tag: পাসপোর্ট স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু রবিবার থেকে। আমাদের খবর
Sun. Oct 25th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

পাসপোর্ট স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু রবিবার থেকে।

1 min read
পাসপোর্ট স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু

পাসপোর্ট স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু রবিবার থেকে। পাসপোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল গত পাঁচ মাস যাবৎ করোনা মহামারির কারণে। গত পাঁচ মাসের মধ্যে প্রায় ৩ লাখের মতো নতুন পাসপোর্ট আবেদন জমা পড়ে গেছে। বিগত ২৩ মার্চ থেকে পাসপোর্ট রিইস্যু কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও ডেলিভারির ক্ষেত্রে ছিল না জটিলতা। এই সময়ের মধ্যে সে সকল পাসপোর্ট ডেলিভারির কথা ছিল সে গুলো নিধারিত সময়ের চেয়ে তিন-চার গুণ সময় বেশি লাগে। এই সময় পুলিশ ভেরিফিকেশন কার্যক্রমও বন্ধ ছিল। এই সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিল প্রবাসীরা।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী রবিবার থেকে পাসপোর্টের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছেন।

গতকাল অধিদপ্তরের পরিচালক মো. সাঈদুর রহমান (পাসপোর্ট, ভিসা ও পরিদর্শন) স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলেন, করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক সীমিত পরিসরে এমআপি ও ই-পাসপোর্টের এনরোলমেন্ট (নতুন ও রিইস্যু) কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এ বিষয়ে আগের জারি করা সব আদেশ বাতিল করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছেভ

পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, করোনার সংক্রমণ শুরুর পর থেকে রিইস্যু, বিশেষ করে হারানো পাসপোর্ট, মেয়াদ শেষ ও ভুল সংশোধনের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হলেও পাসপোর্ট তৈরি ও বিতরণে অনেকটা ধীরগতি চলে আসে।

এর আগে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও করোনার কারণে সেটিও বন্ধ রয়েছে।

এমনকি যারা করোনার আগে ই-পাসপোর্টের আবেদন করেছিলেন, তাদের বেশির ভাগই পাসপোর্ট হাতে পাননি। তারাও অপেক্ষায় আছেন। অবশ্য দেশের বাইরে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর সুপারিশ অনুযায়ী প্রবাসী কর্মীদের জরুরি ভিত্তিতে কোনো কোনো দেশে জরুরি কিছু পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট স্বাভাবিক

বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের যেসব আবেদন বিভিন্ন দূতাবাস হয়ে অধিদপ্তরে এসেছে, সেসব পাসপোর্ট সীমিত আকারে ছাপা হচ্ছে।

কর্মকর্তাদের মতে, নতুন পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণের পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আবেদনকারীর ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আবার যাদের ছবি ও আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়েছে, তাদের পুলিশ ভেরিফিকেশন করা হয়নি।

এসব কারণে পাসপোর্ট তৈরির কাজ আটকে আছে। সে জন্যই নতুন পাসপোর্টের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে লাখ লাখ আবেদনকারীকে।

পাসপোর্ট অফিসের  উপপরিচালক জানান, করোনা শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ই-পাসপোর্ট, এমআরপি পাসপোর্ট আবেদন গ্রহণ, তৈরি ও বিতরণ বন্ধ আছে।

বর্তমানে শুধু পাসপোর্ট নবায়নের কাজ চালু রয়েছে।

আগামী রবিবার থেকে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হতে পারে বলে তিনি জানান।

জানা গেছে, ফেসবুকে পাসপোর্ট-সংক্রান্ত বিভিন্ন পেইজ ও গ্রুপে প্রতিদিন শত শত মানুষ জানতে চাইছেন, নতুন আবেদন জমা নেওয়া হবে কবে।

অনেকে এ-ও বলছেন, রিইস্যুর জন্য আবেদন জমা দিয়েও সময়মতো পাসপোর্ট হাতে পাচ্ছেন না।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আইয়ূব চৌধুরী বলেন, নতুন পাসপোর্টের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনকারীর আঙুলের ছাপ ও খুব কাছ থেকে ছবি নিতে হয়। ই-পাসপোর্টের জন্য চোখের মণি ও কয়েকটি আঙুলের ছাপ সংরক্ষণ করতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। পাশাপাশি দৈনিক অনেক মানুষের আঙুলের ছাপ বা চোখের মণি নিতে গিয়ে কর্মকর্তাদেরও সেই ঝুঁকিতে পড়তে হয়। এ জন্য নতুন আবেদন জমা নেওয়া বন্ধ রয়েছে। তবে এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, স্বাভাবিক সময়ে সারা দেশে প্রতিদিন ১৮ থেকে ২০ হাজার পাসপোর্টের জন্য নতুন ও রিইস্যু আবেদন জমা পড়ত।

এর মধ্যে ঢাকার আগারগাঁওয়ে প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার আবেদন জমা নেওয়া হতো।

পাঁচ মাস ধরে সেই কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বড় ধরনের জটের সৃষ্টি হয়েছে।

নতুন আবেদন জমা নেওয়া শুরু হলে সক্ষমতা অনুযায়ী সেই চাপ সামলানোও কঠিন হয়ে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *