tag: রিজেন্ট শাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ অভিযোগ। আমাদের খবর
Thu. Oct 29th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

রিজেন্ট শাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ অভিযোগ।

1 min read
রিজেন্ট শাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ অভিযোগ

রিজেন্ট শাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ অভিযোগ। রিজেন্ট শাহেদের নানা অপকর্মের অভিযোগ আসছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে তদন্ত করছে বাংলাদেশ পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থা। গত ৯ দিনে ঢাকা উত্তরা পশ্চিম থানায় প্রতারণা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা রিজেন্ট শাহেদের বিরুদ্ধে ১৬০ টি অভিযোগ করেছেন। কোনো কোনো ভুক্তভোগী মামলা করারও প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা বাংলাদেশ পুলিশকে জানিয়েছেন শাহেদের প্রতারণার শিকার তারা। শাহেদের কাছে কেউ প্রতারণার প্রতিবাদ জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। কাউকে কাউকে সে তার টর্চার সেলে নিয়ে গিয়েও নির্যাতন করেছেন। সেই সময় থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ আমলে নেয়নি।

অভিযোগ গুলোর মধ্যে রয়েছে- চুক্তিতে ব্যবসা করার নামে প্রতারণা, পাথর ও বালুর টাকা আত্মসাৎ, বাসা ভাড়া না দেয়া, জোর করে বাড়ি দখল।

অন্যকে প্ররোচনা দেয়া, হোটেল দখল, পণ্যের টাকা না দেয়া, গাড়ি ফেরত না দেয়া, চাকরি দেয়ার নাম করে টাকা আদায়।

বিদেশ পাঠানোর নাম করে টাকা আত্মসাৎ, এবং ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে মারধর করা ইত্যাদি।

অভিযোগগুলোর মধ্যে কয়েকজন নারী ভুক্তভোগীও রয়েছেন।

কয়েকজন নারী থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, শাহেদ তাদের ব্যবহার করেছেন বিভিন্ন প্রতারণামূলক কাজে।

প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন। পুলিশের কাছে তারা দাবি করেছেন যে, তারা শাহেদের কাছে মোটা অংকের টাকা পান।

তার কাছে রিজেন্ট হাসপাতালে টাকা চাইতে গেলে তারা নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

মান-সম্মানের ভয়ে তারা কাউকে কিছু বলেননি। এ সময় শাহেদ তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছেন।

গত ৬ই জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকার রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত ১৫ই জুলাই সাতক্ষীরার দেবহাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিজেন্ট হাসপাতালে মালিক শাহেদকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। পরে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করলে আদালত ১০ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (উত্তর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আদেশে শাহেদকে র‌্যাব এর কাছে হস্তান্তর করেন। র‌্যাব তাকে রিমান্ডের বাকি ৩ দিন জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

রিজেন্ট শাহেদ

মামলার মুখ্য তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (উত্তর) এডিসি বদরুজ্জামান জিল্লু গতকাল দুপুরে আমাদের খবরকে জানান, আদালতের আদেশে শাহেদকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তার কাছে জানা-অজানা অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। আমরা বিষয়গুলো তদন্ত করছি। তিনি আরো জানান, তার প্রতারণার শিকার হওয়া ভুক্তভোগীরা উত্তরা পশ্চিম থানায় ১৬০ টি অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উত্তরা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহেদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই উত্তরা থানা পুলিশের কাছে শাহেদের প্রতারণার শিকার হওয়া ব্যক্তিরা অভিযোগ করতে আসছেন।

কেন তারা এতোদিন পর শাহেদের নামে অভিযোগ করতে এলেন পুলিশের পক্ষ থেকে ভিকটিমের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।

ভুক্তভোগীরা উত্তরে বলেছেন যে, শাহেদের ভিআইপিররমতো চলাফেরা দেখে তারা তাকে ভয় পেতেন। মনে করতেন, তিনি অনেক বড় কিছু।

থানায় অভিযোগ দায়ের করে যদি আবার তার রোষানলে পড়েন এজন্য তারা থানায় অভিযোগ করতে আসেননি।

এছাড়াও শাহেদ তাদের মেরে ফেলারও হুমকি দিয়েছিলেন।

সূত্র জানায়, রবিউল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ করতে এসে পুলিশকে জানান, তিনি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের বাসিন্দা।

২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক বড় ভাইয়ের মাধ্যমে শাহেদের সঙ্গে পরিচয়।

চলাফেরা এবং তার কথা শুনে বিশ্বাস করে তাকে ১১ লাখ টাকার পাথর সরবরাহ করেন।

পরে ১১ লাখ টাকার মধ্যে ৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন আর বাকি টাকা নানা তালবাহানা করে দেননি।

আমাকে তিনি মাদকের মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এছাড়াও টাকা উদ্ধারের জন্য নানাজনের মাধ্যমে তদবির করেছি। কিন্তু শাহেদ পাত্তা দেননি।

সাখওয়াত হোসেন নামে গাজীপুরের এক ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, শাহেদ তার হাসপাতালের জন্য ৫ লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ক্রয় করে।

পরে ওই টাকা দেননি। তার কাছে হাসপাতালে টাকা চাইতে গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রেখে মানসিক নির্যাতন করতো।

এছাড়াও একাধিকবার ব্যাংকের চেক দিলেও সেটি ব্যাংকে বাউন্স হয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ

শফিকুর রহমান নামে এক যুবক পুলিশের কাছে অভিযোগ করেছেন, এক বিয়ের অনুষ্ঠানে শাহেদের সঙ্গে তার পরিচয়।

তিনি নিজেকে সেনাবাহিনীর কর্নেল পরিচয় দেন। ৬ লাখ টাকা দিলে তিনি তাকে চাকরি নিয়ে দিবেন বলে আশ্বাস দিলে টাকা দেয়া হয় তাকে।

চাকরি না দিলেও পরে তিনি আর আমাকে টাকা ফেরত দেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরার ৩ নম্বর সেক্টরে বসবাসকারী বিবাহিত এক নারী অভিযোগ করেছেন, শাহেদের সঙ্গে ২০১৪ সালে উত্তরার এক নির্বাচনী পথসভায় তার পরিচয়।

এরপর থেকে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিনি আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিলে পরে আর পাত্তা দেননি। তার কাছে আমি প্রতারণার শিকার হয়েছে।

সূত্র জানায়, পুলিশের কাছে শাহেদের নামে যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো তদন্ত চলছে।

ভুক্তভোগীরা যদি শাহেদের নামে মামলা করেন তাহলে বাংলাদেশ পুলিশের পক্ষ থেকে ভিকটিমকে আইনগত সহযোগিতা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *