
অনলাইন ডেস্ক : গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকির বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউরোপ। ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপীয় নেতারা একযোগে ‘ট্রেড বাজুকা’ নামে পরিচিত অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করে ইউরোপের কয়েকটি দেশ। এর জেরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। ট্রাম্পের এই অবস্থানকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক জবরদস্তি হিসেবে দেখছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যার জবাবে তারা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের বাণিজ্য কমিটির চেয়ারম্যান এবং জার্মান এমইপি বের্ন্ড লাঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, এই ধরনের চাপ মোকাবিলার জন্যই ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ তৈরি করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানান, ট্রাম্প যদি শুল্ক হুমকি বন্ধ না করেন, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা প্রয়োগ করতে পারে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো বা আনুমানিক ১০৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি ২০২৩ সালে গৃহীত ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ কার্যকর করা হলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগেও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে নাজুক পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ডেনমার্কের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইউরোপের অন্তত আটটি দেশ একযোগে অবস্থান নিয়েছে এবং বলেছে, এই হুমকি ট্রান্সঅ্যাটলান্টিক সম্পর্ককে ভয়াবহ সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
ডেনমার্ক, ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্যসহ আটটি ইউরোপীয় দেশ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড কোনোভাবেই কেনাবেচার বিষয় নয়। ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা বলেন, ইউরোপ যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক জবরদস্তির বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় প্রস্তুত।
আন্তোনিও কস্তা আরও বলেন, শুল্কের হুমকি পারস্পরিক সম্পর্ক নষ্ট করে এবং একটি বিপজ্জনক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করে। তিনি জানান, ইউরোপ তার সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। এরই মধ্যে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি থেকে ইউরোপের কয়েকটি দেশের ওপর ১০ শতাংশ এবং জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হবে, যতক্ষণ না গ্রিনল্যান্ড কেনা নিয়ে সমঝোতা হয়। এমনকি সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি তিনি।
ডেনমার্ক অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির কোনো প্রশ্নই নেই। এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দেশটির বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে ট্রাম্পের হুমকির প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দেন, ‘গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়’।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত থাকলে ইউরোপ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটতে পারে। এর প্রভাব শুধু বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নয়, বরং ন্যাটোর মতো গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা জোটের ভবিষ্যতেও গভীর ছাপ ফেলতে পারে।সূত্র:ই।










