খবর ডেস্ক: ঢাকার মোহাম্মদপুরস্থ শ্যামলী শাহী মসজিদের খতিব ড. মুফতি মোরশেদ আলম সালেহী গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, মানুষের জানমাল, ইজ্জত-আব্রু ও নিরাপত্তা রক্ষা ইসলামের অন্যতম মৌলিক শিক্ষা। সন্ত্রাস, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, অন্যায় হত্যাকা-, ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং জনজীবনে অশান্তি তৈরি কোনোভাবেই ইসলামের আদর্শ হতে পারে না।
মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর কথা, কাজ ও আচরণের মাধ্যমে শান্তি, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও মানবিকতার যে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন, তা অনুসরণ করলেই একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন সম্ভব। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। এবং যে কারও জীবন রক্ষা করে, সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে। সূরা আল মায়িদাহ: ৩২ রাসূলুল্লাহ (সা.) মানুষের নিরাপত্তাকে ঈমানের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “মুসলিম সে ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে।” (সহিহ বুখারি, হাদিস ১০; সহিহ মুসলিম, হাদিস, ৪১) কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, “তারা যদি শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ে, তাহলে তুমিও শান্তির দিকে ঝুঁকে পড়ো এবং আল্লাহর ওপর ভরসা করো।”সূরা আল-আনফাল:৬১ তাই মতপার্থক্য বা বিরোধ দেখা দিলে সহিংসতা নয়; সংলাপ, ন্যায়বিচার ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ গ্রহণ করাই ইসলামের শিক্ষা।
বিদায় হজের সময় রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, “আমার পরে তোমরা পরস্পরের গর্দান মারতে মারতে অবিশ্বাসীদের মতো হয়ে যেয়ো না।” সহিহ বুখারি, হাদিস ৭০৭৭। এ হাদিস মুসলিম সমাজে পারস্পরিক রক্তপাত ও সহিংসতার ভয়াবহতা স্পষ্ট করে। শুধু মুসলমান নয়, চুক্তিবদ্ধ ও নিরাপত্তাপ্রাপ্ত অমুসলিমের জীবন রক্ষার ব্যাপারেও রাসূলুল্লাহ (সা.) কঠোর সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তিকে হত্যা করবে, সে জান্নাতের সুগন্ধও পাবে না” অথচ তার সুগন্ধ চল্লিশ বছরের দূরত্ব থেকেও পাওয়া যায়।” সহিহ বুখারি, হাদিস ৩১৬৬। অতএব, সন্ত্রাস ও নাশকতামুক্ত সমাজ গঠনে রাসূল (সা.)-এর আদর্শ হলোÑ জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অন্যায় হত্যাকা- পরিহার করা, মানুষের জানমাল রক্ষা করা, শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, মতপার্থক্যে সংযম ও ন্যায়বিচার অবলম্বন করা এবং সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা বৃদ্ধি করা। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, গণমাধ্যম ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, সবখানে এই নৈতিক শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে। তাহলেই ভয় ও সহিংসতার পরিবর্তে শান্তি, নিরাপত্তা ও মানবিকতার সমাজ গড়ে উঠবে।
মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, অশান্ত অস্থির সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে রাসূল (সা.) এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। কারণ, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণেই অশান্ত অস্থির অন্ধকার অমানিশার আরবের বুকে শান্তির বাতাস প্রবাহিত হয়েছিল। যে সমাজে স্ত্রীর কাছে স্বামীর, স্বামীর কাছে স্ত্রীর, সন্তানের কাছে পিতার আর পিতার কাছে সন্তানের কোন মর্যাদা ছিল না। জুলুম নির্যাতন মারামারি কাটাকাটি সন্ত্রাসী রাহাজানি ছিল স্বাভাবিক অবস্থা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শই তীব্রভাবে ফাটল ধরিয়াছিল ওই ঘুণে ধরা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে। যার প্রেক্ষিতে চোর, ডাকাত, বদমাইশ, সন্ত্রাস, নারীদের ইজ্জত লুন্ঠনকারী সভ্যহীন মানুষগুলোই নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণে সভ্য শান্ত ও স্বর্ণের মানুষে পরিণত হয়ে গেল। বাহ! নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কি অনুপম আদর্শ ? কি উত্তম চরিত্র ? কি সুন্দর ব্যবহার ? কি কোমলময়ী শান্তির বাণী? আকর্ষণীয় দাওয়াত আর আহ্বান, যার ফলশ্রুতিতে উচ্ছৃংখল, উদ্ধত, ঘাড়তেড়া, গোঁয়াড় ও একঘেয়ে মানুষগুলো নম্র ভদ্র ও সভ্য শান্ত ও জান্নাতি মানুষে রূপান্তরিত হয়ে গেল। সন্ত্রাসী, রাহাজানি, মারামারি, কাটাকাটি, অশান্ত অস্থির সমাজ শান্তি সমৃদ্ধশীল স্বর্গীয় সমাজে পরিণত হলো। তাই তো আল্লাহ তা’য়ালা কেয়ামত পর্যন্ত আগত জাতিকে স্মরণ করিয়ে নির্দেশ দিলেন, তোমরা আল্লাহর বিধান ও রাসূলের আদর্শ অনুসরণ করো। আর যারা আল্লাহ ও রাসূলের অনুসরণ করবে তারা সুস্পষ্ট সফলকাম হবে। (আল কোরআন)। তাই আসুন ব্যক্তি পরিবারের মধ্যে স্বস্থির বাতাস প্রবাহিত করতে হলে, অশান্ত অস্থির সমাজে শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নাই। আল্লাহ তা’আলা সবাইকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি সাল্লামের আদর্শ অনুসরণ করার তাওফিক দান করেন। আমিন। মিরপুরের বাইতুল আমান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল্লাহ ফিরোজী গতকাল জুমার খুতবা পূর্ব বয়ানে বলেন, খাদ্য ও পানীয়ের পর মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল পোশাকের। পোশাক পরা ও লজ্জাস্থান আচ্ছাদন করা মানুষের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আর বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনা সুস্থ স্বভাব, বুদ্ধি, বিবেক ও শালীনতার পরিপন্থী। পোশাকের বিষয়ে ইসলাম কিছু মৌলিক নীতিমালা দিয়েছে, যেন তা মানুষের শালীনতা ও পবিত্রতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা’য়ালা ইরশাদ করেন, হে আদম সস্তান! আমি তোমাদের জন্য এমন পোশাক অবতীর্ণ করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে এবং এবং শোভা ও সৌন্দর্যের মাধ্যম। তবে তাকওয়ার পোশাকই সর্বোত্তম। (সূরা আল আরাফ-২৬)। এই আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা পোশাকের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। সেটা হল শরীর আচ্ছাদন ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা। খতিব বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে নারী ও পুরুষ পোশাকের স্বাধীনতার নামে বেহায়াপনা ও অশ্লীলতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। আঁটশাঁট পোশাক পরে নারী বল্গাহীন ঘুরে বেড়াচ্ছে। নবীজী (সা.) ইরশাদ করেন, কেয়ামতের আগে কিছু নারী পোশাক পরেও উলঙ্গ থাকবে। তারা জান্নাত তো দূরের কথা, জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না। (মুসলিম ৫৭০৪)। খতিব আরও বলেন, সম্প্রতি