কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা : সন্দেহভাজন সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে আটক

অনলাইন ডেস্ক: কুমিল্লার লালমাইয়ে ধানখেত থেকে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সন্দেহভাজন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নগরী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুজ্জামান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে সুমনকে চট্টগ্রাম নগরী থেকে গ্রেফতার করে।
এর আগে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সুমনের খালাশাশুড়ি ও বোনজামাইকে আটক করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে সুমনের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। নিজের বাড়ি না থাকায় শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগে ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান বলেও স্থানীয় সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ অক্টোবর রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরে তাজমিন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে সে নামে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজেও তার চলাচলের দৃশ্য পাওয়া গেছে। তবে হোটেলের সামনে নামার পর তাজমিন কোথায় গিয়েছিল, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল এবং কীভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এর আড়ে গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানখেত থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। পরে অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থলের একাধিক ধানখেতে দৌড়াদৌড়ি ও ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এসব আলামত বিশ্লেষণ করে ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। অটোরিকশাটির সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং তাজমিনের মৃত্যুর পেছনে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। গ্রেফতার সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করবে পুলিশ। এছাড়াও মামলাটির তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত, অটোরিকশার সংশ্লিষ্টতা এবং তাজমিনের শেষ সময়ের চলাচলসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহত তাজমিনের পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কক্সবাজারে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। কক্সবাজার থেকে ফেরার পর সে আর পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি।

পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাজমিন তার বাবাকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিল।
নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। তার বাবা রেনেটা ওষুধ কোম্পানির কুমিল্লা অঞ্চলে কর্মরত। পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত তাজমিন। সে নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন তাজমিন প্রায় ৬/৭ মাস স্কুলে অনুপস্থিত। দীর্ঘ এই সময় স্কুল ফাঁকি দিয়ে তাজমিন কোথায় যেতো, কার সাথে মিশতো এসব বিষয় তার বাবা-মা জানতো না। এদিকে এই হত্যাকা-ের ঘটনায় তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

মন্তব্য করুন