সাতকানিয়ার সেই পলাতক “তছলিমা” অবশেষে কারাগারে

ছবিটি এআই দিয়ে করা।

নিজস্ব প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বারদোনা এলাকায় জায়গা ও মার্কেট দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত ধর্ষণচেষ্টা মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় তছলিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর আসামি আরেফা বেগমের জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে।

রোববার (১১ অক্টোবর) চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর (ইনচার্চ) বিচারক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর একই মামলার আরও ৩ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক। তবে তাঁরা ১১ দিন কারাভোগের পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর জামিনে মুক্তি পান।

কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ পাওয়া ওই ৩ আসামিরা হলেন—সাতকানিয়ার বারদোনা ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খিতামুল্লাহ পাড়ার বাসিন্দা ও শাহ মজিদিয়া মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আলী, একই এলাকার অটোরিকশাচালক ফরিদুল আলমের ছেলে সিএনজিচালক মো. হারুন এবং বারদোনা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল ইসলামের ছেলে মো. এনাম, যিনি ‘কাঠ এনাম’ নামে পরিচিত।

জায়গা ও মার্কেট দখলের বিরোধের জেরে মামলা:
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিনের অভিযোগ, তাঁর নিজস্ব জায়গা ও মার্কেট দখলের চেষ্টা এবং পূর্ববিরোধের জেরে ২০২২ সালে তছলিমা আক্তার বাদী ও অন্যরা সাক্ষী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটির নম্বর ৩০৬/২০২২ইং। এতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল।

গিয়াস উদ্দিনের দাবি, ওই মামলায় তাঁকে কারাভোগ করতে হয়। এতে তিনি বিগত ৪ বছর যাবৎ সামাজিক, মানসিক, শারীরিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। এমনকি পরিস্থিতির কারণে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া বাসায় বসবাস করতে বাধ্য হন বলেও জানান তিনি।

পরবর্তীতে মামলাটির যুক্তিতর্ক শেষে গত ৫ জুন আদালত তাঁকে বেকসুর খালাস দেন।

অপরদিকে, প্রতিকার চেয়ে নতুন মামলা:
গিয়াস উদ্দিন জানান, প্রতিকার চেয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট আদালতে তিনি আরেকটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৯৮/২০২৬; ধারা- ১৭(১) ও ৩০। তাঁর পক্ষের আইনজীবী ও মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংশ্লিষ্ট মামলার বাদী ও সাক্ষীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর ৩ আসামি আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাঁরা গত ২৪ সেপ্টেম্ব জামিনে মুক্তি পান।

পলাতক ছিলেন তছলিমা ও আরেফা:
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ মামলার অন্য আসামিরা আটক হলেও মূল আসামি “তছলিমা আক্তার ও আরেফা বেগম” এত দিন পলাতক ছিলেন।

সূত্রে, তছলিমা আক্তার বারদোনা এলাকার মো. আইয়ুবের মেয়ে এবং সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছগিরা পাড়ার ইলিয়াছের স্ত্রী। আরেফা বেগম হলেন আইয়ুবের স্ত্রী ও তছলিমা আক্তারের মা।

গিয়াস উদ্দিন আরও জানান, পলাতক ২ আসামিকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা এত দিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও প্রশাসন তাঁদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।

অবশেষে ১১ অক্টোবর, রোববার আদালতে হাজির হয়ে ২ আসামি জামিনের আবেদন করলে আদালত তছলিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন এবং আরেফা বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন।

হুমকি ও অপপ্রচারের অভিযোগ:
সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন, মামলার প্রথম ৩ আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তাঁদের পক্ষের অনুসারীরা তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি-দমকি দিচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচারসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এসব বিষয়ে তিনি প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে, উক্ত তছলিমা আক্তার কারাগারে যাওয়ার খবরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন