
অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজার জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে মামলার হাজিরা দিতে এসে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয়েছেন বিএনপি নেতা লিয়াকত মেম্বার। ২৪ মে, রোববার (২৪ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে জেলা জজ আদালতের কলাপসিবল গেইটের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত ৩ জন। এ ঘটনায় ২ সন্দেহভাজন হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে উপস্থিত জনতা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লিয়াকত মেম্বার আদালতে একটি মামলার হাজিরা দিতে আসেন। এসময় মোটরসাইকেলযোগে আসা একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতভাবে তাকে ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। হঠাৎ গোলাগুলির ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ ছোটাছুটি করে নিরাপদ আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে লিয়াকত মেম্বারের ভাই মুঈন উদ্দিনসহ ৩জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় কক্সবাজার সদর হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর আদালত প্রাঙ্গণে থাকা লোকজন ধাওয়া দিয়ে ২ হামলাকারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। তবে হামলায় অংশ নেওয়া অন্য কয়েকজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হামলার বিষয়ে লিয়াক আলী বলেন, তারা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। এসময় লিয়াকত মেম্বারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তার ভাই মুঈন উদ্দিনসহ আরও কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্থানীয় লোকজন ২ হামলাকারীকে ধরে ফেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশের দাবি, লিয়াকত মেম্বারের প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ এটিকে দলীয় কোন্দলের জের বলেও মন্তব্য করেছেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
ঘটনাটি নিয়ে আদালতপাড়াজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পাশেই অবস্থিত আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ। আদালতের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় কীভাবে অস্ত্রধারীরা প্রবেশ করলো, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ সাংবাদিকদের জানিয়েছে, হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। আটক দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার সদরের এমপি লুৎফুর রহমান কাজল বলেন, আদালত প্রাঙ্গণে এ ধরনের হামলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।ই