মেট্রো স্টেশনে হাফপ্যান্ট পরা একজন অ্যাথলেটকে রেল পুলিশের জনৈক সদস্য কর্তৃক শালীন পোশাক পরার অনুরোধ নিয়ে তুলকালাম ঘটে গেছে। ইসলাম বিদ্বেষী গুটিকয়েক মিডিয়া ও ফেসবুক এক্টিভিস্ট সামান্য এই বিষয়কে বিভিন্ন ভাবে ফ্রেমিং করে যুব সমাজকে হাফপ্যান্ট পরে মেট্রোরেলে ওঠার কর্মসূচি ঘোষণা করে। অনলাইনে অনেকেই শরীয়ত বিবর্জিত এই ইভেন্টে ইতিবাচক মনোভাব দেখালেও বাস্তবে সাড়া দিয়েছে হাতে গোনা কয়েকজন। একজন পুরুষের নাভি থেকে হাঁটুর নিচ পর্যন্ত সতর। এই অংশটুকু ঢেকে রাখা ফরজ। প্রকাশ্যে এর কোন অংশ খোলা বা উন্মুক্ত রাখা হারাম ও কবীরা গুনাহ। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হাফপ্যান্ট পরে ঘুরে বেড়ানো ইসলাম ও মানবীয় গুণাবলীর চরম লংঘন। যারা হাফ প্যান্ট পরার কর্মসূচিতে সমর্থন দিয়েছেন, অংশগ্রহণ করেছেন প্রত্যেকের তওবা করা উচিত। পোশাকের স্বাধীনতার নামে যাচ্ছেতাই পোশাক পরিধান করা নারী পুরুষের জন্য বৈধ নয়। তাকওয়ার আছর পোশাকসহ যাবতীয় আমলের মধ্যে প্রকাশ পাওয়া উচিত। আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন, আমীন।
ঢাকা মুগদা ব্যাংক কলোনি রসুলবাগ জামে মসজিদের খতিব মুফতি রাহমাতুল্লাহ তাক্বী বিন আব্দুল গনি জুমার খুতবা-পূর্ব বয়ানে বলেন, ইসলামি সমাজব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত জীবনে শালীনতা, আত্মসম্মান এবং তাকওয়া অর্জনের অন্যতম মূলভিত্তি হলো ‘সতর’ ঢেকে রাখা। আরবি ‘সতর’ শব্দের শাব্দিক অর্থ আচ্ছাদন করা, ঢেকে রাখা বা গোপন করা। শরীয়তের পরিভাষায়, মানবদেহের যে অংশটুকু অন্য মানুষের সামনে ঢেকে রাখা আবশ্যক বা ফরজ এবং যা উন্মুক্ত করা সম্পূর্ণ হারাম, তাকে ‘সতর’ বলা হয়। ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয় বরং একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। তাই মানবজীবনের অত্যন্ত মৌলিক একটি বিষয় পোশাক পরিধান ও লজ্জাস্থানের হেফাজতÑ সম্পর্কে ইসলাম সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছেন। মানবজাতিকে আল্লাহ তা’য়ালা সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন। সতরের বিধান মানুষের মাঝে পশুসুলভ আচরণ দূর করে তাকে উন্নত মানবীয় চরিত্রে ভূষিত করে। পবিত্র কোরআনে পোশাকের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সতর ঢেকে রাখাকে চিহ্নিত করা হয়েছে: আল্লাহ তা’য়ালা বলেন “হে বনি আদম! আমি তোমাদের জন্য পোশাক নাজিল করেছি, যা তোমাদের লজ্জাস্থান ঢেকে রাখে এবং যা সৌন্দর্যস্বরূপ। আর তাকওয়ার যে পোশাক, তা-ই সর্বোত্তম (সূরা আল-আ’রাফ, আয়াত: ২৬) এই আয়াত থেকে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, সৌন্দর্যচর্চার আগে পোশাকের প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব হলো সতর বা লজ্জাস্থান সঠিকভাবে আবৃত করা। ইসলামি শরিয়তের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পুরুষের সতরের সীমানা হলো নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। সতর্কতা হিসেবে হাঁটুসহ ঢেকে রাখা আবশ্যক। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: “পুরুষের সতর হলো তার নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। সুনানে দারাকুতনি, হাদিস নম্বর: ৯০১ রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষের সতরের দিকে না তাকায় এবং কোনো নারী যেন অপর নারীর সতরের দিকে না তাকায়।
খতিব বলেন, বর্তমান সমাজে আধুনিকতা ও ফ্যাশনের অজুহাতে বেহায়াপনা ও অনাবৃত পোশাকের কদর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। হাফ প্যান্ট কিংবা অপ্রতুল পোশাক পরে মুসলিম সমাজে অবাধে চলাফেরার প্রবণতা এখন লক্ষণীয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমও এসবকে আধুনিকতা হিসেবে উপস্থাপন করছে। পরিস্থিতি এমন একপর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে মানুষকে খোলামেলা ও অশালীন জীবনযাপনের দিকে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি মুসলিমের মনে রাখা আবশ্যকÑ খেলাধুলা, ব্যায়াম, জিম কিংবা দৈনন্দিন কাজকর্ম, কোনো অজুহাতেই পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাঁটুর মধ্যবর্তী অংশ কিংবা উরু উন্মুক্ত রাখার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। সতরের বিধান মেনে চলা কেবল বাহ্যিক পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয় নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। সমাজকে অশালীনতা ও আত্মিক পতন থেকে রক্ষা করতে সতরের সীমানা কঠোরভাবে মেনে চলা এবং তাকওয়ার পোশাকে নিজেকে সজ্জিত করা প্রতিটি মুসলিম পুরুষের ঈমানি দায়িত্ব।
ঢাকার মুগদা উত্তর মান্ডা বাইতুন নূর জামে মসজিদের খতিব শাইখুল হাদিস মুফতি ফয়জুল্লাহ জীবনপুরী খুতবার পূর্ব বয়ানে বলেন, আজকের আধুনিক ও প্রযুক্তিগত যুগে ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ড, ডিজিটাল লোন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মের কল্যাণে সুদ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করেছে। একসময়কার মহাজনী প্রথার আধুনিক রূপ নিয়েছে আজকের এই সুদী অর্থব্যবস্থা, যা সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো আয়ের সিংহভাগ গ্রাস করে নিচ্ছে। অথচ ইসলাম মানবজাতিকে এই অর্থনৈতিক শোষণ থেকে রক্ষা করতে সুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং একে আল্লাহ ও রাসূলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে অভিহিত করেছে। খতিব বলেন, ইসলামী আইনশাস্ত্র ও তাফসীরের পরিভাষায় ‘রিবা’ বা সুদের মূল অর্থ হলো অতিরিক্ত বা বৃদ্ধি। বিদায়ী হজের ঐতিহাসিক ভাষণে প্রিয়নবী (সা.) জাহিলী যুগের সকল কুসংস্কৃতি, রক্তের বদলা এবং সুপ্রথার মূলে আঘাত করে সমস্ত বৈষম্য ও শোষণ চিরতরে বাতিল ঘোষণা করেছেন। ঐতিহাসিক আরাফাতের ময়দানে দেওয়া ওই ভাষণে মানবতা ও ইনসাফের এক অনন্য বার্তা দেওয়া হয়েছিল। সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সুদের মূলোচ্ছেদ ঘোষণা করে প্রিয়নবী (সা.) বলেন, “জাহিলী যুগের সমস্ত সুদ বাতিল করা হলো। আর আমি সর্বাগ্রে আমাদের চাচা আব্বাস ইবনু আবদুল মুত্তালিবের সমস্ত সুদ বাতিল ঘোষণা করছি।” ইসলামে সুদের ভয়াবহতা ও এর পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পবিত্র কোরআনের আলোকে জানানো হয়, যারা সুদ খায়, কিয়ামতের ময়দানে তারা এমন এক অপ্রকৃতিস্থ অবস্থায় উঠবে, যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল বানিয়ে দিয়েছে। আল্লাহ তা’য়ালা মুমিনদের উদ্দেশে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন:‘‘হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা অবশিষ্ট আছে, তা পরিত্যাগ করো, যদি তোমরা প্রকৃত মুমিন হও।” আল্লাহ আমাদেরকে সুদের মতো ভয়ংকর অপরাধ থেকে হেফাজত করুন, আমিন।সূ:ই