tag: ঘুরে আসুন সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে। আমাদের খবর
Thu. Oct 29th, 2020

আমাদের খবর

খবরের সাথে সব সময়

ঘুরে আসুন সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে।

1 min read
ঘুরে আসুন সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর

ঘুরে আসুন সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর থেকে। অলি আওলিয়ার দেশ ও সৌন্দর্যের প্রাচুর্যে ভরা সিলেট বিভাগ। সর্বত্রই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দৃষ্টিনন্দন পর্যটন কেন্দ্র। বাংলাদেশ সবুজে সমারোহে ঘেরা পাহাড়ের কোলঘেঁষা পাথুরে নদী, ঝরনা, বন, চা-বাগান, নীল জলরাশির হাওর; কী নেই এখানে! সিলেটের এমন প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় উপভোগ করতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক আর ভ্রমণপ্রিয়াসু মানুষ ভিড় জমায় এখানে।

সিলেটের বহু পর্যটন কেন্দ্রের মধ্যে অন্যতম নয়নাভিরাম ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধলাই নদের উৎসমুখে এর অবস্থান।

সিলেট শহর থেকে  ভোলাগঞ্জ যাত্রা পথে আপনি যা যা দেখতে পাবেন। যেতে যেতে হাতের বাম পাশে বেশ

কিছু চা বাগান যার একটি নাম মালিনীছড়া চা বাগান সহ আরো অনেক চা বাগান। তার পর বাইপাস রোড়ে

পেয়ে যাবেন হাতের বাম দিকে সিলেট বিমানবন্দরের ভিউ। তাছাড়া অসংখ্য মনোমুগ্ধ দৃশ্য দেখতে দেখতে

এক সময় পৌছে যাবেন ভারতের মেঘলয়ের কোল ঘেসে ভেসে আসা সাদা পাথর। হ্যাঁ সিলেটের ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর।

কিভাবে যাবেন ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এবং ভাড়া সংক্রান্ত তথ্য?

প্রথমে চলে আসবেন সিলেট আম্বরখানা মোড়ে। এখান থেকে সিএনসি যায়। শেয়ারে গেলে লাগবে জনপ্রতি

১০০ টাকা আর রির্জাভ গেলে লাগবে ৫০০ টাকা শুধুমাত্র যাওয়া। যদি যাওয়া আসা রির্জাভ করেন তাহলে

ডাবল ভাড়া পড়বে (অথাৎ ১,০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা)।

এছাড়াও সিলেটের কদমতলী বাস স্টান্ড থেকে বাস বা সিএনজি ও যায়। বাসে ভাড়া ৬০ টাকা থেকে ৭০ টাকা ভাড়া লাগবে।

সিলেট নগরের আম্বরখানা মোড় থেকে সিএনজি যোগে বিমানবন্দরের রাস্তা ধরে চলতে চলতে রাস্তার

চারপাশে শুধু সবুজ চা বাগান। এই চা বাগানের একটি ভিডিও বোলাগ পাবেন ইউটিউব চ্যানেলে নাম

সিলেট মালিনীছড়া চা বাগান – খুবই মনোমুগ্ধকর প্রকৃতি ও চা বাগান। ভিডিওটি দেখলে আপনাদের ভালো লাগবে।

তাছাড়া এখন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সব সময় সিএনজি উভয় দিকে পাওয়া যায়। এই স্থানে যাতায়াত নিরাপদ।

ঘুরে আসুন সিলেটের ভোলাগঞ্জ

তারপর এখানে ঘাটে পেয়ে যাবেন নৌকা। প্রতিটি নৌকা রেট করা ৮০০ টাকা ভাড়া। একটি নৌকায় ৫ থেকে ১০ জন যাওয়া যায়।

১০ জন গেলে ও ৮০০ টাকা ভাড়া পড়বে। নৌকার মাঝি আপনাদের সাদা পাথরে নামিয়ে দিবে এবং দুই

ঘন্টা আপনাদের সময় দিবে এখানে ঘুরার জন্য। তবে মনে রাখবেন নৌকার মাঝির মোবাইল নম্বর সংগ্রহ

করে নিবেন। আপনাদের ঘুরাফেরা শেষে নৌকার মাঝিকে জানালে সে এসে আপনাদের নিয়ে আবার ঘাটে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে।

ভোলাগঞ্জ সাদা পাথরের প্রকৃতি দেখবেন কিন্ত ভারতের সিমানা রেখার ঐ পাশে যাবেন না কারন যারা বর্ডার গার্ড থাকে তাদের আচারন কখনো ভাল হয় না।

সিলেট ভোলাগঞ্জ ভ্রমণের সবচেয়ে ভালো সময় মে মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময় ধলাই নদের পানি

যথেষ্ট পরিমানে থাকে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসে এখানে পানি খুবই কম থাকে তাই এর সৌন্দর্য অনেকা কম মনে হয়।

আপনাদের মতামত আমাদের কাছে অনেক মুল্যবান। তাই আমরা সব সময় আপনাদের মতামত ও পরামর্শের আশা ব্যক্ত করি।

যারা সল্প খরচে সিলেট শহরে থাকতে চান তারা চলে যাবেন হযরত শাহজালাল (রা) মাজারের সামনে এখানে বেশ কিছু হোটেল এর তথ্য আপনাদের সুবিধার্থে দেওয়া হলো।

হোটেল আল জালাল রেষ্ট হাউজঃ সিংগেল রুম সংযুক্ত বার্থরুম ৩০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায়, ডাবল বা

ফ্যামিলি রুম ৮০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকায়। যোগাযোগঃ ০১৭৫৮৬৭৩৮৯৫।

হোটেল জিয়াঃ সিংগেল রুম সংযুক্ত বার্থরুম ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, ডাবল বা ফ্যামিলি

রুম ৮০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকায়। যোগাযোগঃ ০১৭১৭৭২৬৮৯৬।

হোটেল হোটেল কুরাইশিঃ সিংগেল রুম সংযুক্ত বার্থরুম ৫০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকায়, ডাবল বা

ফ্যামিলি রুম ৮০০ টাকা থেকে ১,৫০০ টাকায়।

সিলেটের সীমান্তবর্তী একটি নদের নাম ধলাই। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে এসেছে এটি।

ধলাই নদের উৎসমুখে পাঁচ একর জায়গা জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে সাদা সাদা পাথর, ওপারে উঁচু পাহাড়ে ঘেরা সবুজের মায়াজাল। সেখান থেকে নেমে আসা ঝরনার অশান্ত শীতল পানির অস্থির বেগে বয়ে চলা, গন্তব্য তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের বুক।

 

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর

স্বচ্ছ নীল জল, সাদা পাথর আর পাহাড়ের সবুজ মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে আছে। ধলাইয়ের বুকে ছড়িয়ে থাকা পাথরের বিছানা মনোমুগ্ধ শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে হাজার গুণ। সাদা পাথরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা ঝরনার পানির তীব্র স্রোত নয়ন জুড়ায়, শীতল জলের স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায় নিমিষে।

পাথরের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বয়ে চলা পানির কলকল শব্দে যেন পাগল করা ছন্দ। বরফ গলার মতো ঠাণ্ডা সেই পানি। বেশিক্ষণ গা ভেজালে শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে গিয়ে কয়েক দিন আগে  সকাল বেলা যাত্রা শুরু হলো গন্তব্য ভোলাগঞ্জের সাদাপাথর।

দেখলে মনে হয় নীল আকাশ যেন সবুজ গালিচার ওপর তাঁবু টানিয়েছে, সড়কটি ধরে চলতে চলতে সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় মন।

বছরখানেক আগে এই রুটের রাস্তার অবস্থা বেহাল দশা ছিল। এখন এই রাস্তা খুবই ভালো হয়েছে সময় লাগে ১ঘন্টা ৩০ মিনিটের মতো। আগে যেখানে সময় লাগতো আড়াই ঘন্টার মতো।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর

ঘাট থেকে নৌকা ভাড়া করে মূল গন্তব্য সাদাপাথরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হলে নৌকা যত সামনে এগিয়ে যাচ্ছে, মুগ্ধতা ততই যেন বাড়তে থাকে।

ধলাই নদের স্বচ্ছ নীল পানিতে নৌকা চলতে চলতে চোখে পড়ে মেঘালয়ের আকাশ ছোঁয়া পাহাড়।

মনে হচ্ছিল আকাশে হেলানো উঁচু উঁচু পাহাড়ের সারি।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথরে যাওয়ার নৌপথ চারপাশের চোখধাঁধানো সব দৃশ্য দেখতে দেখতে ২৫-৩০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাবেন নদের উৎসমুখে। তীরে ভেড়াবে নৌকা মাঝি।

তীরে নামতেই চোখে আটকে যাবে পাথরের স্তূপে আর পাথর গুলো সব সাদা। ছোট, মাঝারি, বোল্ডার আকৃতির পাথর।

সাদার মধ্যে নিকষ কালো পাথরও আছে, কোনোটি খয়েরি, যেন এলাকাজুড়ে পাথরের বিছানা।

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর- বাংলার কাম্মির

পাথর মাড়িয়ে ঝরনার আবাহন। কোথাও হাঁটু সমান, আবার কোথাও কোমর পানি। কোথাও তারও অনেক বেশি। পাথরের ওপর দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে তৃষ্ণার্ত ধলাইয়ের মুখে। ধলাইয়ের বুকে সেই পানিতে নেমে নিজেকে শীতল করি। অনেকক্ষণ গা ভেজানোর পর প্রচণ্ড গরমেও শরীরে শীতের কাঁপন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হতে পারে। বিকালবেলা অসম্ভব সুন্দরকে বিদায় জানিয়ে ফেরার পথ। মন বলছিল, আহ! কত অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি আমার এই দেশ!

 

ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর সচেতনতা ও সতর্কতা

* সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে তা নষ্টের কারণ হওয়া ঠিক নয়, পরিবেশ হুমকিতে পড়ে এমন কিছু অবশ্যই করা উচিত হবে না, পলিথিন বা প্লাস্টিকের বোতলসহ পরিবেশ বিপন্ন হয় তেমন কিছু মনের অজান্তেও ফেলে আসা ঠিক নয়, প্রকৃতিকে বেঁচে থাকতে দিতে হবে তার নিজের মতো করে।

 

* পর্যটন স্থানটি ভারত সীমান্তবর্তী তাই সীমান্তের কাছাকাছি না যাওয়াই ভালো, ঘুরে বেড়ানোর সময় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে আর ভুলেও গভীর পানিতে নামা যাবে না, তীব্র স্রোতের কবলে পড়লে সাঁতার জানা মানুষেরও বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *