অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, ‘ইসলামী কার্যক্রমের অগ্রযাত্রায় সবচেয়ে বড় বাধা বাইরের শত্রুতা, হিংসা কিংবা অপপ্রচার নয়; বরং নিজেদের কাজের ত্রুটি, আমলে ইখলাসের ঘাটতি ও আত্মশুদ্ধির অভাব।
তিনি বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে রিয়া, লোভ ও ব্যক্তিগত খাহেশাত পূরণের প্রবণতা থাকলে বড় বড় দ্বীনি কার্যক্রমও ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই ইসলামের কর্মীদের আত্মশুদ্ধি ও ইখলাসের প্রতি বিশেষ যত্নবান হতে হবে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত আজিমুশ শান ইসলাহী ইজতেমায় জুমার নামাজের আগে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘ইসলামের অগ্রযাত্রা রুখে দেয়ার শক্তি কারও নেই। তবে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলদের নিজেদের আমল, নৈতিকতা ও আত্মিক সংশোধনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তিগত স্বার্থ ও খাহেশাত পূরণের প্রবণতা দ্বীনি কার্যক্রমের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামী সমাজের দৃশ্যমান কার্যক্রম ও অগ্রগতিকে টিকিয়ে রাখতে আত্মশুদ্ধি ও ইসলাহের মেহনতকে শক্তিশালী করতে হবে। একটি বৃক্ষের শিকড় যেমন মাটির নিচে থেকে পানি ও পুষ্টি সংগ্রহ করে পুরো বৃক্ষকে সজীব রাখে, তেমনি আত্মশুদ্ধির চর্চা ইসলামী সমাজের ভিত্তিকে শক্তিশালী করে।
ঢাকায় এ ধরনের আত্মশুদ্ধিমূলক কর্মসূচিকে সমগ্র দেশের জন্য উপকারী উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে সিলেটের মতো ঢাকায়ও তিন দিনব্যাপী পূর্ণাঙ্গ ইজতেমা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ আয়োজন সফল করতে ঢাকাবাসী সাধ্যের সবটুকু দিয়ে সহযোগিতা করবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের ইসলামী শিক্ষা প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে সন্তানদের শৈশব থেকেই কোরআন ও ঈমানের মৌলিক শিক্ষা দেয়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকেরা সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করতে দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা রাখছেন। তবে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে শিশুদের প্রাথমিক পর্যায়ে কোরআন ও ঈমানের মৌলিক শিক্ষা দেয়ার পর্যাপ্ত আয়োজন নেই। এ ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের ভূমিকার প্রতি সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন রয়েছে।
ইসলামী শিক্ষা ও ধর্মীয় জাগরণ নিয়ে বিরূপ মনোভাব পোষণকারীদের প্রতি হেদায়েতের দোয়া করে তিনি বলেন, ‘বিরূপতা ও অপপ্রচার ইসলামের অগ্রযাত্রা থামাতে পারবে না। বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকেই বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে জাগরণ শুরু হয়েছে।
এ জাগরণ একসময় বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিজয়ের মধ্য দিয়ে পরিণতি লাভ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তরুণ আলেমদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘উম্মতের সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার আগে আলেম-ওলামাদের নিজেদের অন্তর পরিশুদ্ধ করা জরুরি। শিক্ষকতা, দ্বীনি খেদমত কিংবা পেশাগত জীবনে প্রবেশের আগে প্রত্যেকের আত্মগঠন সম্পন্ন করা প্রয়োজন। এ জন্য কোনো মুসলিহ, শায়খ ও মুরুব্বির তত্ত্বাবধানে থেকে নিজেদের সংশোধন ও রুহানিয়াত জাগ্রত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে তরুণ আলেমদের মধ্যে আত্মশুদ্ধির চর্চা এবং মুরুব্বিদের তত্ত্বাবধানে ইসলাহের মেহনতে যুক্ত হওয়ার প্রবণতা কমে গেছে। শিক্ষাজীবন শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের মধ্যবর্তী সময়ে তাদের আত্মশুদ্ধির জন্য মাশায়েখদের পরিচালিত কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত করা জরুরি। এটি শুধু খানকাহের দায়িত্বশীলদের নয়, বরং সমগ্র উম্মত ও আলেমসমাজের দায়িত্ব।
ইসলামী আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার বিষয়ে সতর্ক করে মামুনুল হক বলেন, ‘বাইরের শত্রুতা, হিংসা, বিদ্বেষ কিংবা অপপ্রচার ইসলামী কার্যক্রমের বড় ক্ষতির কারণ হবে না। বরং নিজেদের ত্রুটি, আমলে ইখলাসের ঘাটতি, রিয়া, লোভ ও আত্মশুদ্ধির অভাবই বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে হজরত মুসা (আ.)-এর যুগের বালআম ইবনে বাউরার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষ সরাসরি মোকাবিলায় সফল না হয়ে পাপাচারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত থেকে একটি বাহিনীকে বঞ্চিত করার কৌশল নিয়েছিল। এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীলদের কর্মীদের নৈতিক ও আত্মিক সংশোধনের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়া এবং ইসলাহের মারকাজগুলোকে তরুণ প্রজন্মের আত্মশুদ্ধি ও সংশোধনের কাজে আরো বেশি মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।ন:দি