
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছেন মুসলিম প্রার্থীরা। দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে অন্তত ৩৭ জন মুসলিম প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। কংগ্রেস থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্যের আইনসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পদে তাদের এই সাফল্য মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্বের নতুন চিত্র তুলে ধরেছে।
জয়ী বা এগিয়ে থাকা প্রার্থীদের মধ্যে ৮জন কংগ্রেসে যাচ্ছেন। তাদের ১জন সিনেটে এবং ৭জন প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় ২৭ জন এবং বিচার বিভাগ ও কাউন্টি পর্যায়ের দুটি পদে মুসলিম প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে রয়েছেন। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য এসেছে মিশিগান থেকে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সকে পরাজিত করেছেন। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেট সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। ৪২ বছর বয়সি এল-সায়েদ ১জন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। এর আগে মিশিগানের স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। নির্বাচনি প্রচারে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ইসরাইলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার বিরোধিতা ছিল তার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান।
প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনেও মুসলিম প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। মিনেসোটা থেকে ইলহান ওমর, মিশিগান থেকে রাশিদা তালিব, ইন্ডিয়ানা থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়া থেকে লতিফা সিমন পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন আদম হামাওয়ি। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হতে যাচ্ছেন। পেশায় চিকিৎসক হামাওয়ি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতেও চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরাক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার। নির্বাচনি প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা ও শিক্ষাঋণের বোঝা কমানো এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন তিনি। নিউইয়র্কের ১৩তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। তিনি দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সদস্য আদ্রিয়ানো এসপাইয়াতকে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন। নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে তিনি কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম লাতিনা মুসলিম নারী হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন আয়েশা ওয়াহাব। এর আগে আগস্টে অনুষ্ঠিত বিশেষ নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি প্রতিনিধি পরিষদে প্রবেশ করেছিলেন। অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায়ও মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য ছিল উল্লেখযোগ্য। মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের মিশিগানে আব্বাস আলাউয়েহ, আলাবাস ফারহাত ও জালাল আবদুল্লাহ নিজ নিজ নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছেন বা এগিয়ে ছিলেন। ওহাইওতে জয় পেয়েছেন মুনিরা আবদুল্লাহি ও ইসমাইল মোহাম্মদ। ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকানদের দখলে থাকা একটি আসন ডেমোক্র্যাটদের ফিরিয়ে দিয়েছেন নাবিলা সৈয়দ। ২৬তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলসকে পরাজিত করেছেন। অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যটির প্রতিনিধি পরিষদে নিজের আসন ধরে রেখেছেন আবদেলনাসের রশিদ। মিশিগানের আপিল আদালতের নির্বাচনে এগিয়ে ছিলেন মারিয়াম সাদ বাজ্জি।
মিনেসোটায় জয় পেয়েছেন অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা ওমর ফাতেহ ও জয়নাব মোহাম্মদ। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মোহামুদ নুর ও সামাকাব হুসেইন। ওরেগনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর কায়সে জামা। তবে ওয়াশিংটন কাউন্টির চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে নাফিসা ফাই পাম ট্রিসের চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এদিকে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ৪৮তম ডিস্ট্রিক্টে প্রতিনিধি পরিষদের নির্বাচনে প্রায় ৬৯ শতাংশ ভোট পেয়ে এগিয়ে ছিলেন ওসমান সালাহউদ্দিন। যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও মুসলিম প্রার্থীরা সাফল্য পেয়েছেন। নিউইয়র্কের ১২তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন আবের কাওয়াস। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন রবার্ট জ্যাকসন। কানেকটিকাটে স্টেট সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন মরিয়ম খান ও সৌদ আনোয়ার। এ ছাড়া ডেলাওয়ারে মদিনা উইলসন-অ্যান্টন এবং পেনসিলভানিয়ায় তারিক খান নিজেদের আইনসভায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কানেকটিকাটের চতুর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টে পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে ছিলেন এমডি রহমান; তবে তার ফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।
দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতেও মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য দেখা গেছে। জর্জিয়ার সপ্তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়েছেন রুয়া রোমান। একই অঙ্গরাজ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রহমান। রিপাবলিকানদের দখলে চলে যাওয়া নিজের পুরোনো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন ফারুক মুগল। টক্সাসে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সালমান ভোজানি ও সুলেমান লালানি। হ্যারিস কাউন্টির বিচারক পদে জয় পেয়েছেন লেটিশিয়া প্লামার। এর মধ্য দিয়ে তিনি টেক্সাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্বাচিত মুসলিম নারী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নতুন পরিচিতি পেয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় নিজের আসন ধরে রেখেছেন স্টেট সিনেটর মুজতবা মোহাম্মদ। অন্যদিকে কলোরাডোর ২৯তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত হয়েছেন ইমান জোদেহ। টেনেসিতে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ইউসুফ হাকিম। তবে সব মুসলিম প্রার্থী জয় পাননি। অ্যারিজোনার চতুর্থ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জুহদি জাসের পরাজিত হয়েছেন। ফ্লোরিডার ১০৩তম হাউস ডিস্ট্রিক্টে হেরেছেন ইমতিয়াজ মোহাম্মদ। মিনেসোটার হেনেপিন কাউন্টি কমিশনার নির্বাচনে শ্যারন এল-আমিনও বর্তমান কমিশনার আইরিন ফার্নান্দোর চেয়ে পিছিয়ে ছিলেন। এ ছাড়া কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ভোট গণনা চলায় ফলাফল তখনো চূড়ান্ত হয়নি।
মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের অংশগ্রহণ বাড়ার বিষয়টি এবারের নির্বাচনে বিশেষভাবে সামনে এসেছে। কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনসের (সিএআইআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল পর্যায়ে ১৬০ জনের বেশি মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে এ সংখ্যা ছিল ১৪৫। এবারের নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের অংশগ্রহণ আগের নির্বাচনের তুলনায় বেড়েছে। কেবল প্রার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধিই নয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের জয়ও মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে নাগরিক অধিকার, স্বাস্থ্যসেবা, মানবিক সহায়তা এবং ইসরাইলকে মার্কিন সামরিক সহায়তার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি পরিবর্তনের দাবি কয়েকজন প্রার্থীর প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থীদের সাফল্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে আবদুল আল-সাইয়েদের সিনেটে জয় দেশটির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। তবে কয়েকটি আসনে ভোট গণনা ও আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা বাকি থাকায় জয়ী ও এগিয়ে থাকা প্রার্থীর সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
ট্রাম্পের থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন মিত্ররা : যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে ডেমোক্রেটিক পার্টির বিশাল জয়ের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের মেরুকরণ শুরু হয়েছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই ভরাডুবির জন্য ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আর এর পরই ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারা ইরান যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরত্ব তৈরি করতে শুরু করেছেন।
আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে সাধারণ ভোটারদের মনে মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি ও রাজনৈতিক মিত্ররাও যুদ্ধের পক্ষে জোরালো অবস্থান থেকে সরে আসছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ প্রভাবশালী নেতারা জনমতের কথা মাথায় রেখে ইরান যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন এবং জনরোষ এড়াতে কৌশলগত দূরত্ব বজায় রাখছেন।
নির্বাচনে দল পরাজিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে ভ্যান্স লিখেছেন, রিপাবলিকান সমর্থকদের একটি বড় অংশ এবার ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হিসেবে ইরান যুদ্ধ, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি এবং ইসরায়েলের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্কের পরিবর্তন চাওয়ার মনোভাব কাজ করেছে। ভ্যান্সের এই বক্তব্য ট্রাম্পের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরান যুদ্ধের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়ে আসছেন, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে মার্কিন জনগণের উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নীতি সমর্থন করেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের উত্তরসূরি হিসেবে ভ্যান্সকে দেখা হলেও, এই বিপর্যয়ের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য ট্রাম্পের ম্যান্ডেট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি করছেন। এমনকি ট্রাম্প নিজেও ভ্যান্সের প্রার্থিতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, “হয়তো সে প্রার্থী নাও হতে পারে।” উল্লেখ্য, ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে থাকা সত্ত্বেও এতদিন প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে আসছিলেন ভ্যান্স। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিজের হোম স্টেট ওহাইওতে সাবেক সেনেট আসনটি ডেমোক্র্যাটদের কাছে হারানোসহ দেশজুড়ে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর দলের মধ্যকার এই বিভাজন স্পষ্ট রূপ নিল।
‘ভেটো ক্ষমতা’ কতটা কার্যকর হবে : নির্বাচনে বড় ধরণের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ও রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুর্দান্ত সাফল্য দেখিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের (সিনেট এবং হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। এই নাটকীয় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল হিলের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তীব্র আকার ধারণ করেছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের নীতিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং তাদের নিজস্ব এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার ফলে মার্কিন রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট পদের ‘ভেটো ক্ষমতা’ এখন সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের ফলাফলের পর ট্রাম্প নিজে ভেটো ক্ষমতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেছেন, এটি একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের অন্যতম শক্তিশালী একটি সাংবিধানিক অস্ত্র। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেছেন যে, কংগ্রেসের পাঠানো সবকিছুতে প্রতিদিন ভেটো দিয়ে বসে থাকার ইচ্ছা তার নেই। তা সত্ত্বেও ডেমোক্র্যাটদের আইনগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হোয়াইট হাউসের প্রধান ঢাল হিসেবে কাজ করবে এই ভেটো পাওয়ার। মার্কিন আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের পাস করা কোনো বিল রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হলে প্রেসিডেন্ট তাতে স্বাক্ষর না করে তা ভেটো বা প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। ঐতিহাসিকভাবে মার্কিন কংগ্রেসে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা খুব কম সময়ই সফলভাবে ওভাররাইড বা বাতিল করতে পেরেছে, যা এই ক্ষমতাকে একটি শক্তিশালী আইনি প্রতিরোধব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। পাশাপাশি, ট্রাম্পের হাতে রয়েছে ‘পকেট ভেটো’র মতো মারাত্মক অস্ত্র। সাধারণ ভেটোর বিপরীতে পকেট ভেটো কংগ্রেসের মাধ্যমে বাতিল করা যায় না। কংগ্রেস অধিবেশন শেষের দিকে থাকাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট যদি বিলে স্বাক্ষর না করে ঝুলিয়ে রাখেন, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। এই বিলগুলো পুনর্বহাল করতে হলে ডেমোক্র্যাটদের পুনরায় নতুন করে আইনপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে, যা হোয়াইট হাউসকে ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগ আটকে দেওয়ার বাড়তি সুবিধা দেবে।
১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা ডেমোক্রেটদের : নির্বাচনে দুর্দান্ত সাফল্যের পর ডেমোক্রেটিক দলের শীর্ষ নেতারা তাদের পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা ও রূপরেখা জাতির সামনে তুলে ধরেছেন। ওয়াশিংটনে এক বিজয়ী ভাষণে ডেমোক্রেটিক নেতারা জানান, তারা জনজীবন সহজ করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাসের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেবেন। তাদের নতুন এজেন্ডার প্রধান দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো: সাধারণ মানুষের জন্য খাদ্য, জ্বালানি এবং আবাসন খরচ নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া। স্বাস্থ্যসেবা পুনরুদ্ধার: সাশ্রয়ী মূল্যের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত কর ছাড় বা সুবিধাগুলো পুনরায় চালু করা। প্রশাসনের ওপর কড়া নজরদারি: ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, অভিবাসন পরিকল্পনা, এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নিয়োগের ওপর কঠোর সংসদীয় নজরদারি বা চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স প্রতিষ্ঠা করা।
রিপাবলিকানদের পরাজেয় ইরানিদের বাঁধভাঙা উল্লাস : ইরান যুদ্ধের প্রভাবে মার্কিন ভোটাররা মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাত থেকে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছেন। রিপাবলিকানদের এমন পরাজয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর বুধবার তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দূতাবাসের সামনে আমেরিকা-বিরোধী বার্ষিক সমাবেশে সমবেত হয়ে উল্লাস করেছেন হাজার হাজার ইরানি। রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলের ওই সমাবেশ ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ ও ‘ইসরাইল নিপাত যাক’ স্লোগানে চারপাশ মুখরিত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা ইরানের জাতীয় পতাকা নাড়ান এবং ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের তীব্র নিন্দা জানিয়ে লেখা নানা ব্যানার প্রদর্শন করেন। সেখানে একটি বড় ব্যানারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শিকলে বাঁধা এক ‘রক্তমাখা বুলডগ’ হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়েছে; যার শিকলের অন্য প্রান্ত ধরে রেখেছে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো দেখতে শয়তানের অবয়বের এক চরিত্র। সূত্র:ই









