সামনের সময় কিন্তু সুবিধার না সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: তারেক রহমান

অনলাইন ডেস্ক: দেশে ষড়যন্ত্র থেমে নেই, এই নির্বাচনও খুব সহজ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সামনে সময় কিন্তু সুবিধার নয়। এই ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান তিনি।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের সিটি প্যাভিলিয়নে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার লন্ডন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় দিবসের আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

প্রবাসীদের সঙ্গে বিজয় দিবসের এই অনুষ্ঠানটি এক হিসেবে তারেক রহমানের বিদায় অনুষ্ঠানও।

তারেক রহমান দীর্ঘ প্রবাসজীবনের কথা স্মরণ করে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার কথা জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

প্যাভিলিয়নে প্রবাসীদের উপস্থিতিতে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। সভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আমি এক বছর আগে বলেছিলাম, সামনে কিন্তু আমাদের কঠিন সময়। ষড়যন্ত্র থেমে নেই এবং এই নির্বাচনও কিন্তু খুব সহজ নয়। আপনারা অনেকেই কিন্তু ব্যাপারটা এখন বুঝতে পারছেন। এক বছর আগে যা বলেছিলাম, সেটা কিন্তু হচ্ছে। এখন আমি আবারও বলছি, সামনের সময় কিন্তু খুব সুবিধার না। কাজেই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারলেই আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব, ঐক্যবদ্ধ থাকলেই আমরা বাংলাদেশের জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।বাংলাদেশকে একটি সুখী, কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করতে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, বেকার সমস্যা সমাধানসহ দেশ গড়ার নানা পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘আপনাদের সামনে আমি যে পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেছি, আমাদের আগে কাজ শুরু করতে হবে। আমরা যদি কাজ শুরু করতে না পারি এবং আমরা যদি সবার দাবি উপস্থাপন করতে থাকি, তাহলে কিন্তু একটা ইনডিসিপ্লিন তৈরি হবে। ফলে আমরা কিন্তু আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারব না।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মধ্যে অনেকেই বক্তব্যে বলেন, আমরা এই স্বপ্ন দেখছি, সেই স্বপ্ন দেখছি। আমি ভাই স্বপ্ন-টপ্নের মধ্যে নেই। আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই। আমরা আছি পরিকল্পনার মধ্যে। আমরা পরিকল্পনা করব। আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। আমরা কোনো স্বপ্নের মধ্যে থাকতে চাই না। স্বপ্ন দেখতে দেখতে দেশ থেকে প্রতিবছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেয়েছে। স্বপ্ন দেখতে দেখতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা, দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, দেশের কৃষিব্যবস্থা, দেশের রাস্তাঘাট, দেশের আইন-আদালত, আইন-শৃঙ্খলা সবকিছু ভেঙে চুরমার হয়ে গেয়েছে।

বিভিন্ন সময় দেশকে যারা এগিয়ে নিতে চেয়েছিল, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই গতিকে রোধ করা হয়েছে-মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশটি যদি গড়ে তুলতে হয় আমাদের প্রত্যাশার মতো, তাহলে কাজ আমাদেরকেই করতে হবে।

তিনি জানান, ’৭১, ’৭৫, ’৮১, ’৯৬ এবং পরবর্তী সময়ে যারা ষড়যন্ত্র করেছে, তাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে এবং এ দলের নেতাকর্মীর পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষকে সচেতন করা, তাদের সঙ্গে নিয়ে সজাগ এবং সতর্ক থাকবে ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে।

আগামী নির্বাচন নিয়ে সতর্কতার কথা জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘এই আগামী নির্বাচন কিন্তু কোনো এক্সপেরিয়েন্সের বিষয় না। এক্সপেরিমেন্টের বিষয় না। এই সুযোগটা আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এটিকে সদ্ব্যবহার করতে হবে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা যে রকম আন্দোলনকে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে, একইভাবে প্রবাসীদের সামনে এখন বিশাল দায়িত্ব হচ্ছে, সঠিক দলকে নির্বাচিত করতে সহযোগিতা করা। যে দল সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে আগামী দিনে দেশকে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।

২৫ তারিখ বিদায় দিতে কাউকে হিথরো এয়ারপোর্টে না যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘২৫ তারিখে ইনশাআল্লাহ আপনাদের দোয়ায় আল্লাহর রহমতে আমি দেশে ফিরে যাব। কিন্তু এখানে উপস্থিত, এই ঘরে উপস্থিত প্রতিটি মানুষের কাছে আমার অনুরোধ, দয়া করে আপনারা সেদিন কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না। কারণ এয়ারপোর্টে গেলে একটি হট্টগোল তৈরি হবে এবং মানুষ জানবে যে এরা সব বাংলাদেশি। এতে দেশের সুনাম নষ্ট হবে, দলের সুনাম নষ্ট হবে।

১/১১-এর সেনা সমর্থিত সরকারের সময় ২০০৭ সালে তারেক রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০০৮ সালে কারা হেফাজতে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে উচ্চ আদালতের জামিনে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে আসেন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমান। দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবেন তারেক রহমান।

তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে তাঁকে অভ্যর্থনা দিতে কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। এই কমিটির আহ্বায়ক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

জানা গেছে, অভ্যর্থনা কমিটিতে বিএনপির ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবরা সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

গতকাল বিকেলে অভ্যর্থনা কমিটির প্রথম বৈঠক হয়। এই বৈঠকে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে অভ্যর্থনার কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সদস্যরা আলোচনা করেন। এর আগে গত সোমবার গুলশানে চেয়ারপরসনের কার্যালয়ে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যৌথ সভায়ও এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।ই

মন্তব্য করুন