চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে আহত-৫, অফিসে আগুন-ভাংচুর, বাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৫ জন আহত হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অফিস ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিএনপি-জামায়াত একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা বাজারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ গুলজার আলম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের ধনিজকরা ধনিজকরায় বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে অজ্ঞাতনামা দূর্বৃত্তরা ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনার জের ধরে ওই ইউনিয়নে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর ধনিজকরা বিএনপির অফিস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভাংচুর করে। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে রাতেই বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা(রাঃ) মহিলা মাদরাসার বাসে কে বা কারা আগুন দেয়। একই সময়ে শুভপুর ইউনিয়নের গাছবাড়িয়া তেলিপুকুর পাড়ে জামায়াত সমর্থক নাছির উদ্দিনের মুদি দোকান, পাশের জামায়াত অফিস, ধনিজকরায় শাহাদাত হোসেন গোলাপের মার্কেটে জামায়াত অফিসসহ কয়েকটি দোকান ও কালিকাপুর ইউনিয়নের সমেশপুরেও জামায়াত অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে সোমবার দুপুরে ধনিজকরায় জামায়াত-বিএনপির সমর্থকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ইসমাইল গাজী ও সমর্থক শাহাদাত হোসেন এবং জামায়াতের সমর্থক তাসকিন গুরুতর আহত হয়।

এদিকে মাদরাসার বাসে আগুন দেয়ার প্রতিবাদ ও দূর্বৃত্তদের গ্রেফতারের দাবিতে সোমবার দুপুরে মানববন্ধন করেছে নানকরা আয়েশা ছিদ্দিকা(রাঃ) মহিলা মাদরাসা পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক, শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। তারা শিগগিরই দূর্বৃত্তদের গ্রেফতার করতে প্রশাসনের নিকট দাবি জানান।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ বেলাল হোসাইন বলেন, ধনিজকরায় বিএনপি সমর্থক বাচ্চু মিয়ার তার প্রতিবেশির অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে দু পক্ষের সংঘর্ষে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপি-জামায়াতের কেউ জড়িত নয়। এটা তাদের পারিবারিক ঘটনা। বিএনপি অফিস কে বা কারা ভাংচুর করেছে তা আমরা জানি না।

এছাড়াও বেলাল হোসেন আরও বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শান্ত চৌদ্দগ্রামকে অশান্ত করতে পাঁয়তারা করছে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে তারা তিনটি নির্বাচনী অফিস আগুনে জ¦ালিয়ে দিয়েছে। তাদের আগুন থেকে রেহাই পায়নি নানকরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ও জামায়াত অফিসের পাশে মুদি দোকান। জনসমর্থন না থাকায় তারা জ¦ালাও পোড়াও করে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করতে চাইছে। চৌদ্দগ্রামের জনতা তাদের এ হীন উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন হতে দিবে না, ইনশাআল্লাহ।

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম বলেন, রোববার রাতে জামায়াতের সশ্রস্ত্র নেতাকর্মীরা ধনিজকরায় বিএনপির সমর্থক বাচ্চু মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট করে। একই সাথে ওই বাজারে অবস্থিত আমাদের পার্টি অফিসও ভাংচুর করে।

এছাড়াও রোববার রাতে জগন্নাথের বেতিয়ারা আমাদের দলীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা বসে থাকার সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সশ্রস্ত্র অবস্থায় এসে হুমকি দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়। জামায়াতের দলীয় কার্যালয় এবং সমর্থকদের প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, জামায়াত ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করে বিএনপির উপর দোষ চাপিয়ে নির্বাচনে সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার পরিদর্শক তদন্ত মোঃ গুলজার আলম ইনকিলাবকে বলেন, ধনিজকরায় জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। জামায়াত-বিএনপির পাল্টাপাল্টি অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনায় কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।ই

মন্তব্য করুন