেল বুকিং দিয়েছেন। টানা ৫ দিন গড়ে দেড় লাখ করে ৫ দিনে সাড়ে ৭ লাখ পর্যটক কক্সবাজার ভ্রমণে আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হোটেল দি স্যান্ডি বিচের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুর রহমান বলেন, কাঙ্খিত সংখ্যক পর্যটক আসায় খুশি সাগরপাড়ের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে হোটেল-রেস্তোঁরা ব্যবসায়ীরা।
হোটেল কক্স-টুডের ব্যবস্থাপক আবু তালেব শাহ বলেন, এখন পর্যটকে ভরপুর কক্সবাজার। টানা ৫ দিন পর্যটক বাড়বে।
আর আগত পর্যটকের বেশিভাগই ব্যস্ত সমুদ্র স্নানে। তাই সমুদ্রস্নানে নেমে কোনো পর্যটক যেন বিপদাপন্ন পরিস্থিতিতে না পড়েন সেজন্য সতর্ক দৃষ্টি রেখেছে লাইফগার্ড সদস্যরা। আর গোসলে জন্য পর্যটকদের নির্দেশনা মেনে সাগরে নামার পরামর্শ তাদের। এমনটাই জানিয়েছেন সি সেইফ লাইফ গার্ডের সুপারভাইজার ওসমান গনি।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কম হলে লাখ পর্যটক সমুদ্র সৈকতে এসেছেন। যার বেশিরভাগই পানি নেমে স্নান করেছেন।
পর্যটক হয়রানি রোধে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক মোহাম্মদ সোহেল।
তিনি জানান, সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ, হিমছড়ি ঝর্ণা, ইনানি ও পাটুয়ারটেকের পাথুরে সৈকত, শহরের বার্মিজ মার্কেট, মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির, ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্ক এবং রামুর বৌদ্ধ বিহার সহ কক্সবাজারের বিনোদন কেন্দ্রগুলো পর্যটকদের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে উঠেছে।বা:প্র।