tag: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগ করলেন। আমাদের খবর
Sun. Oct 25th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগ করলেন।

1 min read
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির পদত্যাগ করলেন। করোনা ভাইরাস মহামারির মধ্যে একের পর এক কেলেঙ্কারিতে সমালোচনার মুখে পদত্যাগ করতে হলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এর পদত্যাগপত্র জমা দেন। বিশেষ নির্দেশনা পেয়ে তিনি সরে গেলেন। আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগপত্র গৃহীতের বিষয়টি প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, এক মাস আগে তাকে পদত্যাগ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নানাভাবে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তিনি।

২০১৬ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মহাপরিচালকের পদে দায়িত্ব গ্রহন করেন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুক্তিতে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তাকে চুক্তিতে নিয়োগ দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পাওয়ার আগে ডা. আবুল কালাম আজাদ এই অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (প্রশাসন) দায়িত্বে ছিলেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক পদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে নিয়োগ দিতে বলবেন তাকেই নিয়োগ দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সবকিছু করা হবে।

তিনি বলেন, আবুল কালাম আজাদ যেহেতু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান, তাই সেখানে তিনি পদত্যাগ করেছেন।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) মহাসচিব ডা. ইহতেশামুল হক চৌধুরী দুলাল বলেন, তার এই পদত্যাগের মধ্য দিয়ে অধিদপ্তরের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

চিকিৎসক সমাজের প্রতিও মানুষের আস্থা বাড়বে বলে জানান।

মহাপরিচালক থাকাকালে তিনি কোনো অনৈতিক কাজে লিপ্ত ছিলেন কি না, তা তদন্ত করে বের করার দাবি জানান তিনি।

স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি অধ্যাপক ডা. এম ইকবাল আর্সলান বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি পদে একজন যাবে, আরেক জন আসবে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় এটাই নিয়ম। তবে নতুন যে মহাপরিচালক আসবেন সেই ব্যক্তিটি যেন সৎ ও নিষ্ঠাবান হন।

সততার ঘাটতি পূরণ করা যায় না। অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণ করা যায়।

আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ

এদিকে আবুল কালাম আজাদ পদত্যাগ করায় কে হচ্ছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক—তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা।

এক্ষেত্রে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে আলোচনায় আছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. ইউসুফ ফকির।

অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. টিটু মিয়া।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. শামীম হাসান প্রমুখ।

করোনা নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কাজে সমন্বয়হীনতা আগে থেকে থাকলেও সেটা প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসেবে অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন পাওয়া রিজেন্ট হাসপাতাল এবং নমুনা সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠান জেকেজির নজিরবিহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও প্রতারণার পর।

গত মার্চে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একের পর এক কেলেঙ্কারির খবর প্রকাশ পাওয়ায় সমালোচনায় পড়েন অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

শুরুটা হয়েছিল চিকিৎসকদের নিম্ন মানের মাস্ক সরবরাহ দিয়ে।

তারপর রিজেন্ট হাসপাতাল কেলেঙ্কারি ও জেকেজি হেলথ কেয়ারের জালিয়াতি ফাঁস হওয়ার পর তোপের মুখে পড়েন মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

এক পর্যায়ে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে সরকারের চুক্তির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দিকে অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বিরোধে জড়ান।

এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দিয়েছিল।

তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলেছিল। ঐ সময়সীমার শেষ দিনে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে সচিবের কাছে নোটিশের লিখিত জবাব দেন অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

গত জুন মাসে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের একটি বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

মানুষ যখন আগামী দু-এক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই গভীর অনিশ্চয়তার কথা শোনান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

১৮ জুন অনেকটা আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বুলেটিনে হাজির হয়ে মহাপরিচালক বললেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এক, দুই বা তিন মাসে শেষ হচ্ছে না।

আগামী দুই থেকে তিন বছর বা তারও বেশি সময় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকবে।

তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কোনো কোনো কর্মকর্তার করোনার স্থায়ীকাল নিয়ে অদূরদর্শী ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য জনমনে হতাশা তৈরি করছে।

এমআইএস

মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালনকালে অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ করোনা ভাইরাসেও আক্রান্ত হয়েছিলেন।

আক্রান্ত হওয়ার পর গত মে মাসে তিনি সিএমএইচে ভর্তি হয়েছিলেন।

১৯৮৩ সালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করা আবুল কালাম আজাদ ২০০১ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান।

১৯৯০ সালে তত্কালীন আইপিজিএমআর (বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে এমফিল ডিগ্রি নেন তিনি।

আবুল কালাম স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের পরিচালক এবং অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) দায়িত্বেও ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *