tag: লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন। আমাদের খবর
Thu. Oct 29th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন।

1 min read
লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন

লিচুর পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা জেনে নিন। লিচু একটি সুস্বাদু ও পুষ্টিকর রসালো ফল। একে একে দেখা মিলছে মৌসুমী সব রসালো ফলের। গ্রীষ্মে যে ফলগুলোর দেখা মেলে তারমধ্যে অন্যতম হলো লিচু। এই ফলটি দেখতে যেমন সুন্দর, খেতেও তেমনই সুস্বাদু ও রসালো। ছোট এবং গোলগাল এই ফলটি আমাদের শরীরের জন্য বেশ উপকারি। এই ফলের মধ্যে রয়েছে বেশকিছু চমকপ্রদ পুষ্টিগুণ। এটি নানাভাবে আমাদের অসুখ থেকে দূরে রাখে। লিচুর পুষ্টিগুণ অসাধারণ।

 

লিচুতে উপস্থিত অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের হার্ট ভালো রাখে। এই ফলটিতে অলিগনাল নামের এক উপাদান পাওয়া যায় যা নাইট্রিক অ্যাসিড উৎপাদন করে। লিচু শরীরের রক্তচাপও ঠিক রাখতে সাহায্য করে। লিচুতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে যা ক্যান্সার, বিশেষত মেয়েদের স্তন ক্যান্সার সারাতে সাহায্য করে।

প্রতি ১০০ গ্রাম লিচুতে প্রায় ৬৬ ক্যালোরি থাকে। এতে ফাইবার আছে যা চর্বি গলাতে সাহায্য করে থাকে।

তাই যারা ওজন কমাতে চান ডায়েটে অবশ্যেই লিচু রাখুন।

লিচুতে থাকা ফাইটো কেমিক্যাল থেকে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আর অ্যান্টি নিও প্লাসমিক প্রপার্টি তৈরি হয়।

এরা কোষ বিভাজন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে চোখে ছানি পড়ে না।

ইনফ্লুয়েঞ্জা হওয়ার প্রধান কারণ হলো বিভিন্ন ভাইরাস। দেখা গেছে ইনফ্লুয়েঞ্জা হলে লিচু খেলে তা দ্রুত সেরে যায়। লিচু খেলে হজম ভালো হয়। লিচুতে উপস্থিত পানি ও ফাইবার হজমের উন্নতি ঘটায়।

লিচুর পুষ্টিগুণ

লিচুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। এর ফলে আমাদের শরীরের ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মিনারেল কম্পোজিশন এবং উপস্থিত ভিটামিন সি হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে। আরও কিছু গুণাগুণ নিম্নরুপঃ

চোখ ভালো রাখে লিচু

লিচুতে আছে বিশেষ ফাইটোকেমিক্যাল, যা চোখ ভালো রাখতে সাহায্য করে।

চোখের ছানি পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় লিচু। ফলটির ভিটামিন ‘এ’ রাতকানা বা কর্নিয়ার অসুখ, চোখ ওঠা, চোখের কোনা ফুলে লাল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যা দূর করে।

গরমে ভালো থাকতে

স্বাদ আর গন্ধে অতুলনীয় লিচুতে রয়েছে প্রচুর পানি। ফলে প্রচণ্ড গরমে লিচু খেলে শরীরে পানির ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর হয়।

তাছাড়া মিষ্টি এবং সুস্বাদু লিচুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন সি। গরমকালে লিচু খেলে দুর্বলতা কাটিয়ে শরীর আরো কর্মক্ষম হয়ে ওঠে।

ওজন কমায়

লিচুতে যথেষ্ট পরিমাণ ফাইবার ও প্রচুর পানি থাকে, যা হজমের জন্য বিশেষভাবে কাজ করে। ফলটিতে প্রচুর পানি, ফাইবারের পাশাপাশি কম ফ্যাট থাকায় তা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে

লিচুতে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান, বিশেষ করে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে।

তাই নারীদের জন্য বিশেষ উপযোগী ফল এটি। এছাড়াও লিচুতে রয়েছে যথেষ্ট অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।

আযূর্বেদিক শাস্ত্র বলছে

লিচু শরীর ঠাণ্ডা রাখে। তৃষ্ণা মেটায় ও শরীরের বল বাড়ায়। পরিমিত খেলে শরীরের বায়ু, কফ ও পিত্ত নাশ করে।

অত্যধিক ক্লান্তিতে বা দীর্ঘ রোগভোগের পর দুর্বলতায় প্রতিদিন চার-পাঁচটি লিচু সামান্য লবণ মিশিয়ে খেলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।

মস্তিষ্কের দুর্বলতায় স্মৃতিবিভ্রম ঘটলে ভুলো মন মানুষজন দিনে আট দশটা লিচু লবণ মিশিয়ে খেলে স্মৃতি স্বাভাবিক হয়।

হৃদরোগী ও লিভারের রোগীদের পক্ষে লিচু উপকারী।

মৌসুমের সময় দু-বেলা চার-পাঁচটি করে লিচু খেলে বয়স বাড়লেও শরীরে লাবণ্য বজায় থাকে।

যকৃতের রোগে ভুগলে ঠিকমতো খিদে হয় না। দাস্ত অপরিষ্কার হয়, খাদ্যে অরুচি ভাব হয়।

এক্ষেত্রে দিনে দুবার লিচুর শরবত খেলে বা দু-বেলা ৫-৭টি লিচু খেলে যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়।

বোলতা, বিছে কামড়ালে পাতার রস ব্যবহার করা হয়।

কাশি, পেটব্যথা, টিউমার এবং গ্র্যান্ডের বৃদ্ধি দমনে লিচু ফল কার্যকর। চর্মরোগের ব্যথায় লিচু বীজ ব্যবহৃত হয়।

পানিতে সিদ্ধ লিচুর শেকড়, বাকল ও ফুল গলার ঘা সারায়।

কচি লিচু শিশুদের বসন্ত রোগে এবং বীজ অম্ল ও স্নায়বিক যন্ত্রণার ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। বাকল ও শিকড়ের ক্বাথ গরম পানিসহ কুলি করলে গলার কষ্ট উপশম হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *