
অনলাই ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি সিনিয়র স্পেশাল ফোর্স কমান্ডারদের নির্দেশ দিয়েছেন সম্ভাব্য গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের জন্য জরুরি পরিকল্পনা তৈরি করতে। এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে তীব্র সাড়া ফেলেছে এবং ন্যাটো জোটের মধ্যে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইউরোপীয় নেতারা উদ্বিগ্ন, এবং গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলোও ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জয়েন্ট স্পেশাল অপারেশনস কমান্ড (জেএসওসি)-কে গ্রিনল্যান্ড আক্রমণের পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে বলেছেন। পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য হলো আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব বাড়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। এছাড়া, দেশের অর্থনৈতিক সমস্যা থেকে মন সরানো এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা বাড়ানোও পরিকল্পনার অংশ। তবে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এই পরিকল্পনার আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ মনে করছেন, এ ধরনের অভিযান অবৈধ এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া করা সম্ভব নয়। এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছেন, ্রজেনারেলরা মনে করছেন ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড পরিকল্পনা পাগলামি এবং অবৈধ। তাই তারা অন্য বড় সামরিক অভিযানের কথা বলে তাকে সরানোর চেষ্টা করছেন। এটা যেন পাঁচ বছরের শিশুর সঙ্গে লড়াই করার মতো।গ্ধ তাদের চেষ্টা হচ্ছে ট্রাম্পকে অন্য অভিযানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে বিভ্রান্ত করা, যেমন রাশিয়ার ‘গোস্ট’ জাহাজ আটকানো বা ইরানে হামলা চালানো।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহোযোগী, স্টেফেন মিলারের নেতৃত্বে ‘হক’রা আরও দৃঢ় হয়েছেন। তারা দ্রুত গ্রিনল্যান্ডে পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন, যাতে রাশিয়া বা চীন আগে এগোতে না পারে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনৈতিক সমস্যার দৃষ্টি সরানোর জন্য ট্রাম্প নাটকীয় বিদেশ নীতির পদক্ষেপ নিতে পারেন। তবে এটি ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে সংঘাত তৈরি করতে পারে এবং ন্যাটো জোটকে সংকটের মুখে ফেলতে পারে। অভ্যন্তরীণ কূটনৈতিক অনুশীলনেও ‘এস্কালেটরি সিনারিও’ পরীক্ষা করা হয়েছে। গ্রিনল্যান্ডের পাঁচটি রাজনৈতিক দল শনিবার যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডিয়ান হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডিয়ানরাই ঠিক করবে।’ একই দিন ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা গ্রিনল্যান্ডে কিছু করব, তারা চাই বা না চাইলেও। না করলে রাশিয়া বা চীন দখল করবে। সহজভাবে চুক্তি করতে চাই, না হলে কঠিনভাবে করব।
ডেনমার্কও সতর্ক করেছে যে, তাদের সেনারা গ্রিনল্যান্ডে আক্রমণ হলে ‘প্রথমে গুলি করবে, পরে প্রশ্ন করবে’। ইউরোপে উদ্বেগ বাড়ছে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলি সামরিক পদক্ষেপের কথা বলছে। ডেনিশ প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন আগেই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড দখলের দাবি ‘অগ্রহণযোগ্য’। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং প্রাকৃতিক সম্পদ ভবিষ্যতের শক্তি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সকল পক্ষের জন্য সবচেয়ে ভালো সমাধান হবে শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিষয়টি সমাধান করা।সূত্র-ই।










