নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী গ্রামে জুলাইযোদ্ধা তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত অর্ধশত বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের লোকজনের বিরুদ্ধে। গতকাল বুধবার সকালে মসজিদ কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এমদাদ মাতুব্বরের পক্ষের অন্তত পাঁচজন মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত জুলাই যোদ্ধা তামিম মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে তাদের সঙ্গে থেকে আমাদের বাড়িঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে ঢুকে হামলা চালিয়েছে, লুটপাট করেছে এবং আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
তামিম মাতুব্বর আরো অভিযোগ করেন, সদর থানার ওসি আওয়ামী লীগের লোকজনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাহেরান্দী গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা বাচ্চু মোড়ল ও লাভলু মোড়লের সঙ্গে একই এলাকার এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। সম্প্রতি বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর জের ধরে বুধবার সকালে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
তাদের দাবি, হামলায় জুলাই যোদ্ধা তামিম মাতুব্বরের বাড়িসহ অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। কয়েকটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, ঘটনার সময় সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বাচ্চু মোড়লের পক্ষের প্রতি পক্ষপাত দেখিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের লোকজনকে ধাওয়া দিয়ে এলাকা থেকে সরিয়ে দেন। এরপর তাদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে আর্থিক সুবিধা নিয়ে একটি পক্ষকে সহযোগিতা করার অভিযোগও তুলেছেন তারা। এমদাদ মাতুব্বরের পক্ষের একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, ঘটনার অভিযুক্ত বাচ্চু মোড়লকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। অন্য অভিযুক্তদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।সূ:ই