শীত-কুয়াশায় দেশজুড়ে কাঁপন

দিনের তাপমাত্রাও নেমেছে ১৬ ডিগ্রিতে! কম সময়ই সূর্যের দেখা শীতের কামড় এক সপ্তাহ চলতে পারে : দরিদ্রদের চরম দুর্ভোগ
অনলাইন ডেস্ক: পৌষের দশ তারিখে এসে উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হিমালয় পর্বতমালা ছুঁয়ে আসা হিমেল কনকনে হাওয়ায় আরো জেঁকে বসেছে শীত। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলসহ অধিকাংশ জেলায় শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে মাঝারি থেকে গাঢ় কুয়াশায় কাঁপুন তুলেছে। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ এবং মধ্যাঞ্চলে ঢাকা বিভাগ পর্যন্ত রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা হ্রাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিনের বেলায় ‘সর্বোচ্চ’ তাপমাত্রার পারদও নেমে গেছে ১৬, ১৭ কিংবা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে!

Advertisement
গতকাল দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা (রাতের) ছিল রাজশাহীতে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সে.। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ ডিগ্রি সে.। অন্যদিকে দিনের বেলার ‘সর্বোচ্চ’ তাপমাত্রা নেমে গেছে- উত্তর জনপদের নীলফামারীতে ১৬.৫, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৬.৬, বাঘাবাড়িতে ১৬.৮, সিরাজগঞ্জে ১৭, ঢাকা বিভাগের আরিচায় ১৭.৪ ডিগ্রি সে.। আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, ঘন কুয়াশার সাথে শীতের কামড় আরও অন্তত এক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।

গ্রাম-গঞ্জ, শহর-বন্দর-জনপদ বিশেষ করে নদ-নদী অববাহিকায় মধ্যরাত থেকে সকাল পেরিয়ে এমনকি দুপুর অবধি মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ছে। এর ফলে দেশের অনেক জায়গায় খুব কম সময়ই মিলছে সূর্যের দেখা। দিনমজুর হতদরিদ্র জনগোষ্ঠি পড়েছে চরম দুর্ভোগে। কাজকর্ম মিলছে কম। তাদের আয়-রোজগার ব্যাহত হচ্ছে। শীত ও কুয়াশার দাপট বৃদ্ধির কারণে বাড়ছে সর্দি-কাশি-জ্বর, শ^াসকষ্ট, চর্মরোগ-ডায়রিয়াসহ ঠা-াজনিত বিভিন্ন রোগব্যাধি।

ঘন কুয়াশার বাধা ডিঙিয়ে রাতের বেলায় সড়ক মহাসড়কে বাস, ট্রাকসহ যানবাহন চলাচলে ঝুঁকি বেড়ে গেছে। কমেছে যানবাহনের গতি। টানা কুয়াশা ও শীতের কারণে বিভিন্ন ধরনের ফল-ফসল ও বীজতলায় কোল্ড ইনজুরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানায় কৃষি আবহাওয়া বিভাগ।

এদিকে আজ শুক্রবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে জানা গেছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা এক থেকে ২ ডিগ্রি সে. কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে। আগামী সপ্তাহে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমেই কমতির দিকে যেতে পারে।
আবহাওয়া বিভাগ জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের একটি বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত আছে।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রাজশাহীর জনজীবন। বৃহস্পতিবার রাজশাহী আবহাওয়া অফিসে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এটিই আজ দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকাল ৬টায় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ। বুধবার রাজশাহীতে দিনের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ ডিগ্রি আর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখানে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, রাজশাহী অঞ্চলে শীতের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। আগামী কয়েক দিন রাতের তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। সকালের দিকে কুয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজশাহীতে আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে রাজশাহী মহানগর ও আশপাশের এলাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি। ভোরের দিকে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মহাসড়কে দূরপাল্লার যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শীতার্ত মানুষের কষ্টও বেড়েছে।

নগরীর সাহেববাজার এলাকায় রিকশাচালক আব্দুল মালেক বলেন, ভোরে বের হতে খুব কষ্ট হয়। হাত-পা অবশ হয়ে আসে, যাত্রীও কম। একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক বলেন, সোয়েটার ও জ্যাকেট পরেও শীত যাচ্ছে না। এছাড়া সড়কে লোকজন কম। সব মিলে লোকজন কমে গেছে। শীতের মধ্যে কাজও করতে ভালো লাগে না।

স্টাফ রিপোর্টার, শেরপুর থেকে জানান, গোটা শেরপুর জেলা জুড়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। শৈত্যপ্রবাহ শুরু না হলেও হিমেল হাওয়া, রাতভর বৃষ্টির ন্যায় ঝরা ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বাতাসের আর্দ্রতায় শীতের অনুভূতিকে আরো তীব্র থেকে তীব্রতর করে তুলেছে। ভারত বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেষা শেরপুর গারো পাহাড় বেষ্টিত উপজেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ যেন কয়েক গুণ বেশি। শেরপুরের গারো পাহাড়ি ঝিনাইগাতী, শ্রীবরদী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার মানুষের বসবাসরত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সিংহভাগ হতদরিদ্র মানুষের কষ্ট বলে শেষ করার মতো নয়! এসব পাহাড়ি উপজেলায় দশ থেকে পনেরো লাখ মানুষ বসবাস করেন। হিমেল বাতাস আর কনকনে ঠান্ডায় পাহাড়ি অঞ্চলের বহু হতদরিদ্র মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। ঝিনাইগাতী উপজেলার শতবর্ষী ডা. আব্দুল বারী বলেন, গারো পাহাড় সীমান্তে শীতের তীব্রতা জনজীবনকে কার্যত অচল করে তুলেছে। জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শেরপুর জেলায় যা কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

প্রসঙ্গত, শীতের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে দিনমজুর শ্রেণির মানুষের জীবনে। প্রচ- ঠান্ডার কারণে অনেকেই কাজে যেতে পারছেন না। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তাদের দিন কাটছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। সীমান্তবর্তী শেরপুর জেলায় প্রতি বছরই শৈত্যপ্রবাহে হতদরিদ্র মানুষের কষ্টের সীমা থাকেনা। তাই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বয়স্ক লোকজন। অপরদিকে শীতজনিত রোগীর সংখ্যাও ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। জেলা সদর হাসপাতালসহ পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিনই বাড়ছে সর্দি, কাশি, জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। চিকিৎসকদের মতে, শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। তা গারো পাহাড়াঞ্চলের শীতার্ত মানুষের প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

এদিকে গারো পাহাড়ের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতি দিনই কম্বল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে আরো পর্যাপ্ত কম্বলসহ শীত বস্ত্র বরাদ্দ প্রয়োজন।

স্টাফ রিপোর্টার, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) থেকে জানান, ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে গত বুধবার ও গতকাল বৃহস্পতিবার দিনভর রোদ দেখা যায়নি। ফলে দিনভর ভয়াবহ শীতে কাবু হয়ে পড়েন জনসাধারণ। বিশেষ করে নিন্মশ্রেনীর হতদ্ররিদ্ররা দুর্ভোগে পড়েছেন বেশি। চলতি বছরের মধ্যে বুধবার ও গতকাল শীতে তীব্রতা ছিল ভয়াবহ। সূর্যের আলো দেখা যায়নি দিনভর। অনেকেই আবার বিভিন্ন পণ্য দিয়ে আগুনের তাপ দিচ্ছে শীত থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য।

এ দিকে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এন.এম. আবদুল্লাহ-আল-মামুন গত বুধবার রাতে ও গতকাল বৃহস্পতিবার অসহায় হতদরিদ্রের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জেঁকে বসেছে শীত। গত তিন দিনে সূর্যের দেখা মেলেনি ভূরুঙ্গামারীর আকাশে। যতই দিন যাচ্ছে শীতের তীব্রতা ততই বাড়ছে। এতে শীতের অনুভূতি আরো তীব্র হয়ে উঠছে সাধারণ মানুষের জীবনে। বিশেষ করে কনকনে শীতে দুর্ভোগ বেড়েছে শিশু, বৃদ্ধ ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া অফিস।
এদিকে, সন্ধ্যা থেকে পরদিন দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকছে গোটা উপজেলা। কমছে বাতাসের আর্দ্রতা। বাড়ছে হিমেল হাওয়া। তাপমাত্রা থাকছে ১০ থেকে ১১ ডিগ্রিতে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলায় হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহনগুলোকে চলাচল করতে দেখা গেছে। শীতের তীব্রতায় কাহিল হয়ে পুরাতন কাপড়ের দোকানে ভিড় করছে নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেকেই তীব্র শীত আর ঘন কুয়াশার কারণে সময়মতো কাজে বের হতে পারছেন না, ফলে তাদের দৈনন্দিন আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

অটোরিকশা চালক আবু তালেফ বলেন, কুয়াশার কারণে সড়কে অটোরিকশা চালাতে সমস্যা হচ্ছে। সকাল বেলা হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে। তাছাড়া যাত্রীও কমে গেছে। কুয়াশা বাড়লে আয় কমে যায়। এতে পরিবারের ব‍্যয় মেটাতে হিমশিম খেতে হয়।

শীতের তীব্রতা নিবারণে সরকারি কিংবা বেসরকারি সংস্থার পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। যার ফলে এ অঞ্চলের ছিন্নমূল মানুষকে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা যাচ্ছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার দত্ত জানান, ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়াা গেছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ কম্বল কেনা হয়েছে। যা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও জেলা থেকে ৬০০ কম্বল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে থেকে ৫০০ কম্বল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেয়া হবে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী কয়েকদিনে তাপমাত্রা আরো কিছুটা কমতে পারে এবং শীতের তীব্রতা অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, গত কয়েকদিনের হিমেল বাতাস ঘন কুয়াশা আর প্রচ- কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর সভার বিভিন্ন স্থানসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শীতার্তদের নিজ হাতে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছেন পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম আহমেদ। মানবিক সেবায় তিনি এক নজির স্থাপন করেছেন। শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্হানে শীতার্ত ছিন্নমুল অসহায় মানুষগুলো যখন জবুথবু। তখন তাদের শীত নিবারণের জন্য এগিয়ে আসেন মানবিক এই কর্মকর্তা । গতকাল ২৪ ডিসেম্বর বুধবার রাতে, মানুষ যখন শীতের হাত থেকে বাঁচতে ঘরে ঠাঁই নিয়েছেন তখন তিনি সহকারী কমিশনার (ভূমি) বেলায়েত হোসেন, প্রকল্প অফিস সহায়ক জুয়েল ও কয়েক জন কর্মচারীকে সাথে নিয়ে পৌর শহরের পাঁচমাথা, তিনমাথা, বাসস্ট্যান্ড, সৈয়দ নুরুদ্দিন এতিম ও হাফেজখানা, রেল স্টেশন, বাগজান বাজার ও ১ টি গীর্জাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাসমান ছিন্নমূল নারী পুরুষদের গায়ে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দেন তিনি। এমন প্রাপ্তিতে অনেকেই হয়েছে হতবাক, কেউবা প্রফুল্ল।

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, কুড়িগ্রামের উলিপুরে ৭শ’ ৪৭ দরিদ্র পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকালে উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নে মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসের অর্থায়নে ও উলিপুর মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির বাস্তবায়নে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবারও তাদের সহযোগিতায় উপজেলার বজরা ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়। গুনাইগাছ ইউনিয়নে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এসএম মেহেদী হাসান, উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ও গুনাইগাছ ইউনিয়নের প্রশাসক কে এম মাসুদুর রহমান, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হুমায়ন কবীর, ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোলায়মান আলী, মতিয়ার রহমান শাহীন, সংরক্ষিত নারী সদস্য আলেয়া বেগম, সৈয়দা তাহমিনা বেগম, মহিদেব যুব সমাজ কল্যাণ সমিতির উপ-পরিচালক প্রমুখ।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে দুর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখে বিআইডব্লিউটিসি ঘাট কর্তৃপক্ষ। কুয়াশার ঘনত্ব কমে এলে ভোর পাঁচটা থেকে পুনরায় ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। বুধবার ২৪ ডিসেম্বর রাত ১০টা ৪০ মিনিটে থেকে রাত ১২টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ও বৃহস্পতিবার ২৫ ডিসেম্বর রাত ২টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়ে নদী পার হতে আসা যানবাহনের চালক ও যাত্রীরা। বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক মো.সালাউদ্দিন বলেন, তারেক রহমান ঢাকায় আসার কারণে আমরা দৌলতদিয়া পাটুরিয়া নৌরুটে ছোট বড় ১৫টি ফেরি সচল রেখেছি। যাতে করে ঘাটে কোন যানবাহনকে দাঁড়ায় থাকতে না হয়। ঘাটে আসার সাথে সাথে ফেরিতে উঠে নদী পার হচ্ছে সকল যানবাহন।

মন্তব্য করুন