tag: ঢাকা থেকে দার্জিলিং ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন। পর্যটন আমাদের খবর
Mon. Nov 30th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

ঢাকা থেকে দার্জিলিং ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন।

1 min read
ঢাকা থেকে দার্জিলিং ভ্রমণ

ঢাকা থেকে দার্জিলিং ভ্রমণ অল্প খরচে ঘুরে আসুন। ভারতের দার্জিলিং ভ্রমণে যারা যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বা যেতে চাচ্ছেন তাদের জন্য এই নিউজ আর্টিকেলটি খুবই উপকারে আসবে। অনেকে মনে করেন যে ভারতের দার্জিলিং যেতে মনে হয় অনেক টাকা লাগে। যারা এই সকল চিন্তা করছেন তাদের ধারণা কিন্তু ভুল। আপনাদের ভুল ধারণা থেকে আমি অত্যন্ত সহজ করে বিস্তারিত গাইড লাইন তুলে ধরব। আপনারা মনোযোগ দিয়ে আমার এই ভারতের দার্জিলিং ভ্রমণ গাইড ভালো ভাবে পড়বেন তাহলে আপনাদের কাছে খুবই সহজ এবং সকল ধরণের ধারণা পরিস্কার হয়ে যাবে।

আমি এখানে তুলে ধরব কিভাবে অল্প খরচে ভারতের দার্জিলিং থেকে ঘুরে আসতে পারেন। জনপ্রতি কত খরচ হবে আমি স্টেপ বাই স্টেপ তুলে ধরব।

প্রথমে যেটা আপনাদের করতে হবে তা হলো পাসপোর্ট ও ভিসা এবং এগুলোর কমপক্ষে ৫/৬টি ফটোকপি করে পাসপোর্টের

সাথে রাখবেন সেই সাথে আপনার ছবি ৫/৬ টি রাখবেন। পাসপোর্ট বা ভিসা কিভাবে করবেন তার লিংক আমি নিচে দিয়ে দিব।

 

ঢাকা গাবতলী থেকে উত্তরবঙ্গের বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত অনেক এসি এবং নন এসি পরিবহনের বাস যায়।

নন এসি বাসের মধ্যে হানিফের ভাড়া-৬৫০ টাকা, শ্যামলী-৬৫০ টাকা, নাবিল-৬৫০ টাকা, এস আর-৬৫০ টাকা

এসি বাসের মধ্যে এস আর ট্র্যাভেলস ভাড়া-৮০০টাকা, যদিও শ্যামলী শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত ভাড়া ১৫০০ টাকা নেয় কিন্ত তারা

আপনাকে বুড়িমারী পর্যন্ত এসি বাসে নিয়ে যাবে তার পর বর্ডারের ঐপারে কোন গাড়িতে নিয়ে যাবে তার কোন সঠিক তথ্য

তারা দেয় না এবং নন এসি বাসে যেতে বাধ্য করে। আমার মতে শ্যামলীতে শিলিগুঁড়ি পর্যন্ত না যাওয়ায় ভালো।

ঢাকা থেকে যাত্রা

বেশির ভাগ গাড়ি রাত ৮টায় ঢাকা থেকে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং সকাল ৬-৭টার মধ্যেই বুড়িমারী সীমান্তে আপনাকে পৌঁছে দেবে। সীমান্তে পৌঁছে যাওয়ার পর সকালের নাশতা বাংলাদেশেই সেরে ফেলুন, তারপর দুই দেশের ইমিগ্রেশন (বাংলাদেশ ও ভারতের) পাড়ি দিন। আপনি যখন চ্যাংড়াবান্ধায় পৌঁছে যাবেন, অল্প একটু পথ পায়ে হেঁটে বাসে উঠতে পারবেন।

আপনাকে মাথায় রাখতে হবে দাজিলিং রাত ৭ টা ৮টার মধ্যে পৌছাতে হবে। কারন রাত ৯টা ১০টার মধ্যে দাজিলিং এর সকল দোকান পাট বন্ধ হয়ে যায়।

এবারের গন্তব্য ময়নাগুড়ি। বাসে যেতে সময় লাগবে আধঘণ্টা। জনপ্রতি খরচ হবে ২০ রুপি। সেখান থেকে এবিএসটিসি বাসে চড়ে পৌঁছাতে হবে শিলিগুঁড়ি। জনপ্রতি ভাড়া দিতে হবে ৮০ রুপি। শিলিগুঁড়ি পৌছে যদি মোবাইল সিম দরকার থাকে তাহলে এখান থেকে কিনে নিন। তার পর আবার যাত্রা শুরু করুন দার্জিলিং এর উদ্দেশ্যে। শিলিগুঁড়ি জংশন থেকে জিপে চড়ে দার্জিলিং যেতে হবে। সেখানে পৌঁছাতে লাগবে ৩/৪ ঘণ্টা। অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে এই পথ শেষ হবে। রির্জাভ জিপ ভাড়া পড়বে ২০০০ টাকা এবং রির্জাভ জিপে যেতে পারবেন ৮/১০ জন অথবা শেয়ার জিপে জনপ্রতি ভাড়া নিবে ২০০/২৫০ রুপ।

দিনের সৌন্দর্যের সঙ্গে সন্ধ্যার রূপও দেখতে পাবেন দারুণ উপভোগ্য। দার্জিলিংয়ে চূড়া থেকে নিচে তাকালে মনে হবে বুঝি লক্ষ তারার মেলা! মূলত দূর থেকে বিভিন্ন ভবনের রুমের লাইটগুলো এমন লাগবে।

সেখানে অনেক ধরনের খাবারের হোটেল আছে। মুসলিমদের জন্য আছে বেশ কয়েকটি হোটেল। আপনি ইসলামিয়া নামের হোটেলে খেতে পারেন। ১০০ রুপিতে পেয়ে যাবেন গরুর মাংস আর ভাত, সঙ্গে ডাল।

হোটেল বুকিং

১০০০ থেকে ১৫০০ রুপির মধ্যেই আপনি খুব ভালো হোটেল পেয়ে যাবেন। (ওয়াইফাই এবং গরম পানির ব্যবস্থাসহ)। হোটেল পার্কলেন (০০৯১৯৪৩৪১৬৬৯৫৪, ০০৯১৮৯০৬৩৪৮৮৩৬) বেশ ভালো হোটেল। মনে রাখবেন দার্জিলিংয়ে রাত ৮টার পর সব বন্ধ হয়ে যায়। সুতরাং হোটেল বুকিং এবং রাতের খাওয়া ৮টার মধ্যেই শেষ করতে হবে।

কোথায় ঘুরবেন

প্রথম দিন

রাত ৩টায় ঘুম থেকে উঠে টাইগার হিলের উদ্দেশে রওনা দিন। সূর্যোদয়ের হাসির চিকিমিকি দেখতে পাবেন হিমালয়ের বরফ ছুঁয়ে। তারপর, সারাদিন বাতাসিয়া লুপ, রক গার্ডেন ঘুম স্টেশন, চিড়িয়াখানা (বেশ সুন্দর), টি গার্ডেন, মল রোড ঘুরতে থাকুন। দার্জিলিংয়ে বেশ কিছু মসজিদ রয়েছে, বড় দুটি মসজিদ অবশ্যই দেখার চেষ্টা করবেন।

 

দ্বিতীয় দিন

কাঞ্চন জং এর উদ্দেশে রওনা দিন, দার্জিলিং শহর থেকে খানিকটা দূরে আরেকটা শহর, যেখানে প্যারাগ্লাইডিং করা যায়। আর হিমালয়ের একটা পাশ দেখা যায়।

 

তৃতীয় দিন

আপনি চাইলে পাহাড় আর লেকে ঘেরা ছোট্ট শহর মিরিক ঘুরে আসতে পারেন।

আবার চাইলে দার্জিলিং থেকেও মিরিক ঘুরে আসতে পারেন। অথবা মিরিকেও থাকতে পারেন।

যেহেতু মিরিক থেকে শিলিগুঁড়ি কাছাকাছি, তাই আপনার মিরিকে থাকাটাই ভালো। মিরিকে অল্প ভাড়ায় (০০৯১৯৫৬৩৪৫৭৭৯৯) wooden Restaurant-এ থাকতে পারেন।

মিরিকে ঘোরার জন্য লেক আর মোটেলের টপভিউ টাই অসাধারণ। সুতরাং একদিনের বেশি অবস্থান করার প্রশ্নই ওঠে না।

চতুর্থ দিন

সকাল সকাল শিলিগুঁড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিন। মিরিক থেকে শিলিগুঁড়ি আসতে মাত্র দুই ঘণ্টা লাগে আর শিলিগুঁড়ি থেকে সীমান্তে আসতে তিন ঘণ্টা লেগে যাবে। গাড়ি বুকিং করার জন্য সোইলাজ দা’র (০০৯১৯৭৩৪৯৯৭৯০২) সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। ভালো মানুষ তিনি। মনে রাখবেন, সন্ধ্যা ৬টার পর সীমান্তের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

 

ইমিগ্রেশন কীভাবে পাড়ি দেবেন

যাওয়ার সময়

বাংলাদেশ প্রান্তে ১০০ টাকার বিনিময়ে আর ভারত প্রান্তেও ১০০ টাকার বিনিময়ে কিছু দালাল ইমিগ্রেশনে সহায়তা করে থাকে। তবে দালালদের কাছে পাসপোর্ট দেওয়ার পর তাদের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। অথবা চাইলে আপনি একাই ইমিগ্রেশন পাড়ি দিতে পারবেন।

 

মনে রাখবেন সঙ্গে কোনো রুপি নিবেন না (থাকলেও বলবেন না) কিছু ডলার সঙ্গে রাখুন আর বাংলা টাকা যতই থাকুক চার-পাঁচ হাজারের বেশি আছে বলে স্বীকার করবেন না।

 

ফিরে আসার সময়

ইমিগ্রেশনের দুই প্রান্তেই (ভারত-বাংলাদেশ) আপনাকে জিজ্ঞেস করবে কী কী কিনেছেন? আপনি বলবেন পরিবারের জন্য কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস। কত টাকার শপিং করেছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবেন। আর বললেও চার-পাঁচ হাজার টাকার বেশি বলবেন না। এ ছাড়া ফিরে আসার সময়ও কিছু দালাল ১৫০ রুপির বিনিময়ে সহায়তা করে থাকে।

তবে কেনাকাটা করার সময় একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন যেন, একই জিনিস ৪-এর বেশি কেনা না হয় এবং ব্যাগে নতুন ও পুরোনো পণ্য মিলিয়ে রাখুন।

এ ছাড়া যাওয়ার সময় পণ্য যতটা সম্ভব কম বহন করুন।

 

মুদ্রাবিনিময়

বাংলা টাকা চ্যাংড়াবান্ধাতেই রুপিতে পরিবর্তন করে নিন, কেননা দার্জিলিংয়ে রেট খুবই কম পাবেন।

কেনাকাটা কোথায় করবেন

দার্জিলিং থেকে শীতের জামা কাপড় কেনা হবে বুদ্ধিমানের কাজ। শীতের শহর থেকে (মল রোড) আপনি যথাযথ মূল্যেই

শীতের পোশাক কিনতে পারবেন। এ ছাড়া কিছু সতেজ চায়ের প্যাকেট কিনে নিয়ে আসতে পারেন। অন্যন্য কেনাকাটা

আপনি শিলিগুঁড়িতে করলেই ভালো হবে।

কোথায় খাবেন

দার্জিলিংয়ে খাওয়ার জন্য সিমলা (০০৯১৯২৩৩৮২৭০৩০) রেস্টুরেন্ট অসাধারণ। মুসলিম হোটেলে খাওয়ার জন্য বড় মসজিদের সামনে যেতে পারেন।

 

কখন যাবেন

বৃষ্টির সময়টাতে দার্জিলিং যাওয়াটা বোকামি, সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি সেরা সময় দার্জিলিং উপভোগ করার জন্য।

খরচ

ঢাকা টু বুড়িমারী (৮৫০ টাকা) এসি বাস এবং নন এসি বাস ৬৫০ টাকা +সীমান্ত ঘুষ (১৫০ টাকা)+ চ্যাংড়াবান্ধা টু শিলিগুঁড়ি

(২০০/২৫০ টাকা)+শিলিগুঁড়ি টু দার্জিলিং ২০০ টাকা= ১২৫০/১৭০০ টাকা।

হোটেল খরচ ৫০০ টাকা (প্রতিজন/প্রতিদিন)

খাওয়া খরচ ৩০০ টাকা (প্রতিজন/প্রতিদিন)

সারা দিনের জন্য জিপ ভাড়া করলে ২০০০/২৫০০ টাকা প্রয়োজন হবে।

এটা অফ সিজন রেট, সিজনের সময় ৩০ শতাংশ বেশি খরচ হবে। সুতরাং হিসাবটা সেভাবেই করে নেবেন।

যা করবেন না

১। দার্জিলিং পরিচ্ছন্ন শহর, দয়া করে নোংরা করবেন না।

২। দার্জিলিংয়ে উন্মুক্ত ধূমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ, সুতরাং ধূমপান করা থেকে বিরত থাকুন।

একঘেয়েমি প্রচণ্ড ব্যস্ততার এই যান্ত্রিক জীবনকে উপভোগ্য করতে মাঝে মাঝে লাইফ রিস্টার্ট বাটনে ক্লিক করতে হয়। আমার কাছে জীবনের আনন্দে পূর্ণ সজীবতাকে বারবার ফিরিয়ে আনার মূলমন্ত্রই হচ্ছে ভ্রমণে ডুব দেওয়া। একটা ভ্রমণপিয়াসু মনই কেবল জানে, কীভাবে ভিন্ন ভিন্ন আয়োজন থেকে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হতে জীবনকে উপভোগ করা যায়। প্রতিটা জীবনই অর্থবহ হোক সঙ্গে উপভোগ্যও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *