
নিজস্ব প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, ও ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে আগামী নির্বাচনে রায় দেবে জনগণ। চাঁদার কারণে কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়ে চারগুণ। আর কৃষক ন্যায্যমূল্য পায় না, সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। আমরা চাঁদাবাজি করবো না, কাউকে করতেও দেবো না। গতকাল রাজধানীর কাওরান বাজারে পেট্রোবাংলার সামনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা প্রয়োজনে জীবন দিয়ে হলেও জনগণের অধিকার রক্ষা করবো। তাদের অধিকার ছিনিয়ে নিতে দেব না। দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের সময় জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেনি, বিএনপির চেয়ারম্যানের এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনন্ত তিনটা মন্ত্রণালয় দুর্নীতি থেকে বেঁচে যাক, সেই কারণে মন্ত্রিত্ব থেকে পদত্যাগ করেনি জামায়াত নেতারা।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে। দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি থাকবে না। সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জনগণ এবার লাল কার্ড দেখাবে। এখন ভরা মাঘ মাস, এখনই মাথা এত গরম হলে চৈত্র মাসে কী হবে? গায়ের জোরে কিছু করা যাবে না। জামায়াতের আমির বলেন, চাঁদাবাজি এবং দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলে দেশ লাফ দিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি রাজনীতি করব, আমি চাঁদাবাজিও করব, কিন্তু আমাকে চাঁদাবাজ বলবেন না। এটা কোনো কথা! তাহলে আপনি চাঁদাবাজি ছেড়ে দেন। আপনাকে কেউ চাঁদাবাজ বলবে না। আপনি যখন চাঁদাবাজি করবেন, তখন এ কথা আপনাকে শুনতে হবে যে আপনি একজন চাঁদাবাজ।
ডা. শফিক বলেন, বৈষম্য, অবিচারের বিরুদ্ধে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল। রাজপথে এসে তারা একটাই স্লোগান দিয়েছিল, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা কোনো বৈষম্য, অবিচার মানব না। এই সমাজে অবশ্যই ন্যায়বিচার কায়েম করতে হবে এবং সাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। এখানেই সমস্যা। এই যে চাঁদাবাজ, এই যে দখলবাজ, এই যে মামলাবাজ, এই যে দুর্নীতিবাজ এই সব কটি বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ জনগণের ওপরে এসে ছোঁ মারে। কৃষক, পরিবহন মালিক, হোলসেল ও রিটেইলার ব্যবসায়ীরা চাঁদার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন। সারা দেশের ব্যবসায়ীদের চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য ক্ষমতায় যেতে পারলে নির্বাচনের পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের চিত্র পাল্টে যাবে। ৯০ ভাগ চাঁদাবাজের হাত অবশ হয়ে যাবে। বাকি ১০ ভাগকে প্রথমে চাঁদাবাজি না করার আহ্বান জানানো হবে। এরপরও না বুঝতে চাইলে যা করা দরকার, তা-ই করা হবে। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার ভাই, কার সন্তান, সেটি দেখা হবে না। এ ক্ষেত্রে নির্দয়, নিষ্ঠুর, কঠোর আচরণ করা হবে।
নির্বাচনকে ঘিরে আলামত ভালো নয় বলে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, চতুর্দিকে বিভিন্ন মন্দ আলামত ফুটে উঠছে। মা-বোনদের গায়ে হাত দেওয়া হচ্ছে, হামলা করে মানুষ খুন করা হচ্ছে, অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, গায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উপযুক্ত পদক্ষেপ নিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনের কাজ করতে হবে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে। সেটি না পারলে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে। প্রতিপক্ষের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, তারা যেন অন্যকে সম্মান করে। গাল ভরে যে গণতন্ত্রের কথা বলে, সেই গণতন্ত্রের পথে যেন হাঁটে। জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির। তিনি ঢাকা-১২ আসনের প্রার্থী সাইফুল আলম খানের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন। জনসভায় বক্তব্য দেন ঢাকা-১২ আসনে ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী সাইফুল আলম খান, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ, ডাকসু ভিপি মো. আবু সাদিক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তরের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
এরপর বিকেলে তিনি রাজধানীর পল্লবীর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ পার্ক ও খেলার মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা-১৬ আসনের নির্বাচন পরিচালক ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য মো. নাসির উদ্দীন। ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় ঐক্য জোট সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল বাতেন (অব.) এর পক্ষে এই নির্বাচনি জনসমাবেশের আয়োজন করা হয়।
পল্লবীর জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আরও অনেক অপপ্রচার। বলা হয় যদি জামায়াতে ইসলামী বা ১১ দল ক্ষমতায় যায়, তাহলে নাকি কওমি মাদরাসা বন্ধ করে দেবে। এটি নির্জলা মিথ্যাচার! কওমি মাদরাসা আমাদের হৃদয়, আমাদের কলিজা। তারাই ইসলামি শিক্ষাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধরে রেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের (কওমি মাদরাসা) সঙ্গে ডায়ালগ করে, পরামর্শ করে এই শিক্ষার ম্যাক্সিমাইজ কীভাবে করা যায়, সর্বোচ্চ উৎকৃষ্ট উৎকর্ষ কীভাবে করা যায় তা ইনশাআল্লাহ আমরা করবো। আমরা মুখে নয়, কাজে প্রমাণ করবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের আমির বলেন, বলা হচ্ছে মসজিদগুলো থেকে ইমামদের সরিয়ে দেওয়া হবে। তো সেই ইমামতি কি আমি করবো? ইমাম যারা আছেন মর্যাদার সঙ্গে তারা ইমামতি করবেন। এখন একটা মর্যাদার অভাব। ইমাম সাহেবরা, খতিব সাহেবরা ইমামতি করেন, খুতবা দেন কিন্তু মসজিদ পরিচালনা কমিটিতে তাদের কোনো অবদান নাই, অবস্থান নাই। আমরা ইনশাআল্লাহ সেবার সুযোগ পেলে প্রত্যেকটা মসজিদে ইমাম ও খতিব যারা থাকবেন, তারা হবেন সেই পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। কারণ তারাই বুঝবেন একটা মসজিদের মর্যাদা কীভাবে সবচাইতে ওপরে তুলে ধরতে হয়।ই










